কীভাবে হবে এবছরের দুর্গাপুজো, জেনে নিন ৮টি গাইডলাইন

বাঙালির সবথেকে বড় তিথি হল দুর্গোৎসব। এই দুর্গোৎসব নিয়ে সারা বছর বাঙালির কত আশা থাকে। কত হইচই, আনন্দ, কত কেনাকাটা, প্যান্ডেল ভ্রমণ সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা মানেই আবেগ! কিন্তু এই বছর টা অন্যান্য বছরের থেকে আলাদা। করোনা আবহে নববর্ষ থেকে পয়লা বৈশাখ কিছুই সেভাবে উদযাপন হয়নি।

একের পর এক  পার্বন পেরিয়ে যাচ্ছে! কিন্তু আমরা নিরুপায় আমরা গৃহবন্দী! করোনা আবহে যখন কোন পার্বণ ই ঠিকমত পালন হচ্ছে না তখনই মনের মধ্যে ঘুরতে থাকে প্রশ্নটা- দুর্গাপূজা আদৌ হবে তো?

যখন মানুষ ভাবছে দুর্গাপুজো আদৌ হবে কি হবে কিনা, তখনই গতমাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন-“পুজো করতে হবে তো নাকি ভালো করে পুজো করতে হলে এখন থেকেই ক্লাবগুলোকে সংক্রমণ রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” আর ব্যাস মাননীয়ার এই একটি কথা ই আমাদের মনে আশার আলো জাগিয়ে তুলল। কিন্তু পরক্ষণেই মনে আবার সন্দেহ দানা বাঁধলো করোনার এই আবহের মধ্যে সামাজিক বিধি নিষেধ মাথায় রেখে  কীভাবে হবে দুর্গোৎসব?

সারা বছর পরে উমা  আসবেন বাপের বাড়িতে, তার আবাহন কীভাবে করবেন করোনাতে জেরবার মানুষ! দুর্গাপূজা কীভাবে করা যায় আপাতত তারই একটি প্রস্তাব প্রশাসনকে দিল ‘ফোরাম ফর দূর্গোৎসব’। এই প্রস্তাবে দুর্গা পুজোতে কী কী বিধি রাখা  যায় তাই উল্লেখিত আছে।

দুর্গা পুজোতে মায়ের বরণ থেকে শুরু করে সিঁদুরখেলা অবধি সব বিধি গুলি কীভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করা যায়,তারই একটি গাইডলাইন এদিন ফোরাম ফর দূর্গোৎসব এর পক্ষ থেকে প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে তবে প্রশাসনিক মন্ডলীই এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আগামী আগষ্টেই হয়ত প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন।

১। করোনা ভাইরাসের কারণে যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে সেই কথা মাথায় রেখে প্যান্ডেল তৈরি করার কথা ভাবা হচ্ছে। ফোরাম এর কর্তাদের বক্তব্য প্যান্ডেল কে এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে দূর থেকে ও প্রতিমা দর্শন করা যায় তাহলে মণ্ডপের ভিতরে ভিড় হবে না।

২।প্রতিমা দর্শন করতে মন্ডপে যারা প্রবেশ করবেন তাদের সংখ্যা কখনোই ২৫ জনের বেশি করা যাবে না। যারা মন্ডপে প্রবেশ করবেন তাদের প্রত্যেকের মুখে মাক্স থাকা বাধ্যতামূলক। ব্যারিকেডের মাধ্যমে দূরত্ব বজায় রেখে যাতে দর্শনার্থীরা দাঁড়াতে পারেন সেই উদ্যোগ উদ্যোক্তাদেরকেই নিতে হবে।

৩। যে স্বেচ্ছাসেবকরা ব্যারিকেডের দিকে থাকবেন তাদের অবশ্যই  পি পি ই পরে থাকতে হবে।

৪। প্রতিটি মন্ডপের বাইরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতেই হবে।দিনে অন্তত একবার মন্ডপ কে স্যানিটাইজ করতেই হবে।

৫। মন্ডপের প্রবেশ পথের সামনে থার্মাল গান রাখতে হবে। কারো গায়ে যদি তাপমাত্রা থাকে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

৬। দুর্গা পুজোতে বেশিরভাগ মানুষ রাতে ঠাকুর দেখতে আসেন তার পিছনে একটি বড় কারণ জাঁকজমকপূর্ণ আলো।তাই এইবার

আরও পড়ুন :- মা দুর্গার প্রতিমা বানাতে বেশ্যালয়ের মাটি লাগে কেন?

ফোরামের বক্তব্য দুর্গা পুজোতে যেন আলো জাঁকজমক না করা হয়। এর ফলে শুধু রাতে ঠাকুর দেখতে আসার প্রবণতা কমবে। দর্শনার্থীরা সারাদিন ধরেই ঠাকুর দেখতে আসবেন ফলে রাতে উপচে পড়া দর্শনার্থীদের ভিড় এর প্রবণতা কমবে।

৭।দুর্গা পুজোতে মাকে ভোগ নিবেদনের সময় গোটা ফল দিতে হবে। কারণ কাটা ফলে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৮। মায়ের বিসর্জনের দিন কম সংখ্যক লোক নিয়েই বিসর্জন করতে হবে‌। বিধি মেনে করা হবে সিঁদুর খেলাও।

আরও পড়ুন :- পাঁজি দেখার দরকার নেই, মা দুর্গা কীসে আসবেন জেনে নিন সূত্র

দুর্গাপুজো প্রসঙ্গে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসুর বক্তব্য হলো-“পুজো যেমন হবে তেমন সামাজিক দায়িত্ব কমিটিগুলোকে ভুললে চলবে না কারণ আমরা সবাই সমাজকর্মী।”সামাজিক বিধি নিষেধ মেনে এইবারের পুজো নম নম করে হলেও আসলে যে পুজোটা হচ্ছে এটাই আমাদের কাছে সবথেকে বড় কথা।