কোভিশিল্ড না কোভ্যাক্সিন আপনার কোন ভ্যাকসিনটি নেওয়া উচিত্‍

2703

১লা মে থেকে দেশজুড়ে গণহারে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এই পর্যায়ে ১৮-৪৫ বছর বয়সীরা টিকা নিতে পারবেন। সেইমতো রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে ভারতের হাতে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার “কোভিশিল্ড” এবং ভারত বায়োটেকের “কোভ্যাক্সিন”রয়েছে করোনার প্রতিষেধক হিসেবে।

এই দুইয়ের কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে জনমানসে বহু বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই দুই প্রতিষেধক তৈরি প্রক্রিয়া, টিকাকরণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, দামের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ কিছু পার্থক্য।

“কোভিশিল্ড’ টিকা তৈরীর পদ্ধতি

পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভারতীয় সংস্করণ কোভিশিল্ড তৈরি হচ্ছে। শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেওয়া এক ধরনের ভাইরাসের প্রোটিন স্পাইক থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে এই ভ্যাকসিন। মানুষের শরীর থেকে না নিয়ে যেহেতু অন্য প্রাণীর শরীর থেকে এই ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হয়েছে তাই এর অপর নাম “ডামি ভ্যাক্সিন”। এই ভাইরাসের গঠন অনেকাংশে করোনা ভাইরাসের সমান। যার ফলে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে তা করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা গড়ে তোলে।

“কোভ্যাক্সিন’ টিকা তৈরীর পদ্ধতি

টিকা প্রস্তুত করার সনাতন নিয়ম অনুসারে এই ভ্যাকসিন মৃত ভাইরাসের স্ট্রেন থেকে প্রস্তুত করা হয়। করোনাভাইরাসের আসল স্ট্রেইন মানব শরীরে যে রকম প্রভাব ফেলে, এই ভ্যাকসিন তা প্রতিহত করতে পারবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

“কোভিশিল্ড’ বনাম “কোভ্যাক্সিন’

ব্রাজিল, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা জুড়ে কোভিশিল্ডের ট্রায়াল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কো-মর্বিডিটি রয়েছে এমন বহু মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করে তার ফলাফল দেখা হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসে ট্রায়াল’ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অপরপক্ষে কোভ্যাক্সিন সম্পূর্ণভাবে ভারতীয়দের উপর পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে যাদের শরীরে কো-মর্বিডিটি ছিল না তাদের উপরেই পরীক্ষা করা হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রায়াল প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।

Covishield vs Covaxin

টিকাকরণ পদ্ধতি

কোভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজটি নিতে হয়। অপরপক্ষে কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ নেওয়ার ৬-৮ সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া হয়।

ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা

প্রতিষেধকের এফিকেসি বলতে বোঝায় টিকাকরণের পরেও কতজন মানুষ ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। কোভ্যাক্সিনের এফিকেসি ৭৫ শতাংশের বেশি তবে করোনার প্রভাব রুখতে এর এফিকেসি কিন্তু প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ৭৮ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ পর ১০০ শতাংশ। অপরপক্ষে কোভিশিল্ডের এফিকেসি ৭০ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরে কিন্তু ৯০ শতাংশ এফিকেসি হবে এই ভ্যাকসিনের।

আরও পড়ুন : করোনা আটকাতে একজন মানুষের কটা ভ্যাকসিন লাগবে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

“কোভ্যাক্সিন’ ও “কোভিশিল্ড’-এর পার্শপ্রতিক্রিয়া

অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল’ সারা বিশ্বজুড়ে চালানো হয়। তবে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের শরীরে রক্তে জমাট বেঁধে যাওয়া এবং স্নায়ুর জটিলতা সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে কোভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই ধরনের কোনও মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খবর পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, যাদের অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিন কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আনবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন : করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরে কী কী হয়, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী

ভ্যাকসিন কেনার জন্য খরচ

রাজ্য কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাকসিন কিনতে যথাক্রমে ৩০০ এবং ৪০০ টাকা খরচ করছে। অপরপক্ষে বেসরকারি হাসপাতালগুলির খরচ পড়বে উভয় ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৬০০ এবং ১২০০ টাকা।

আরও পড়ুন : সর্দি জ্বর ও করোনা জ্বরের পার্থক্য, কীভাবে বুঝবেন আপনি করোনা আক্রান্ত

কোন ভ্যাকসিনটি আপনার জন্য উপযোগী?

এই প্রশ্নের কোনও সঠিক জবাব নেই। আপনার হাতে যদি বাছাই করার সুযোগ থাকে সেক্ষেত্রে আপনি উপরিউক্ত তথ্যগুলি ভালো করে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যে ভ্যাকসিনই নিন না কেন, তার দুটি ডোজ সম্পূর্ণ নিতেই হবে। নতুবা কোনও ভ্যাকসিনই সঠিকভাবে কাজ করবে না। যদি আপনার হাতে বাছাই করার মতো ক্ষমতা থাকে, তা হলে উপরের তথ্যগুলি দেখে আপনি নিজে সিদ্ধান্ত নিন কোন ভ্যাকসিনটি আপনার পক্ষে ভালো আর আপনার কোনটা নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন : করোনার চিকিৎসায় এখন বাড়িতে হাতের কাছে রাখুন এই ৫টি ওষুধ