কৌশিকী অমাবস্যাতে ভুলেও এইসব কাজ করবেন না, জানুন এর পৌরাণিক কাহিনী

ভাদ্র মাসের আজকের দিন অনেকের কাছেই দিনটির গুরুত্ব অনেকখানি। যারা ধর্ম ,তন্ত্র, মন্ত্র সাধনা এবং ঈশ্বর পূজায় বিশ্বাসী তাদের কাছে আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কারন আজ যে সেই বিখ্যাত দিন, কৌশিকী অমাবস্যা। আর এই দিনটি সারা বছরে একদিনই আসে। আজ তারাপীঠে মা তারার মন্দির হয়ে ওঠে সারা রাজ্য তথা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য ভক্তদের অন্যতম পূজার জায়গা। আজ মা’কে বিশেষ ভাবে পূজা দেওয়া হয়। আর আজকের দিনে মা’কে পূজা দিলে মনের সকল ইচ্ছা পূর্ন হয় বলেই সকলের ধারণা। আজকের অমাবস্যাকে তাই তারা অমাবস্যাও বলে ডাকা হয় আজকের দিন।

কৌশিকী অমাবস্যার পৌরাণিক কাহিনি

শুম্ভ এবং নিশুম্ভ দুই ভাই তাদের পরাক্রমের দ্বারা সকল নিজেদের অধিকারে নিতে  উদ্যত হন। তাদের লক্ষ্য ছিল স্বর্গের অধিকার নেওয়া। সেই উপলক্ষে তারা দেবলোকে আক্রমন করে। দেবতারা তাদের কাছে পরাজয় স্বীকার করে। তখন দেবরাজ ইন্দ্র মা মহামায়ার তপস্যা শুরু করেন। অনেকের মতে দেবী পার্বতীর নিজ কোষ থেকে মা কৌশিকীর উৎপত্তি হয়। আবার কিছু মতে তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মা মহামায়া দেবী কালীর রূপ ধারণ করে দেবতাদের সম্মুখে উপস্থিত হন।

তিনি দেবতাদের অনুরোধ শোনেন এবং শুম্ভ ও নিশুম্ভকে হত্যা করবেন বলে দেবতাদের অভয় দেন। সেইমতো তিনি তার মনের রাগ এবং শরীরের কালিমা দূর করার জন্য  মানস সরোবরের শীতল জলে স্নান করেন। স্নান করার ফলে তিনি তার ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে করতে সক্ষম হন এবং তার সঙ্গে তার দেহের কালিমা দূর হয়ে পূর্ণিমার চাঁদের বর্ণ ধারণ করেন। আর তার এই নতুন রূপের নাম হয় কৌশিকী। যা তিনি আজকের দিনেই হয়েছিলেন। আর এই রূপেই তিনি দেবতাদের ত্রাস শুম্ভ এবং নিশুম্ভকে হত্যা করেন।

বামা ক্ষ্যাপার সিদ্ধি লাভ

এছাড়াও কথিত আছে আজকের দিনে মায়ের একনিষ্ঠ সাধক বামা ক্ষ্যাপা শ্মশানে শ্বেত শিমুল গাছের তলায় তারা মায়ের সাধনা করে ১২৭৪ বঙ্গাব্দের এই বিশেষ অমাবস্যা তিথিতে সিদ্ধি লাভ করে বা তারা মায়ের দর্শন পান। তাই তন্ত্র সাধনা বা মন্ত্র সাধনা করে যেসব তান্ত্রিক বা সাধকরা তাদের কাছে আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।

দ্বারকা নদীতে স্নান

এছাড়াও বলা হয় আজকের দিনের এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ এবং নরকের দরজা কয়েক মুহূর্তের জন্য খুলে যায়। তাই আজকের দিনে যারা  দ্বারকা নদীতে স্নান করে তন্ত্র সাধনা বা যজ্ঞ করে তাদের ক্ষমতা তারা সিদ্ধি লাভের মাধ্যমে শুভ এবং অশুভ ক্ষমতা অনেকটা বাড়িয়ে নিতে পারে। শুধু হিন্দু শাস্ত্রে নয় বৌদ্ধ শাস্ত্রেও আজকের দিনের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। আজকের দিনে সাধক তার কুন্ডলিনী চক্রকে জয় করতে পারেন। তাই সব দিক দিয়েই আজকের দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কৌশিকী অমাবস্যার পূজায় যা যা করতে হয়

