কীভাবে শুরু হয়েছিল ঐন্দ্রিলা-সব্যসাচীর প্রেম কাহিনী, বাস্তবের এই গল্প সিনেমাকেও হার মানায়

বাস্তবের ‘রোমিও-জুলিয়েট’! ঐন্দ্রিলা সব্যসাচীর প্রেম-কাহিনী রূপকথার গল্পকেও হার মানায়

বাস্তবের রোমিও-জুলিয়েট, বিচ্ছেদই যাদের প্রেমের পরিণতি। মৃত্যু এসে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল প্রেম, ঐন্দ্রিলা শর্মা (Aindrila Sharma) এবং সব্যসাচী চৌধুরীর (Sabyasachi Chowdhury) প্রেমের কাহিনীটা রোমিও-জুলিয়েটের মতই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বাঙালি হৃদয়ে। সব্যসাচী দেখিয়ে দিলেন পাশে কীভাবে থাকতে হয়। আর ঐন্দ্রিলা? মৃত্যুর কাছে তিনি হেরেছেন, কিন্তু জীবনে তিনি জিতেও গিয়েছেন অনেক কিছুই।

ঐন্দ্রিলা বললেই প্রথমে কোন শব্দটা মাথায় আসে? একবার একটি সাক্ষাৎকারের র‌্যাপিড ফায়ার পর্বে এই প্রশ্নের উত্তরে সব্যসাচী উত্তর দেন, ‘আমার’। একাধিক সাক্ষাৎকারে ঐন্দ্রিলাও বলেছিলেন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে তার শারীরিক যন্ত্রণা ছিল প্রবল, কিন্তু কখনও মানসিক যন্ত্রণা পেতে দেননি সব্যসাচী। তাদের এই প্রেমের শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালে। ‘ঝুমুর’ ধারাবাহিকের সেটেই সব্যসাচী এবং ঐন্দ্রিলার প্রথম আলাপ হয়।

যদিও প্রথম দেখাতেই যে সব্যসাচীর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা এমনটা কিন্তু নয়। প্রথমে তাদের মধ্যে খুব ভাল বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফোনে কথা বলতে বলতে কখন যে দুজনেই দুজনের প্রেমে পড়ে গেলেন টেরও পাননি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে খুবই ভালবাসতেন ঐন্দ্রিলা। সব্যসাচী তাদের সেই আড্ডায় অংশ নিতেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল মিষ্টি প্রেমের এক সম্পর্ক।

তারপরেই একের পর এক ধাক্কা নেমে আসে দুজনের জীবনে। ঐন্দ্রিলা-সব্যসাচী মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবকিছু সঙ্গে লড়াই করেছেন। ঐন্দ্রিলাকে কখনও ভেঙে পড়তে দেননি সব্যসাচী। ২০১৫ অস্থিমজ্জার ক্যান্সার ধরা পরার পর দেড় বছরের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন ঐন্দ্রিলা। পরের ৫ টা বছর কেটেছিল ভালই। তবে আচমকাই ২০২১ সালে আবারও ক্যান্সার ফিরে আসে তার শরীরে।

এইবার ঐন্দ্রিলার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। ফুসফুসের ১৭ সেন্টিমিটারের একটি টিউমারের অপারেশন করানো মুখের কথা ছিল না। চিকিৎসকের একপ্রকারের জবাব দিয়েই বলেছিলেন অপারেশনের পর ঐন্দ্রিলা যে ফিরবেন তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবে আবারও মৃত্যুকে হারিয়ে জীবনের পথে ফিরে এসেছিলেন ঐন্দ্রিলা। বারবার ক্যান্সারের সঙ্গে লড়তে লড়তে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন একসময়। তবে সব্যসাচী বরাবর ঐন্দ্রিলার লড়াইয়ে সাহস জুগিয়েছেন।

যখন দ্বিতীয়বার ক্যান্সার আক্রান্ত হলেন ঐন্দ্রিলা তখন সব্যসাচীর ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’র শুটিংয়ে ব্যস্ত। মা তারা বড়মার উপর ভরসা ছিল তার বরাবর। সেই দফাতেও ঐন্দ্রিলা সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন। এমনকি এবারে ঐন্দ্রিলার সংকটময় পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা যখন হাল ছেড়ে দেন তখনও সব্যসাচী ভরসা রেখেছিলেন মিরাকেলের উপর। জোর গলায় বলেছিলেন, ‘নিজের হাতে নিয়ে এসেছি, নিজের হাতে করে ফিরিয়ে নিয়ে যাব। এর অন্যথা কিছু হবে না।’

গত ৩১ অক্টোবর ঐন্দ্রিলা সব্যসাচীকে নিয়ে শেষ লেখায় লিখেছিলেন, “আমার বেঁচে থাকার কারণ”। তবে ১লা নভেম্বরই ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এই দফায় ব্রেন স্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। তারপর ২০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ঐন্দ্রিলা। বাইরে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন সব্যসাচী। খাওয়া-দাওয়া ঘুম বিসর্জন দিয়ে শুধুই একমনে প্রার্থনা করেছেন। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সব্যসাচীকে চিরতরে একা করে অনেক দূরে চলে গেলেন ঐন্দ্রিলা।