উচ্চ মাধ্যমিকে কম নাম্বার নিয়েও বেছে নিন আকর্ষনীয় পেশা

উচ্চমাধ্যমিকই ঠিক করে দেয় কোনও পড়ুয়ার জীবন কোনদিকে যাবে। নিজের পছন্দের পেশায় যাওয়ার জন্য হায়ার সেকেন্ডারিতে ভালো নাম্বার পাওয়া জরুরি। কিন্তু প্রশ্ন হল, কতটা জরুরি? উচ্চ মাধ্যমিকে পঞ্চাশ শতাংশ নাম্বার না এলে নামজাদা কোনও পেশা বেছে নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে? মোটেই না। এটাই তো নিজের জেদ দেখানোর আসল সুযোগ। ট্যালেন্টই এবার আসল ট্রাম্প কার্ড। সফল মানুষেরা কি উচ্চ মাধ্যমিকে বিশাল নাম্বার পেয়েছেন? খোঁজ নিয়ে দেখুন, উল্টোটাই সত্যি। তাঁদের বেশীরভাগই মোটামুটি নাম্বার পেয়ে পাস করেছেন। শুধু সাহস আর হাল না ছাড়া মনোভাব তফাৎ গড়ে দিয়েছে। ঝুড়ি ঝুড়ি নাম্বার পাওয়া পড়ুয়াদের থেকে তাঁরা এগিয়ে গিয়েছেন লেগে থাকার সাহসের জোরে।

কোনও ডিগ্রি সফল মানুষ তৈরি করতে পারে না। এক টুকরো কাগজের হিম্মত আর কতটুকু! নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের মেলবন্ধনেই তৈরি হয় সফলতার কোলাজ। কোন বিষয়ে আপনার দক্ষতা, সেটা খুঁজে বের করুন। কোন কাজটা আবেগ দিয়ে করেন সেটা লক্ষ্য করুন। তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ুন। যে কাজ করতে ক্লান্তি আসে না, সেটাকেই পেশা হিসাবে বাছুন। নিজেকে তার যোগ্য করে তুলুন। ‘থ্রি ইডিয়েটস’-এর র‍্যাঞ্চোর কথাটাই তিন সত্যি, ‘কাবিল বানিয়ে, কামইয়াবি আপনে আপ আ যায়েগি।’
আমরা এখানে কয়েকটা পথের হদিস দিলাম। মিলিয়ে দেখুন আপনার গন্তব্য কোনটা।

Stand up comedy১) স্ট্যান্ড আপ কমেডি

না কেন? মজা করতে ভালবাসলে এই পেশার কোনও তুলনা নেই। আপনার জোকসে সেই এক্স ফ্যাক্টর থাকলে, বাচনে হাস্যরসের যোগান থাকলে নিজেকে স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হিসাবে তৈরি করা যেতেই পারে। আর আমজনতাকে হাসিয়ে উপার্জন তো মহৎ কাজ বটেই।

Photography
Source

২) ফটোগ্রাফি

যে কোনও পিকনিক বা অফিস ট্যুরের গ্রুফ ফটো তুলতে আপনারই ডাক পড়ে, দলগত সেলফি নেওয়ার সময়েও কি বন্ধু বা বান্ধবী সেলফোন আপনার দিকে বাড়িয়ে দেয়? হয়ত সর্বত্র সবকিছুর মধ্যেই আপনি সৌন্দর্য খুঁজে পান। এবার নিজের জন্য একটা ফ্রেম ক্লিক করতে হবে আপনাকে। নেশাটাকেই পেশা করে তোলার এটাই সুযোগ। পেশাদার ফটোগ্রাফির কোর্স করে নিয়ে হয়ে যেতে পারেন ওয়েডিং ফটোগ্রাফার থেকে ওয়াইল্ড লাইফ কিংবা ফ্যাশান ফটোগ্রাফার।

Source

৩) মাস কমিউনিকেশন

টিভিতে সাংবাদিক বা অ্যাঙ্কারিংয়ের পাশাপাশি সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার বা প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে ক্যামেরার পেছনেও কাজ করতে পারেন। টেলিভিশন অয়াঙ্কারিংয়ের ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা করে কাজ করতে পারেন। প্রযুক্তির সঙ্গে সখ্যতা থাকলে সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসাবেও কাজ কাজ করা যায়। যদি লিখতে ভালোবাসেন, নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে ফোকাসড থেকেও শব্দের সঙ্গে ‘পান’ করার ক্ষমতা থাকে তবে আপনি কনটেন্ট রাইটার হিসাবে যোগ্য ব্যক্তি। প্রুফ রিডিং বা এডিটিংয়ে দক্ষতা থাকলে সংবাদপত্র বা প্রকাশনা সংস্থাতেও কাজ করতে পারেন।

