সিরিয়ালের নামে পরকীয়া, নারী নির্যাতনে প্রশ্রয়! লীনা গাঙ্গুলীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি 

সমাজকে কলুষিত করছে লীনা গাঙ্গুলীর সিরিয়াল! লেখিকার বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ

Audience are very annoyed with Leena Ganguly's serials and threatening to take legal action against her

বাংলা সিরিয়ালের (Bengali Mega Serial) দর্শকরা লীনা গাঙ্গুলীকে (Leena Ganguly) চেনেন না এমনটা হতেই পারে না। এই নামী সিরিয়ালের গল্প লেখিকার কলম দিয়ে একসময় দারুণ দারুণ সিরিয়ালের গল্প বেরিয়েছে। ‘জল নূপুর’, ‘ইষ্টিকুটুম’, ‘অন্দরমহল’, ‘শ্রীময়ী’ দেখে যেন মন ভরত না দর্শকদের। অথচ সেই দর্শকরাই এখন লীনা গাঙ্গুলীর লেখার ঘোরতর সমালোচক হয়ে উঠেছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন! কারণটা কী?

এই মুহূর্তে স্টার জলসাতে লীনা গাঙ্গুলির তিন তিনটি ধারাবাহিক চলছে একসঙ্গে। গুড্ডি, ধূলোকণা এবং একাদোক্কা সিরিয়াল তিনটির গল্প তারই লেখা। অথচ এই তিন ধারাবাহিকের বিরুদ্ধেই কখনও পরকীয়া, কখনও নারী নির্যাতন দেখানোর অভিযোগ উঠছে বারবার। ধুলোকণা এবং গুড্ডিতে নায়করা বাড়িতে বউ রেখে বাইরে অন্য মেয়ের সঙ্গে রাত কাটিয়ে বেড়ায়! আর এক্কাদোক্কাতে বাড়ির বউয়ের উপর নির্যাতন দেখানো হয়।

পরকীয়া, নারী নির্যাতনকে সমাজের ব্যাধি বলে দাবি করে লীনা গাঙ্গুলীর সিরিয়ালে এগুলিকেই বারবার প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। পুরনো বস্তাপচা কুটকাচালির একঘেয়ে গল্প দেখতে মোটেই রাজি হচ্ছেন না দর্শকরা। আজকের যুগে মেয়েরা যেখানে স্বাবলম্বী, রাধিকা যেখানে নিজেই হবু ডাক্তার, ফুলঝুরি যেখানে নামী গায়িকা এমনকি গুড্ডিও পড়াশোনা শেষ করে পুলিশের দেওয়া চাকরিতে ঢুকতে পারে সেখানে তাদের উপর অত্যাচার মোটেই বরদাস্ত করতে পারছেন না দর্শকরা।

এসব দেখেশুনে কার্যত সহ্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে দর্শকদের একাংশের। এমনকি তারা তো সমালোচনার পাশাপাশি লীনা গাঙ্গুলির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছেন! সোশ্যাল মিডিয়াতে এখন এই নিয়েই আলোচনা চলছে। পরকীয়া, বারবার বিয়ে, ডিভোর্স নারী নির্যাতন সমাজকে অন্ধকারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এখনকার যুগের সিরিয়ালে এসব দেখানোই উচিত নয় বলে দাবি করছেন দর্শকরা।

দর্শকদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ লিখছেন, “মানুষ দিনের শেষে একটু বিনোদনের আশায় টিভি খোলে। কিন্তু তাতেও দেখায় খালি অশান্তি। তাহলে এমন ধারাবাহিক দেখব কেন?” লীনা গাঙ্গুলীর রুচি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এরপরই উঠল আইনি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ। একজন রীতিমতো হুমকির সুরে লিখলেন লীনা গাঙ্গুলীর নামে কেস হওয়া উচিত। একজন আইপিএস অফিসারের ক্যারেক্টার উনি যে নষ্ট করে দিচ্ছেন! এখানে গুড্ডি সিরিয়ালের অনুজের কথা বলা হয়েছে।

আবার অন্য একজন লিখলেন, সমাজকে কলুষিত করার জন্য এই মহিলাকে জেলে দেওয়া উচিত! কারও মতে লীনা গাঙ্গুলী সুস্থ মানসিকতার দর্শকদের উপর টর্চার করছেন! পুলিশ, ডাক্তার বা অধ্যাপনা জগতের লোকেরা কেন উনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন না সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কেউ কটাক্ষ করে প্রশ্ন ছুঁড়লেন উনি মানসিকভাবে সুস্থ তো?