মন্দিরে ঢোকা নিষেধ, সারা গায়ে ‘রাম’ লিখে শরীরকে মন্দির বানান এরা

সনাতন শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে শরীরই আমাদের মন্দির। হ্যাঁ কারণ শরীরের মধ্যেই স্বয়ং পরমাত্মার বাস। তাই বলা হয় আমরা যদি নিজেদের শরীরের ঠিকমতো যত্ন নিই, ও সৎ পথে চলে শরীরকে পবিত্র রাখি, তাহলে ভগবানেরই এক রকম সেবা করা হয়। এই বিশ্বাস নিয়ে আজীবন জীবন ধারণ করেন ছত্রিশগড়ের রামনামী সম্প্রদায়।

এই সম্প্রদায়ের মানুষেরা নিজেদের সারা মুখে রাম নাম লিখে রাখেন। নিজেদের সারা মুখে রাম নাম লিখে রাখার জন্য তাদের সন্তানদের কোন ভালো স্কুল ভর্তি  নেয়না এবং চাকরি ক্ষেত্রে ও তাদের সমস্যা হয়। তবুও কোনো প্রতিকূলতার জন্য ই রামের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ছেদ ঘটেনা।

ছত্তীসগঢ়ের রাইপুর থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছারপোরা গ্রাম যেখানে বসবাস করেন এই রামনামী সমাজের মানুষ। ছারপোরা গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই দলিত সম্প্রদায়ের। এঁরা সবাই রামনামী সমাজের অন্তর্ভূক্ত। দলিত হওয়ার ‘অপরাধে’ রামের ভক্ত হলেও রামনামী সমাজের মানুষদের মন্দিরে যাওয়ার অধিকার নেই।

কয়েকশো বছর ধরে ‘নিচু জাত’ বলে মন্দিরে যাওয়া-সহ নানা সামাজিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছারপোরা গ্রামের দলিতরা।কপাল ,মুখ, পিঠ ও সারা শরীরে তাদের রাম নাম লেখা থাকে। নিজেদের শরীরের সাথে সাথে তাদের বাড়িঘরে দেওয়াল দরজা-জানলা এমনকি আসবাবপত্রে পর্যন্ত রাম নাম খোদাই করা। কিন্তু এই মানুষগুলোই আবার কোনও মন্দিরে যান না। কোনও মূর্তি পূজা করেন না, তা সে রামের মূর্তি হলেও নয়।

কিন্তু ভক্তি পথে তারা তাদের সমগ্র জীবন অতিবাহিত করেন। রাম মন্দিরে না গিয়েও টিকা না লাগিয়েও তারা রাম ভক্তিতে সারা জীবন অতিবাহিত করেন। আসলে ভক্তি পথে সমগ্র জীবন অতিবাহিত করলেও তাদের সম্প্রদায় মূর্তি পুজোতে বিশ্বাস করে না। কিন্তু এমন অভূতপূর্ব ভক্তির পিছনের ইতিহাস কী?

জানা যাচ্ছে আজ থেকে বহু বছর আগে তাদের পূর্বপুরুষরা রাম নাম করার ফলেই ভয়ঙ্কর নৌকাডুবির থেকে রক্ষা পান। সেই থেকে গোটা শরীরে তারা রাম নাম লিখে নেন। এতে প্রভু সব সময়ই তাদের সঙ্গেই থাকবেন। শ্রেণিভেদের কারণে তাদের মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। কারণ তারা ছিলেন দলিত।তাই তারা রাম নাম শরীরে লিখে ফেলেন এতে তাদের শরীরটাই মন্দির হয়ে যায়।

১৮৯০ সালে  পরসরাম নামের একজন দলিত যুবকের হাত ধরে এই সম্প্রদায়ের শুরু হয়। বর্তমানে ৪০০ থেকে ৫০০ জন মানুষ রয়েছেন ছত্রিশগড়ে এই সম্প্রদায়ের। রামনামী সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্মরা অবশ্য তাদের সারা শরীরে আর রামের নাম লেখাতে চান না। তবে রামের নাম খোদিত আছে তাদের পূর্বপুরুষদের শরীরে।আজ অযোধ্যার ভূমি পূজার দিনে এই সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ অযোধ্যায় গিয়ে রাম নাম খোদাই করেছিলেন। আজকের বিশেষ দিন উপলক্ষে তারা ভজন করবেন।