১৩ বলিউড তারকা যারা মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করেছেন

রীল লাইফে পর্দায় আমরা যাদেরকে দেখি তাদের ব্যাক্তিগত জীবন বা মনের হদিশ আমরা পাইনা। আসলে পর্দার ওপরে ফুটে ওঠা জীবন এবং ব্যাক্তিগত জীবনে পার্থক্য থাকে অনেক। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড, প্রেসের নজর, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিলীয়ন্স ফলোয়ার এবং পেজ থ্রি নিউজের বাইরে আসল মানুষটাকে আমাদের চেনা হয়ে ওঠেনা। এইসবের বাইরে ব্যাক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনে জীবন যুদ্ধে হেরে যায় বহু তারকা।

বলিউডে একাধিকবার নক্ষত্রদের কেড়ে নিয়েছে মানসিক অবসাদ। আজ আবারও বলিউড হারালো একটি তরুণ প্রাণ, একজন তরুণ অভিনেতা। তবে বলিউডে এই তালিকা আরও বিস্তৃত।আজ আরও একবার মনে করে নেওয়া যাক সেই সব বলিউড তারকাদের যাদের প্রাণ কেরে নিয়েছে মানসিক অবসাদ।

১. সুশান্ত সিংহ রাজপুত :- ১৪ জুন ২০২০ মুম্বইয়ের বান্দ্রার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তার ঝুলন্ত দেহ। মানসিক অবসাদের জেরে চরম এই পদক্ষেপটি নেন তিনি। ২০০৯ সালে ছোট পর্দায় ‘পবিত্র রিস্তা’ ধারাবাহিক থেকেই খ্যাতির শুরু। বলিউডে প্রথম পা রাখেন ২০১৩ সালে ‘কাই পো চে’-র মাধ্যমে।

১৩ বলিউড তারকা যারা মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করেছেন

তারপর শুধু এগিয়ে চলার পালা। একের পর এক সুপার হিট ছবি মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বায়োপিক ‘ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’,  ‘রাবতা’, ‘কেদারনাথ’, ‘পিকে’, ‘শুদ্ধ দেশি রোমান্স’, ‘ছিঁচোড়ে’ তে অভিনয় করেন তিনি। হয়ে ওঠেন বলিউডের হার্ট থ্রব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব ছেড়ে অন্য জগতে পাড়ি। তার মৃত্যুতে সমগ্র বলিউডে এবং সিনেমা প্রেমী ভারতীয় দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

২. শ্রীদেবী :- তার নামটিই তার পরিচয়। বলিউডের কলজয়ী অভিনেত্রী শ্রীদেবী ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান দুবাইয়ের এক সাততারা হোটেলে। হোটেলের বাথটব থেকেই জ্ঞানশূন্য অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে, পড়ে ডাক্তাররা নিশ্চিত করে, মৃত তিনি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুসারে মৃত্যুর কারণ জলে ডোবা।

১৩ বলিউড তারকা যারা মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করেছেন

কিন্তু তার মৃত্যু নিয়ে আজও অনেক রহস্য অনেক প্রশ্ন আছে মানুষের মনে। বাথটাবের জলে ডুবে মৃত্যু কি আদৌ সম্ভব? সেটা কি ছিল আত্মহত্যা নাকি খুন? উত্তর আজও অস্পষ্ট। কপূর পরিবার পরবর্তীকালে জোর গলায় সেই প্রশ্নগুলোকে কুৎসার নাম দিয়ে দেয়।

৩. দিব্যা ভারতী :- মাত্র ১৯ বছরের এক সদ্য যুবতী ছিলেন তিনি যখন তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর তারিখ, ৭ এপ্রিল ১৯৯৩। বলিউডে খুব বেশিদিন কাজ করার সুযোগ না পেলেও অল্প কাজের মধ্যে দিয়েই নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

১৩ বলিউড তারকা যারা মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করেছেন এখনও পর্যন্ত তার রেকর্ড এক বছরে এক ডজন ছবি। অবশেষে নিজের ভারসোভার ফ্ল্যাট থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান তিনি। বলিউডে খুব বেশিদিন কাজ করার সুযোগ হয়নি তাঁর।

৪. পারভিন ববি :- ১৯৮০-র দশকে বলিউডে এক নামে যাকে চিনতেন সবাই। দেশ জুড়ে অগুনতি ভক্ত ছিল তার। কিন্তু বয়সের সাথে বলিউড থেকে হারিয়ে যান তিনি। জানা যায় শেষ জীবন খুব কষ্টের মধ্যে কাটিয়েছেন তিনি। সুরার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে যান, তার সাথেই আসে সম্পর্কের ভাঙন।

১৩ বলিউড তারকা যারা মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করেছেন

ব্যাক্তিগত জীবনে খুশি হতে পারেননি তিনি। সময়ের পরিহাস এমনই তার মৃত্যুদিন যে কবে তা কেউ জানেনা।ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে একের পর এক দিনের দুধের প্যাকেট জমে যেতে দেখে পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা। দরজা ভেঙে মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