আজ তারা মায়ের পূজার অন্যতম পবিত্র দিন। এই দিন যারা মন্দিরে বা বাড়িতে তারা মায়ের মূর্তি বা ছবি বা পদযুগল পূজা করবেন তারা অবশ্যই পূজা করার সময় ১০৮ বার তারা মায়ের নাম মনে মনে জপ করবেন। তারপর প্রণাম করার সময় তারা মায়ের কাছে নিজের মনস্কামনা তুলে ধরবেন। ভক্তি ভরে মা’কে পূজা করলে এই দিন করুনাময়ী, বিপদতারিণী মা আপনার সকল  ইচ্ছা পূরণ করবে। এই দিন মায়ের আরতি বা পূজা করার সময় অবশ্যই ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালাবেন। এছাড়াও এইদিন মায়ের পূজায় অবশ্যই দিন শ্বেত পদ্ম। এছাড়াও পূজা করার সময় অবশ্যই কুশের আসনে বসে মায়ের পূজা করুন। মাকে পূজা দেবার সময় ফুল হিসাবে অবশ্যই যা দিতে হবে তা হল রক্তজবা ফুলের মালা।

কৌশিকী অমাবস্যার টোটকা

এদিন বাড়ির ভিতরে কোনরকম নোংরা আবর্জনা রাখবেন না। সকল আবর্জনা বাড়ির বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে আসুন বা ফেলে আসুন। আর এইসব করতে হবে পূজার শুভ ক্ষন শুরু হবার আগেই।

এছাড়াও বাড়ির ভিতরে থাকা সব ছিঁড়ে যাওয়া জামা প্যান্ট বা অন্যান্য কাপড় তা এদিকে সেদিকে ফেলে রাখবেন না। এইসব কাপড় বা জামা একটি জায়গায় নিয়ে এসে তাদের কোন গুপ্ত স্থানে রাখুন যাতে করে সহজেই কারো নজরে আসে না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এইসব গরিবকে বা অন্য কাউকে দান করতে পারেন যাদের এইসব জিনিস কাজে লাগে।

এইদিন বাড়ির মধ্যে তারা মায়ের পূজার পর মাটিতে গর্ত করে দুধ ঢেলে দিন কিছুটা আপনার ধন প্রাপ্তি হবে। এইদিন সন্ধ্যা বেলা থেকে বাড়ির সদর দরজায় তিলের তেলের দুটি প্রদীপ দরজার দুইদিকে জ্বালান। দেখবেন ঘরের সকল কুপ্রভাব কমে যাবে। এছাড়াও এই দিন বাড়ির মধ্যে পায়েস রান্না করে বট গাছের  তলায় তার কিছু অংশ একটি পাত্রে করে রেখে আসুন। দেখবেন আপনার শুভ কিছু ঘটবেই।

এছাড়াও শুকনো নারকেলের খোলের মধ্যে ফুটো করে আটা পুরের মতো  ভরে বাড়ির বাইরে কোন নির্জন জায়গায় পূজার পর গিয়ে মাটিতে নারকেলের ফুটো করা মুখ উপরের দিকে রেখে পুঁতে দিন। তারপর পুঁতে আসার সময় আর পিছন ফিরে তাকাবেন না। দেখবেন আপনার ও আপনার বাড়ির উপর সবার যে কুনজর এতদিন ছিল তা আর কাজ করবে না। আপনার প্রতিটি কাজ শুভ হবে।

এছাড়াও এইদিন দুইটি জ্যান্ত মাছ নিয়ে বাড়ির সামনে কোন পুকুর বা জলাশয়ে ছেড়ে দিন দেখবেন আপনার অবশ্যই ধনযোগ হবে আপনার। উপরের বর্ণিত টোটকা বা তথ্যের কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। আমরা শুধু তথ্য তুলে ধরছি আপনাদের কাছে।