বিশ্বকর্মার বাহন হাতি হল কেন, বিশ্বকর্মার হাতে দাঁড়িপাল্লা থাকে কেন

Biswakarma Puja

এই পৃথিবীর সকল শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম যার হাতে তৈরি তিনি আর কেউ নন আমাদের দেবতাদের মধ্যে অন্যতম সেরা ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বকর্মা ঠাকুর। আমাদের  আজকের প্রতিবেদনে আমরা এই অন্যতম সেরা দেবশিল্পীর সম্বন্ধে অনেক কিছুই জানবো।জানবো তার শিল্পকর্ম নিয়ে।

বিশ্বকর্মা ঠাকুরের জন্ম সংক্রান্ত তথ্য যা আমরা বিভিন্ন পুরাণ থেকে আমরা পেয়ে থাকি তা হল দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা হলেন একজন বৈদিক শিল্পী। তার সম্পর্কে বিবরণ আমরা যেমন বিভিন্ন পুরাণের মধ্যে পেয়ে থাকি, তেমনি ঋকবেদেও পেয়ে থাকি। পুরাণমতে তিনি দেবগুরু বৃহস্পতির একমাত্র বোন যোগসিদ্ধার পুত্র এবং তার পিতা অষ্টম বসুর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বসু প্রভাস।

আবার ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে প্রজাপতি ব্রহ্মার নাভিদেশ থেকে বিশ্বকর্মার উৎপত্তি  হয়েছিল। তেমনি এক মতে বিশ্বকর্মা ও তাঁর স্ত্রী ঘৃতাচী দুজনেই শাপ পেয়ে এই পৃথিবীতে জন্ম নেন আমরা এই বাস্তুশিল্পীর যে রূপ দেখতে পাই তা হল তিনি হলেন চতুর্ভুজা। তিনি গজারুঢ় অর্থাৎ হাতি তার বাহন।

বিশ্বকর্মার বাহন হাতি কেন?

পুরানের প্রনাম মন্ত্রে বিশ্বকর্মা কে মহাবীর বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আর দেবতা বিশ্বকর্মা যেমন মহাবীর ঠিক তেমনি তার বাহন যে হবে অর্থাৎ তাকে বহন করার ক্ষমতা যার থাকবে, তাকেও অমোঘ ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। স্থলভুমিতে হাতীর মতো শক্তিযুক্ত প্রাণী আর দুটি দেখতে পাওয়া যায় না।

হাতির এই ক্ষমতার ব্যবহার আজ থেকে নয় বহু প্রাচীন কাল থেকেই করে আসছে মানুষ। প্রাচীন কালে রাজারা যুদ্ধে যাবার সময় সঙ্গে নিয়ে যেত  হাতি বাহিনী। আর এই বাহিনী তারা প্রবল ভাবে ব্যবহার করতেন যুদ্ধে। যাদের কাছে এই হাতি বাহিনীর সংখ্যা বেশি থাকতো তাদের যুদ্ধে জয় ছিল নিশ্চিত। তাই এই স্থলভুমির অন্যতম শক্তিমান প্রানী এই দিক থেকে মহাবীর বিশ্বকর্মার বাহন হবার যোগ্যতা অর্জন করে।

 

আবার অন্য দিক দিয়ে ভাবলে হাতির কিন্তু কোন হাত নেই। তবে  তার আছে একটি শুড়। এই শুড়কে আবার কর বলা হয়। তাই হাতীর এক নাম ‘করী’। কর’ শব্দটির উৎপত্তি ‘কৃ’ ধাতু থেকে। হাতি এই শুড়ের মাধ্যমেই জল পান করে, খাবার সংগ্রহ করে, গাছের ডালপালা ভেঙে বা শুড় দিয়েই জড়িয়ে ধরে সবকিছুকে অর্থাৎ শুড়কে হাতি নানারকম ভাবে ব্যবহার করে।

এর দ্বারা তার শিল্পকর্ম প্রকাশ পায় অর্থাৎ শিল্পের মাধ্যমেই কর্ম সংস্থান করে হাতি তার শুড়ের মাধ্যমে। এই দিক দিয়ে যেহেতু বিশ্বকর্মা কর্মের দেবতা এবং হাতির শুড় দিয়ে নানান কর্মে সিদ্ধ তাই হাতিকেই  বিশ্বকর্মার বাহন হিসাবে  মেনে নেওয়া হয়েছে।

আবার কাজ করার সময় মাহুতের কাছে হাতীদের অবস্থা একদমই শান্ত থাকে। অর্থাৎ কাজের সময় ঠান্ডা ভাব থাকলেই কাজের মাধ্যমেই শিল্পের বিকাশ সম্ভব। তেমনিই বিশ্বকর্মা হলেন সূক্ষ শিল্পকর্ম থেকে বৃহৎ প্রাসাদ নির্মাণ অর্থাৎ সকল কর্মের দেবতা।তাই এখানে কাজের নিপুনতা যেমন দরকার তেমনি চাই দৈহিক ক্ষমতা এবং মাথা ঠান্ডা রাখার ধৈর্য্য। শ্রমিক হাতীর মধ্যে এই সকল গুন মিলে।তাই বিশ্বকর্মার বাহন হিসাবে হাতি একেবারে যুক্তিসঙ্গত।

Biswakarma Puja

বিশ্বকর্মার হাতে দাঁড়িপাল্লা থাকে কেন?

দাঁড়িপাল্লার মাধ্যমে আমাদের তিনি বোঝাতে চেয়েছেন এই পাল্লার দুই দিকে দুই রকম জিনিস দিয়ে জীবনে স্থিরতা বা ভারসাম্য আনা সম্ভব। আর সেগুলি হল কর্ম বা আপনার কাজ এবং অন্যটি হল কাজের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান। অর্থাৎ কাজ করেই গেলাম জ্ঞানার্জন করলাম না তাতে জীবনে ভারসাম্য আসবে না।

আরও পড়ুন : প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো হয় কেন, জানুন আসল কারণ

আবার কাজ কম করলে জ্ঞান ভারী হয়ে পড়বে, তেমনি জ্ঞান কম হলে কাজ ভারী হয়ে পড়বে। এইদিক দিয়েও জীবনে ভারসাম্য আসবে না। তাই জীবনে ভারসাম্য আনতে গেলে কাজ এবং জ্ঞানের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আসতে হবে। তাই তিনি এমন একজন দেবতা যিনি এই কাজ এবং জ্ঞানের মধ্যে  ভারসাম্য আনতে পেরেছেন। তাই তার বাহন রূপে আমরা দাঁড়িপাল্লা দেখতে পাই।