শনির দৃষ্টি কাটাতে সরষের তেল দেওয়া হয় কেন জেনে নিন

শনি ভাগ্যের দেবতা। তাঁকে তুষ্ট করতেই যত আয়োজন। শনিদেবকে মানা হয় শনি গ্রহের অধিপতি হিসাবে। তিনি সূর্যের পুত্র। শকুনি, মহিষ কিংবা গরু তাঁর বাহন। প্রতি শনিবার ভক্তরা ভিড় জমান শনিমন্দিরে। পূজো দেন। তবে শনি পূজার মূল উপকরণ হল সরষের তেল। কেন? এর কারণ খুঁজতে আমাদের চোখ বোলাতে হবে মহাকাব্য রামায়নে।

সূর্য এবং বিশ্বামিত্র কন্যা সংজ্ঞার পুত্র শনি। সূর্যের তেজ সহ্য করতে না পেরে সংজ্ঞা নিজের ছায়াতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে স্বামী এবং তিন সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব দেন। সেই ছায়া এবং সূর্যের মিলনে জন্ম হয় আরও তিন সন্তানের – শনি, মনু এবং তাপ্তি।

সীতাকে উদ্ধার করতে লঙ্কায় পৌঁছনোর জন্য সমুদ্রে সেতু বাঁধা হয়। হনুমানকে দেওয়া হয় সেতু দেখভালের দায়িত্ব।
একদিন সকালে হনুমান গাছের ছায়ায় বসে শ্রীরামের প্রার্থণা করছেন। এমন সময় সেখানে শনি উপস্থিত হয়ে হনুমানকে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে আহ্বান করেন। বলেন, ‘আপনার ক্ষমতার কথা শুনেছি। তাই আমাদের মধ্যে কে বেশী শক্তিশালী সেটা যুদ্ধ করে ঠিক হোক।

মুখোমুখি লড়াইয়ে নামতে রাজি হলেন না হনুমান। তিনি শান্ত ভাবে বললেন, ‘আমি এখন প্রার্থণা করছি। যুদ্ধ করার ইচ্ছে নেই। আপনি আসুন।’ হনুমানের কথার কোনও গুরুত্ব দিলেন না শনি। উল্টে নানা ভাবে উত্যক্ত করতে থাকলেন। শেষে রেগে গিয়ে হনুমান লেজ দিয়ে শনিদেবকে বাঁধার চেষ্টা করেন। কয়েকবার ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত শনিকে বেঁধে ফেলেন হনুমান। মত্তপ্রায় হনুমান সেতুর ওপর ফেলে মারতে থাকেন তাঁকে। রক্তাক্ত হয়ে যান শনিদেব। নিজের ভুল বুঝতে পেরে হনুমানের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন শনি।

শনিদেবকে একটি শর্তে ক্ষমা করার কথা বলেন হনুমান। কোনও রাম বা হনুমান ভক্তের প্রার্থণার সময় তাঁকে বিরক্ত না করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি চান বজরংবলী। রাজি হন শনিদেব।মুক্ত হওয়ার পর ব্যাথার উপশম করতে হনুমানের কাছে সরষের তেল চান শনিদেব। হনুমান তেল দিলে জখম স্থানে মালিশ করে বেদনার উপশম করেন শনি। এরপর থেকেই শনিদেবের পূজায় সরষের তেল ব্যবহারের রীতি চলে আসছে।

আরো পড়ুন : ভারতের সবচেয়ে পবিত্র ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাস

বিশ্বাস, সরষের তেল দিলে সমস্ত ব্যথা এবং উদ্বেগ থেকে মুক্তি দেন ভক্তকে মুক্তি দেন শনি। তাই শনিদেবের কুদৃষ্টি থেকে মুক্তি পেতে সরষের তেল নিবেদন করা হয়। দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের ঈশ্বর বলে মানা হয় শনিদেবকে। তাই শনিকে সন্তুষ্ট করতে শনিবার দরিদ্র এবং অভাবী মানুষদের তেল এবং বস্ত্র দান করা হয়।

আরো পড়ুন : ভারতের রহস্যময় ও অলৌকিক ৯ মন্দির

তামাক, মদ্য বা ধূমপান পছন্দ করেন না শনি। তাই এই দেবতাকে তুষ্ট করতে শনিবার তামাকজাত দ্রব্য এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। সততা ও সত্যের পথেই শনিদেবের আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব। শনি সন্তুষ্ট হলে ভক্তের স্বাস্থ্য এবং সম্পদ বৃদ্ধি পায়। শনিকে খুশি করতে হনুমানের পূজা করারও চল আছে।