ভারতে প্রচলিত মেয়েদের জন্য কিছু রীতিনীতি যেগুলি একবিংশ শতাব্দীর মূল্যবোধে দৃষ্টিকটু

স্বামীর লম্বা আয়ুর জন্য স্ত্রীর উপবাস থেকে বিয়ের চিহ্ন – সবই মেয়েদের জন্য। হাজার দেব-দেবীর কাছে মানত, বিপত্তাতারণ। কিন্তু গোড়া থেকে ল্যাজা সবই মেয়েদের জন্য। স্বামী বা পুত্রের মঙ্গল কামনায় তাঁদের যাবতীয় ব্রত, উপবাস। সমাজে এমন কিছু রীতি আজও মেয়েদের জন্য প্রচলন আছে যেগুলি একবিংশ শতাব্দীর মূল্যবোধে দৃষ্টিকটু। এখানে তেমনই কয়েকটি রীতি বা ব্রত বা আচারের তালিকা তৈরি করলাম আমরা।

উপবাস

অন্যের মঙ্গল কামনায় দিনভর না খেয়ে থাকা। ভালোরও কম বেশী আছে। উপবাসের ধরন থেকে সেটি বুঝতে হবে। যেমন নির্জলা। অর্থাৎ, কিছু খাওয়া তো দূরের কথা জল পর্যন্ত ছোঁয়া যাবে না। মেয়েরা ঘর-গেরস্থালি সামলাবে, নিত্যদিনের কাজ করবে তো বটেই একইসঙ্গে নির্জলা উপবাসও করবে! কোনও কোনও উপোষ বড় জোর শেষ বেলায় দুটো মিষ্টি জুটবে। নাহলে ফুটকড়াই। আমাদের বাড়ির মা, দিদিরা এটাই করেন। পরিবারের সকলের মঙ্গল কামনায় সারা দিন উপবাস, নির্জলাও।

আরো পড়ুন : হিন্দু ধর্মে মেয়েদের নানান অলঙ্কার পরার পেছনে আশ্চর্যজনক বৈজ্ঞানিক কারণ

বিবাহ-চিহ্ন

গোটা পৃথিবী জানে কে বিবাহিত মহিলা। কারণ তাঁর কপালে সিঁদুর আছে, হাতে শাঁখা। কিংবা মঙ্গলসূত্র। অর্থাৎ এই মহিলার মালিকানা আছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এসব কোনও বালাই নেই। বিয়ের আগেও যেমন কাছা-কোঁচা ছাড়াই ঘুরত, বিয়ের পরেও তাই।

আরো পড়ুন : হিন্দু বিয়েতে বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্রের মা থাকতে পারেন না কেন ?

মা-বাবার বাড়ি ত্যাগ

এটাও মেয়েদের দিকেই ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিয়ের পর একটা মেয়েকে টেনে হিঁচড়ে তার জন্মস্থান থেকে আজীবনের জন্য উপরে  আনা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় ছেলে মেয়ের বাপের বাড়ি থেকে যান। সেটা ঘরজামাই। বাকি ক্ষেত্রে জন্মভূমি হারানোর বেদনা মেয়েদের কপালেই লেখা থাকে। এর চেয়ে বরং নতুন বাড়ি হোক। বিয়ের পর নবদম্পতি সেখানেই থাকবেন।

বিধবা

বেশ কিছু উৎসব বা আচার আছে যেগুলিতে শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলারাই অংশ নিতে পারবেন। বিধবা অর্থাৎ স্বামী মারা গেলে মহিলার থেকে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। স্বামী মারা যাওয়ায় তাঁর দোষ কোথায়? তার ওপর সাদা শাড়ি, অলঙ্কার ত্যাগ, নিরামিষ আহারের মতো নির্মম প্রথা তো আছেই।

আরো পড়ুন : হিন্দু বিয়ের কিছু প্রথা যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিৎ

বহুবিবাহ

পুরুষদের বহুবিবাহ প্রথা চলে আসছেসেই প্রাচীন কাল থেকে। ইচ্ছা করলে এক সঙ্গে একাধিক বিয়েও করতে পারে। অন্যদিকে বিয়ের ব্যাপারে মেয়েটার কোনও মত নেই। তার পছন্দ অপছন্দ গুলি মেরে ৫ থেকে ৬ বার একই মেয়েকে বিয়ে করা যায়।

কন্যাদান

বিয়ের প্রথা। মেয়ের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত বাবা খেতে পারে না। তাঁকে পাত্র এবং পাত্রের পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয় সবার আগে। মেয়ের বিয়ে সম্পূর্ণ হলে তবে মুখে কিছু দিতে পারেন পাত্রীর বাবা।
বাবাকে অভুক্ত দেখে কোনও মেয়ে ঠিক থাকতে পারে! তাও বিয়ের মতো একটা গুরুতবপূর্ণ বিষয়ে!

আরো পড়ুন : হিন্দু ধর্মে দেহ পুড়িয়ে অন্তিম সংস্কার করা হয় কেন ?

দাহ

মুখাগ্নি তো দূরের কথা প্রিয় মানুষের শেষ কাজে শ্মশানেও যাওয়া মানা মেয়েদের। যদি কোনও দম্পতির একমাত্র মেয়ে থাকে তবে শেষকৃত্য সারতে হবে কাছের কোনও আত্মীয়কে। একটা ছেলে যা করতে পারে একটা মেয়ে সেটা করতে পারবে না কেন? মেয়ে কি তাঁর বাবা-মাকে কোনও ছেলের থেকে কম ভালোবাসে?

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের সাথে যুক্ত হন : Facebook Instagram Twitter