১৫ বছরে ক্যান্সার, ২ বার মৃত্যুমুখ থেকে ফিরেও নায়িকা, ঐন্দ্রিলার বাস্তব জীবনের গল্প সিনেমাকেও হার মানায়

দু-দুবার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর এখন ব্রেন স্ট্রোক, ঐন্দ্রিলার জীবনের গল্প চোখে আনবে জল

একবার নয়, দুবার নয়, বারবার টেলিভিশন (Bengali Telivision) অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মাকে (Aindrila Sharma) প্রমাণ করতে হচ্ছে জীবন যুদ্ধে তিনি হেরে যাওয়ার মত মানুষ নন। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে তার লড়াই তো ছিলই। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সেই লড়াই তিনি লড়ছিলেন। এখন তার দোসর হয়ে এসেছে স্ট্রোক। মঙ্গলবার রাতে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত কারণে এখন ভেন্টিলেশনে ভর্তি বাংলা সিরিয়ালের (Bengali mega serial) এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের মেয়ে ঐন্দ্রিলার জন্য আজ সারা বাংলা উদ্বিগ্ন।

ঐন্দ্রিলার মা শিখা শর্মা নার্সিং হোস্টেলের ইনচার্জ। বাবা উত্তম শর্মা মুর্শিদাবাদের পাঁচগ্রাম হাসপাতালের চিকিৎসক। ছোটবেলা থেকেই নাচ এবং আবৃত্তিতে পারদর্শী ছিলেন ঐন্দ্রিলা। তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন খুব বড় অভিনেত্রী হবেন। ২০১৫ সালে স্কুলে থাকতেই আচমকা তিনি জানতে পারেন তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ রোগ। তখন তিনি একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। টানা দেড় বছর চিকিৎসা চলে তার। মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই তো ছিলই, সেই সঙ্গে কেমোথেরাপির যন্ত্রণায় বিকৃত তার শরীর নিয়ে লোকের নানা মন্তব্য, খোঁচাও সয়েছেন অভিনেত্রী এবং তার পরিবার।

তবুও ঐন্দ্রিলার মনের মধ্যে ছিল অদম্য জেদ। ছোট থেকেই তিনি অভিনেত্রী হতে চাইতেন। তাই একটু সুস্থ হওয়ার পর তিনি সেই দিকে মনোনিবেশ করেন। কলকাতার একটি নামী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তিও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শরীর তাকে একসঙ্গে অভিনয় এবং পড়াশোনার অনুমতি দিচ্ছিল না। অগত্যা পড়াশোনাটা শেষ করে উঠতে পারেননি ঐন্দ্রিলা। তবে তিনি তার অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন।

২০১৭ সালে ঝুমুর ধারাবাহিকের মাধ্যমে ঐন্দ্রিলা টেলিভিশনের পর্দায় পা রাখেন। সেখানে তার বিপরীতে নায়ক ছিলেন সব্যসাচী চৌধুরী। মহাপীঠ তারাপীঠ খ্যাত সাধক বামাক্ষ্যাপা ওরফে সব্যসাচী প্রথম সিরিয়ালের পর থেকেই হয়ে ওঠেন ঐন্দ্রিলার বন্ধু। এরপর তাদের বন্ধুত্ব বদলে যায় প্রেমে। সেই থেকে সব্যসাচী প্রতিমুহূর্তে প্রকৃত সঙ্গীর মত ঐন্দ্রিলার পাশে থেকেছেন।

Sabyasachi Chowdhury shared health Update of Aindrila Sharma

প্রথম ধারাবাহিকের পর আবার জিয়ন কাঠি ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পান ঐন্দ্রিলা। সেই সময় নায়িকা হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়তাও পাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই দ্বিতীয়বার ক্যান্সার থাবা বসায় তার শরীরে। আবার শুরু হয় এক দীর্ঘ লড়াই। ২০২১ সালের ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ডান কাঁধে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপর দীর্ঘ ৭ মাস একটানা কেমোথেরাপির যন্ত্রণা সয়েছেন। শেষটায় আর চিকিৎসাই করাতে চাইছিলেন না, আপনজনেরা তাকে বুঝিয়ে রাজি করান।

ফুসফুসে তখন ১৯ সেন্টিমিটারের টিউমার বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিলেন ঐন্দ্রিলা। অস্ত্রপচারই ছিল একমাত্র উপায়, কিন্তু তাকে ওটি থেকে ফেরানো যাবে কিনা সন্দেহ ছিল চিকিৎসকের। কিন্তু ঐন্দ্রিলার বেঁচে থাকার তাগিদের কাছে আরও একবার হার মানে মৃত্যু। সুস্থ হয়ে ওঠেন ঐন্দ্রিলা। দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান হয়েও যেন হয়ে উঠল না। এখন আবারও হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি ঐন্দ্রিলা। ইন্ডাস্ট্রিতে তার সতীর্থ থেকে অনুরাগী, আপনজন সকলেরই দৃঢ় ধারণা, ঐন্দ্রিলা জীবন-মৃত্যুর এই লড়াইয়েও জয়ী হবেন।