৫. সিল্ক স্মিতা :- দক্ষিণের অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। প্রথম জীবন শুরু হয় আইটেম গার্ল হিসেবে, তারপর নিজের পরিশ্রম দিয়েই হয়ে ওঠেন অভিনেত্রী। কিন্তু শেষটা? মুম্বাইয়ে নিজের আবাসনে আত্মহত্যা।

তার পেছনে আসল কারণটি এখনও পর্যন্ত অজানা এবং তা হয়তো অজানাই থেকে যাবে পরবর্তীতেও। জানা যায় বিদ্যা বালন অভিনীত ছবি দা ডার্টি পিকচার তার জীবন কাহিনী নিয়েই তৈরি।

৬. গুরু দত্ত :- মাত্র ৩৯ বছর মদের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নাকি মৃত্যু বরণ করেছিলেন তিনি। তিনি একাধারে তিনি অভিনেতা এবং সাথেই পরিচালক। কাগজ কে ফুল ছবির মধ্যে দিয়েই ভারতীয় সিনেমা প্রেমী দর্শকদের মন জিতে নেন তিনি।

ঘনিষ্ঠ মানুষদের দাবি আগের দিনও বেশ খোশমেজাজে দেখা গিয়েছিল তাকে। প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও ভক্তদের মনে আজও তার মৃত্যু নিয়ে দানা বেঁধে আছে রহস্য।

৭. জিয়া খান :- উঠতি তারকা জিয়া খান, কাজ করেছিলেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট এর সাথেও। কিন্তু শেষটা হয় জুহুর ফ্ল্যাটে, অন্তঃসত্বা অবস্থায়। সুইসাইড নোট লিখেই আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি।

অভিযোগের আঙুল ওঠে তার বয়ফ্রেন্ড সূরজ পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে। জিয়ার মায়ের কথায় পরিস্থিতির চাপে পড়েই এই চরম সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

৮. অর্চনা পাণ্ডে : বয়ফ্রেন্ড ওমর পাঠানের বিরুদ্ধে সুইসাইড নোট লিখে  ২০১৪-র ২৯ সেপ্টেম্বর  মুম্বইের ভারসোভাতে নিজের ফ্ল্যাটে গলায় দড়ি দেন মডেল অর্চনা পাণ্ডে। ফ্ল্যাট থেকে পড়ে উদ্ধার হয় তার ঝুলন্ত দেহ।

৯. নাফিসা জোসেফ :- মানসিক অবসাদের শিকার হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন বিউটি কুইন নাফিসা জোসেফ। তারিখ, ২০০৪-এর ২৯। জানা যায়  ব্যবসায়ী গৌতম খান্ডুজার সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পূর্ণ পাকা হওয়ার পর ভেঙে যাওয়ায় মানসিক অবসাদের শিকার হন তিনি। পড়ে ফ্ল্যাট থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

আরও পড়ুন :- কি হয়েছিল ইরফান খানের, নিউরোএন্ডোক্রিন টিউমার কি

১০. কুলজিৎ রণধাওয়া :- প্রাক্তন গ্ল্যাডর্যা গস এই মডেলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় তার জুহুর ফ্ল্যাট থেকে। মৃত্যুর দিন ২০০৬-এর ৮ সেপ্টেম্বর। মৃত্যুর আগে একটি সুইসাইড নোট লেখেন তিনি যেখানে মানসিক অবসাদের উল্লেখ করেন তিনি। তারপরই গলায় দড়ি দেন তিনি।

১১. বিবেকা বাবাজি :- তিনি ছিলেন ভারতের অন্যতম সেরা মডেল।নিজের ঘরেই উদ্ধার হয় তার ঝুলন্ত দেহ। সেখানেই একটি ডায়রি উদ্ধার হয় যেখানে লেখা ছিল— আই কিল। প্রেম সম্পর্কিত মনোমালিন্যের জন্যই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়।

আরও পড়ুন :- সুশান্ত সিং রাজপুত অভিনীত ৭টি সিনেমা যা তাঁকে অবিস্মরণীয় করে রাখবে

১২. কুনাল সিংহ :– নিজের বাড়ির থেকেই উদ্ধার হয় ‘দিল হি দিল ম্যায়’ ছবির অভিনেতা কুণাল সিং এর ঝুলন্ত দেহ। যদিও ছেলের আত্মহত্যা মানেননি তার বাবা, দাবি ছিল আত্মহত্যা নয়, খুন করা হয়েছে তার ছেলেকে। কিন্তু আজো পাওয়া যায়নি অন্য কোনো তথ্য।

১৩. মনমোহন দেশাই :- বাড়ির ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়েই নিজেকে শেষ করে দেন অমর আকবর অ্যান্টনি, কুলি, ধরমবীর খ্যাত অভিনেতা মনমোহন দেসাই।অনেকের মতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আকাঙ্খিত সাফল্য না পাওয়ায় মানসিক অবসাদের তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন আবার আরেক তথ্যে জানা গেছে পিঠের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে এই চরম পদক্ষেপ। সত্যটি কি, তা আজও অজানা।