Source

৪) পাবলিক রিলেশনস

ব্যবসায়িক সম্পর্ক দেখভাল করতে ভালবাসলে পাবলিক রিলেশন আপনার উপযুক্ত পেশা। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা থেকে বর্হিঃবিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাই পাবলিক রিলেশন অফিসারের মূল কাজ। ইদানীং ব্যাঙ্কগুলিও নিজস্ব এইচআর ডিপার্টমেন্ট চালু করেছে। এজন্য পাবলিক রিলেশন অফিসারের কোর্স করে নেওয়া যেতে পারে।

Travel Blogger
Source

৫) ট্রাভেল ব্লগার

পায়ের তলায় সরষে? তাহলে প্রাণ খুলে বেড়ান। কোনও ট্রাভেল শো করার পরিকল্পনা নিতে পারেন। যোগ দিতে পারেন কোনও ট্রাভেল চ্যানেলে। ওয়েবসাইট বা ম্যাগাজিনে লিখতে পারেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা। ট্রাভেল ব্লগার হতে চাইলে উচ্চ মাধ্যমিকে বেশী নাম্বার পাওয়ার দরকার নেই, শুধু যা দেখছেন তার বর্ণনা দিতে পারলেই হল।

Source

৬) ফ্যাশন ডিজাইনিং

মানুষকে নিত্যনতুন পোশাকে সাজাতে ভালবাসলে পেশা হিসাবে ফ্যাশন ডিজাইনিং আপনার উপযুক্ত। চাই শুধু কল্পনা। কল্পনা করতে পারলে সেটা পাতায় এঁকে ফেলতে পারবেন। আর এঁকে ফেলতে পারলে আপনি নকশা করতেও পারবেন। নিজেরই ডিজাইন স্টুডিও খুলতে পারন।

Source

৭) ইন্টিরিয়ার ডিজাইনিং

ঘরেই যদি মন পড়ে থাকে তাহলে আপনাকে কে আটকায়! নান্দনিক নকশা, গঠন বিন্যাস শেখার জন্য শুধু ইন্টিরিয়ার ডিজাইনিংয়ের কোর্স করে নিন।

Source

৮) ট্যুরিজম

পর্যটনের দ্রুত বিকাশ ঘটছে। তারওপর নিজের বেড়ানোর নেশা থাকলে তো কথাই নেই। ট্রাভেল কনসাট্যান্ট হিসাবে কাজ করার পাশাপাশি গাইড হিসাবেও কাজের জায়গা আছে। শুরুতে ট্যুরিজমের ওপর ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স করে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন : এবছর থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পরীক্ষায় নতুন নিয়ম

Source

৯) হসপিটালিটি বা ক্যাটারিং

অতিথি ভগবান। আর সেই অতিথির সেবা মানে পূণ্যের কাজ। তারওপর খাওয়া দাওয়ার দায়িত্ব সামলানোর মতো মহৎ কাজ যোগ হলে তো সোনায় সোহাগা। বিনয়ী ব্যবহার আর  চাপের মুখে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সুস্বাদু খাবার বানানোর দিকে আপনার ঝোঁক থাকলেই কেল্লা ফতে। আতিথেয়তাই আপনার ক্ষেত্র।

আরও পড়ুন : উচ্চ মাধ্যমিকের পর এই কোর্সগুলি করলেই মাসে আয় ৫০-৬০ হাজার টাকা!

১০) ওয়েব ডিজাইন বা অ্যানিমেশন

কার্টুনের দুনিয়া কে না ভালোবাসা। তারওপর যদি বাহুবলী সিনেমার মতো রুদ্ধশ্বাস সিনের ফ্রেমেই সমস্ত আনন্দ খুঁজে পান তবে ওয়েব ডিজাইন আপনার জন্য উপযুক্ত। ওয়েবসাইটের নকশাও বানাতে পারেন। গেম ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজ করার বিশাল সুযোগ আছে।
নতুন জিনিসের বাজার সবসময় আছে। শুরুর দিকে বিষয়টি শেখার দিকে মন দিন। উপার্জন হতে থাকবে। শুধু একটাই শর্ত, চোখ-কান খোলা রাখুন।

আমাদের প্রতিটি পোস্ট WhatsApp-এ পেতে ⇒ এখানে ক্লিক করুন