সারেগামাপা থেকে ইন্ডিয়ান আইডল, দেশে-বিদেশে প্রচুর শো, বাংলার মেয়ে অরুণিতার আসল পরিচয়

ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ১২ (Indian Idol Season 12) এর প্রতিযোগিদের মধ্য থেকে বাংলার বনগাঁর মেয়ে অরুনিতা কাঞ্জিলাল (Arunita Kanjilal) ছিলেন অন্যতম। বাংলার মানুষ আশা করেছিলেন যে ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে অরুনিতাই হবেন সেরার সেরা। তবে তাদের সেই আশা পূরণ হলো না। জয়ের জন্য সমানে সমানে টক্কর চললেও উত্তরাখণ্ডের পবনদীপের (Pawandeep Rajan) কাছে সামান্য কিছু পয়েন্টের জন্য হেরে যেতে হলো বাংলার অরুনিতাকে। তিনি হয়েছেন রানার্স আপ। তবে রানার্সআপ হয়েও বিচারকদের মন জিতেছেন তিনি। পেয়ে গিয়েছেন বলিউডে (Bollywood) কাজের সুযোগ।

এহেন অরুনিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের প্রবল আগ্রহ। তিনি কীভাবে আজ এই জায়গায় এলেন, বনগাঁ থেকে মুম্বাইয়ের সফর ঠিক কতটা পরিশ্রমের, তা জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন অরুনিতার ভক্তরা। তবে জানেন কি অরুনিতার সফর শুধু বনগাঁ থেকে বলিউডের নয়, তিনি দেশে-বিদেশে ঘুরে ঘুরেও স্টেজ পারফরম্যান্স দিয়েছেন। গানের সঙ্গে তার সম্পর্ক বহুদিনের পুরনো। গানই তার ধ্যান জ্ঞান, তার সাধনা।

arunita kanjilal childhood photo

২০০৪ সালে বনগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন অরুণিতা। সেই হিসেবে তার বয়স মাত্র ১৭ বছর। তার মা নিজেও একজন গায়িকা। মায়ের ইচ্ছা থেকেই মেয়ের মধ্যে গানের দক্ষতা গড়ে উঠেছে। মায়ের ইচ্ছেতে মেয়ে মাত্র চার বছর বয়সেই নিজের কাকার কাছে ক্লাসিকাল সঙ্গীতের তালিম নিতে শুরু করেন। এরপর সঙ্গীতের উচ্চস্তরীয় তালিমের জন্য পুনের গুরু রবীন্দ্র গাঙ্গুলী (Rabindra Ganguly)-র কাছে ট্রেনিং নিয়েছেন অরুনিতা। নিজেকে মঞ্চের জন্য তৈরি করেছেন।

টেলিভিশনের সঙ্গে তার সফর শুরু হয় সেই ২০১৩ সালে। জি বাংলার গানের রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা লিটল চ্যাম্প’-এ অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। সেইবার বিজয়ীর মুকুট উঠেছিল তার মাথায়। ঠিক এক বছরের মাথায় ২০১৪ সালে জি টিভিতে সম্প্রচারিত ‘সারেগামাপা লিটল চ্যাম্প’-এ ফের অংশগ্রহণ করেন তিনি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘অ্যায় মেরে ওয়াতন কে লোগোঁ’ গানটি গেয়ে তিনি সকলের মন জয় করে নিয়েছিলেন।

‘সারেগামাপা লিটল চ্যাম্প’-এ সেরা পাঁচ প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। এরপর মোনালি ঠাকুরের (Monali Thakur) থেকে গান শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এই মঞ্চ থেকেই ‘মঞ্চ কা গুরুর’ তকমা পেয়েছিলেন অরুনিতা। তারপর প্রফেশনালভাবে স্টেজে পারফর্ম করতে শুরু করেন তিনি। দেশ-বিদেশের বহু অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য তার ডাক পড়তে থাকে। একইসঙ্গে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলও খুলে ফেলেন অরুনিতা। সেখানেও চলে গানের চর্চা।

তারপরেই ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ১২ এর প্রতিযোগী হিসেবে ফের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। এখানে এসে হিমেশ রেশমিয়া (Himesh Reshmiya)-র একটি মিউজিক ভিডিওয় গান গাওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। বলিউড পরিচালক করণ জোহার খোদ তার গান শুনে তাকে দিয়ে নিজের ছবিতে একটি গান গাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এখানে এসেই তিনি তার সব থেকে ভালো বন্ধু পবনদীপকে পেয়েছেন। যার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তিনি কখনও নষ্ট হতে দিতে চান না।

সব মিলিয়ে ইন্ডিয়ান আইডলের প্ল্যাটফর্ম অরুনিতাকে অনেক কিছুই দিয়েছে। দেয়নি শুধু জয়ের মুকুট। তবে তাতে কি? বিচারকদের নজরে তিনিও সেরার সেরা। অরুনিতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ তারা। কুমার শানুর সঙ্গে তার গাওয়া ডুয়েট আজ মিডিয়ার ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। অনুরাগীরা তাকে নিয়ে বানিয়ে ফেলেছেন অসংখ্য ফ্যান পেজ। পেয়েছেন দেশের অগুনতি মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন।