কৌশিকি অমাবস্যার রাতে এই কাজগুলি করলে বাধাবিপত্তি থেকে মুক্তি পাবেন

Kaushiki Amabasya Do and Donts

যে সকল মানুষেরা ধর্ম, তন্ত্র, মন্ত্র, সাধনা এবং ঈশ্বর বিশ্বাসী তাদের কাছে বিশেষ করে তাদের কাছে ভাদ্র মাসের এই তিথি খুব গুরুত্বপূর্ণ।। কারণ ভাদ্র মাসের এই তিথি হল প্রসিদ্ধ কৌশিকি অমাবস্যা। আর কৌশিকি অমাবস্যার সাথে তারাপীঠের অঙ্গাঅঙ্গি সম্পর্ক।

প্রতিবছর কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে তারাপীঠে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয়ে থাকে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় তারাপীঠের এবছরের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই তারাপীঠ মন্দির কমিটি তারাপীঠ মন্দির সাধারণ ভক্তদের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এবছর তারাপীঠ মহাশ্মশানে কোনরকম যজ্ঞের আয়োজন হবে না। কেবলমাত্র রীতি মেনে তারা মায়ের আরাধনা করা হবে।

কৌশিকী অমাবস্যা ২০২০ শুভক্ষণ

কৌশিকী অমাবস্যা ১৮ই অগাস্ট সকাল ১০:৪১ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হবে। তিথি শেষ হবে ১৯ অগাস্টের সকাল ৮:১২ মিনিটে।

কৌশিকী অমাবস্যা কী

কৌশিকী অমাবস্যা, অন্য সব অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা। তন্ত্র ও শাস্ত্র মতে ভাদ্র মাসের এই তিথিটি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কঠিন ও গুপ্ত সাধনা এই দিনে করলে আশাতীত ফল মেলে। বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজা মুহূর্তের জন্য খোলে ও সাধক নিজের ইচ্ছা মতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি সাধনার মধ্যে আত্মস্থ করেন ও সিদ্ধি লাভ করেন৷

পুরাকালে একবার শুম্ভ ও নিশুম্ভ কঠিন সাধনা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করলে চতুরানন তাঁদের বর দেন, কোনও পুরুষ তাঁদের বধ করতে পারবেন না৷ শুধু কোনও অ-যোনি সম্ভূত নারী তাঁদের বধ করতে পারবেন। অর্থাৎ এমন এক নারী, যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেননি, তাঁর হাতেই এই দুই অসুর ভাই-এর মৃত্যু হবে।

পার্বতী মানস সরোবরের জলে স্নান করে দেহের সব কালো রং পরিত্যাগ করে পূর্ণিমার চাঁদ বর্ণ ধারণ করেন এবং ওই কালো কোশিকাগুলি থেকে এক কৃষ্ণবর্ণ দেবীর সৃষ্টি হয়। ইনি দেবী কৌশিকী। আজকের দিনে এই দেবী শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেন। তাই এই অমাবস্যার নাম কৌশিকী অমাবস্যা।

কৌশিকী অমাবস্যায় যা যা করা যাবে না

  • কৌশিকী অমাবস্যার দিন ভুলেও আমিষ খাবেন না, শরীরে নেগেটিভ এনার্জি বৃদ্ধি পায়। সহজেই জীবনে অমাবশ্যার কালো ছায়া বা অশুভ প্রভাব পড়ে।
  • কৌশিকী অমাবস্যার রাতে ভুলেও বাড়ি থেকে অনেকটা দূরত্বে যাত্রা করবেন না। কারণ তন্ত্রসাধনার ফলে যে সমস্ত নেগেটিভ ও পজিটিভ এনার্জির জন্ম হয়, তা যাত্রায় অশুভ প্রভাব ফেলতে পারে। পথে দুর্ঘটনা ঘটার বিপুল সম্ভাবনা থেকে যায়।
  • গর্ভবতী মহিলারা এ দিন বাড়ি থেকে বের হবেন না। যদি বাড়ির বাইরে বেরনো একান্তই জরুরি হয়, সঙ্গে তুলসি পাতা রাখুন। তবে, অমাবশ্যার দিন তুলসিপাতা তুলতে নেই। কাজেই আগে থেকে তুলে রাখুন।

দুর্ভাগ্য কাটাতে কৌশিকী অমাবস্যাতে যা যা করবেন

কৌশিকী অমাবস্যার দিন আপনার বাড়িঘর খুব সুন্দর ভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে। কৌশিকী অমাবস্যায় যেন বাড়ি অপরিষ্কার না থাকে এবং কোনও এঁটো বাসনপত্র যেন না থাকে। কোনও ছেঁড়া জামাকাপড় থাকলে, সেগুলি কাউকে দিয়ে দিন অথবা ফেলে দিন। বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির সামনের উঠোনও কৌশিকী অমাবস্যায় পরিষ্কার রাখতে হবে।

একটি শুকনো নারকেল, অর্থাৎ নারকেলের ভিতরে জল যেন না থাকে, এমন নারকেল নিয়ে তার এক দিকে ফুটো করে সে ফুটো দিয়ে চিনি পুরে দিন ভিতরে। এ বার ওই অবস্থায় নারকেলটিকে নিয়ে গিয়ে বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে কোথাও পুঁতে দিন। লক্ষ্য রাখবেন যেন ওই ফুটোটা উপরের দিকে থাকে। আর এই কাজটি করার সময় কেউ যেন আপনাকে না দেখে।

কৌশিকী অমাবস্যায় কী করলে কী হয়

কালসর্প দোষ কাটান :- শাস্ত্রজ্ঞদের মতে  কৌশিকী অমাবস্যায় কালসর্প দোষ দমন করা যায়। কালসর্প দোষ থাকলে কৌশিকী অমাবস্যার দিন মন দিয়ে শিবপুজো করলে তার ফল পাওয়া যায়।

গর্তে দুধ ঢালুন :- কৌশিকী অমাবস্যায় সন্ধ্যাবেলায় একটি কুয়ো বা একটি গর্তে এক চামচ দুধ ঢালুন। তাতে আপনার জীবনের সমস্ত বাধাবিপত্তি দূর হয়ে যাবে।

নারকেল ফাটান :- বহু পরিশ্রম করেও আপনি যদি আপনার সৌভাগ্য ফিরে না পান তাহলে আজকের রাত আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ রাতে নারকেল ফাটিয়ে  তার কয়েকটি টুকরো দরজার বাইরে রাখুন। সকালে ভোরের আলো ফুটলেই, তা ফেলে দিন।

মাছকে আটা খাওয়ান :- কৌশিকী অমাবস্যার রাতে আটা জাতীয় কোনও জিনিস মাছকে খাওয়ান। সেটা পুকুরের মাছ হোক বা অ্যকোয়ারিয়ামের মাছ। তবু এই আটা দানে দুর্ভাগ্য কেটে যাবে বলে দাবি বহু শাস্ত্রজ্ঞের।

দরজায় তেলের প্রদীপ জ্বালান :- কৌশিকী অমাবস্যার রাতে অবশ্যই সদর দরজার সামেন তেলের প্রদীপ রাখুন। এছাড়াও পারলে বাড়ির সমস্ত দরজার সামনে তেলের প্রদীপ রাখুন। এর ফলে বাড়ির সমস্ত নেগেটিভ শক্তি বেরিয়ে গিয়ে পজিটিভ শক্তির আবির্ভাব ঘটবে। শাস্ত্রবিদদের দাবি এতে বহুদিনের দুর্ভাগ্য কেটে সৌভাগ্য আসবে।