লকডাউনে ঘরে বসেই মাধ্যাকর্ষণ সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন নিউটন

করোনাকালে ঘরবন্দি থাকতে থাকতে তিতিবিরক্ত হয়ে পড়েছেন মানুষ। বিগত প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের এই লড়াই শুধু করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে নয়, একাকীত্ব, বেকারত্ব, মানসিক উদ্বেগের বিরুদ্ধেও সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে মানুষকে। গত বছর দীর্ঘ ৩ মাস কড়া লকডাউন পালনের পরেও বারবার ফিরে ফিরে এসেছে করোনা। পড়াশোনা এবং অফিসের কাজ-কর্মের জন্য এখন ওয়ার্ক ফ্রম হোমই একমাত্র ভরসা।

বাইরে বেরোনো, বন্ধু-বান্ধব কিংবা অফিস কলিগদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, কাজের ফাঁকে গল্প-গুজব, ৯টা থেকে ৫ টার চাকরি বাড়িতে বসে থাকতে থাকতে মিস করছেন অনেকেই। লকডাউন কাটিয়ে আবার কাজে ফেরা যাক, এমনটাই ইচ্ছে অনেকের। বাড়িতে কাজে মন বসে না অনেকেরই। তবে জানেন কি বিশ্বের ইতিহাসে এমন লকডাউন এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ঘটনা কিন্তু নতুন নয়, বিশ্বের ইতিহাসে মহামারীও নতুন নয়!

আপনি কি জানেন ১৬৬৫ সালে যদি লকডাউন এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু না হতো, তাহলে বিশ্বের একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার অধরাই থেকে যেত? আসলে ওই বছর “দ্য গ্রেট প্লেগ অফ লন্ডন” এর দাপটে ব্রিটেনে চালু হয়েছিল লকডাউন। মহামারীর হাত থেকে বাঁচার জন্য অফিস-কাছারি, স্কুল-কলেজ সব বন্ধ রাখা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, ওই বছর প্লেগের কারণে শুধু ব্রিটেনেই প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল!

sir-isaac-newton

তবে অনেক কিছু খারাপের মাঝেও কিছু ভালো লুকিয়ে থাকে। আজকের করোনার মতো সেদিন প্লেগ যখন সকল মানুষকে ঘরবন্দি করে দিয়েছিল, স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা যখন বন্ধ, তখন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজের ছাত্র স্যার আইজ্যাক নিউটন বাড়িতে বসেই আবিষ্কার করে ফেললেন তাঁর মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব! সারা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিল যে তত্ত্ব। নেপথ্যে তার সেই বিখ্যাত আপেলের বাগান।

স্যার আইজ্যাক নিউটন তখন সদ্য স্নাতক পাশ করে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করার কথা ভাবছিলেন। তবে আচমকা মহামারীর সংক্রমনের জেরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। আইজ্যাক নিউটনের উচ্চশিক্ষার সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। কিন্তু বাড়িতে থেকেও নিউটন নিজেকে সম্পূর্ণভাবে পড়াশোনার কাজে ডুবিয়ে ফেলেছিলেন।

How Isaac Newton Changed Our World

শুধু মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব নয়, নিউটন সেই সময় বাড়িতে বসেই অঙ্কের ক্যালকুলাস, আলোবিজ্ঞান বা অপটিকস্ সহ একের পর এক তত্ত্ব আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন! মহামারীর সংক্রমণ এবং লকডাউন অন্যান্যদের জন্য অভিশাপ’ হলেও নিউটনের জন্য ছিল বরদানস্বরূপ। এই আবিষ্কারের কারণেই কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রটি সেদিন সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হতে পেরেছিলেন। পেয়েছিলেন ফেলোশিপ। তার আবিস্কৃত ফিজিক্সের তত্ত্ব অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অমূল্য সম্পদ।