জ্যোতিষ কি মৃত্যুর দিণক্ষণ জানাতে পারে? জেনে নিন বিস্তারিত

‘জন্মিলে মরিতে হবে/ অমর কে কোথা রবে!’ মানুষ মরণশীল জীব। তাই মৃত্যু অনিবার্য। তবু তাকে ঘিরে আমাদের বিস্ময়ের শেষ নেই।  কবে হবে মৃত্যু? এটা তাই লাখ টাকার প্রশ্ন। মৃত্যুর দিনক্ষণ জানা কি সম্ভব? অনেকে মনে করেন, ক্ষমতাসম্পন্ন জ্যোতিষীরা পারেন।

সনাতন জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, মৃত্যুর দিন ও ক্ষণ নির্ণয় করা সম্ভব। গ্রহের অবস্থান, দশা, অন্তর্দশা ইত্যাদির অতি সূক্ষ্ম বিচার থেকে এই বিশেষ ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব। তাহলে জ্যোতিষীরা সেই কাজটা করেন না কেন?

এর উত্তরে বলতে হয়, ঠিক কোন মুহূর্তে মৃত্যু আসন্ন, সেটা নির্ণয় করা যায় না। কারণ, বেশ কিছু গ্রহ একত্রে এই মহাদশাকে নির্মাণ করে, তাই। তবে মৃত্যুযোগ বোঝা যায়। খুবই দক্ষ জ্যোতিষীরা এই জটিল গণনা কষতে সক্ষম। এক্ষেত্রে বেশ কিছু চিহ্ন এবং গ্রহের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেন জ্যোতিষীরা। আগে চিহ্নের কথা বলা যাক।

যেমন এক, মরণাপন্ন কোনও ব্যক্তির বিছানার কাছে কালো বিড়াল ঘোরাঘুরি করলে মনে করা হয় ওই ব্যক্তির মৃত্যুর সন্নিকটে। দুই, দিনের বেলা মাথার উপর পেঁচা ঘুরতে দেখলে বুঝতে হবে কোন আত্মীয়ের মৃত্যু সংবাদ আসছে। তিন, মৃত্যুর সঙ্গে কালো বিড়ালের সংযুক্তি পশ্চিম গোলার্ধের এক কমন বিষয়। মরণাপন্ন ব্যক্তির শয্যার পাশে কালো বিড়াল দেখা দেলে মৃত্য সন্নিকট। চার, মৃত্যুর পূর্বাভাষ যে প্রাণীরা সর্বাগ্রে পায়, তাদের মধ্যে অন্যতম হল কাক। একটি বা একসঙ্গে ৬টি কাক দর্শন মৃত্যুসংবাদ ডেকে আনে বলে প্রবাদ রয়েছে। পাঁচ, কেউ যদি স্বপ্নে বার বার সাদা ঘোড়া দেখেন অথবা এক আকাশে একাধিক চাঁদ দেখেন, তবে তাঁর নিকটের কেউ প্রয়াত হতে পারেন বলে বিশ্বাস। ছয়, অসুস্থ ব্যক্তি যদি প্রয়াত প্রিয়জনের নাম ধরে ডাকতে শুরু করেন, তবে ধরে নিতে হবে তাঁর মৃত্যু আসন্ন।

এবার আসা যাক গ্রহের অবস্থানে। শনি – কোনও কিছুর সূত্রপাত অথবা অন্তকে নির্দেশ করে। মঙ্গল – অপঘাতে মৃত্যুর সঙ্গে মঙ্গলের যোগ রয়েছে। হত্যা, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি কারণে মৃত্যুর যোগ মঙ্গলের অবস্থানের ফলে ঘটলেও ঘটতে পারে। শুক্র – ঘুমের মধ্যে মৃত্যুর সঙ্গে শুক্রের দশা সম্পর্কযুক্ত বলে মনে কার হয়। বৃহস্পতি – জ্যোতিষ বলে ক্যানসার বা ওই জাতীয় অসুখের ফলে মৃত্যুর কথা জানাতে পারে বৃহস্পতির অবস্থান। এক্ষেত্রে মৃত্যু ধীরে আসে। রবি – সূর্যের অবস্থানের সঙ্গে অন্য গ্রহগুলির অবস্থানকে মিলিয়েই মৃত্যুযোগকে নির্ধারণ করে জ্যোতিষ শাস্ত্র। সেক্ষেত্রে এই বিচারে রবির ভূমিকা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ইউরেনাস –  কুণ্ডলীতে এর সহসা উদয় হলে আকস্মিক মৃত্যুর যোগ দেখা দিতে পারে বলে জানায় জ্যোতিষ শাস্ত্র। নেপচুন –  জলে ডুবে মৃত্যুর কথা এই গ্রহের অবস্থান থেকে বোঝা যায় বলেই ধারণা শাস্ত্রের। প্লুটো – অতি ভয়ঙ্কর মৃত্যুর সঙ্গে এই গ্রহের অবস্থানের যোগ রয়েছে।