আসছে শীতকাল, ভারতে কতটা বাড়তে পারে করোনা সংক্রমণ, বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

করোনা ভাইরাস (Coronavirus) নিয়ে নতুন আশঙ্কা প্রকাশ বিজ্ঞানীদের। শীতে আসতে চলেছে কোরোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ। সার্স-কভ-২ (Sars-Cov-2)  সবথেকে সংক্রমক বিটা কোরোনা ভাইরাস। ক্রমাগত জিনের গঠন বদলানোর ফলে এটি আরও সংক্রমক হয়ে উঠছে। শীতে এর সংক্রমণ এর মাত্রা কতটা বাড়বে সেই নিয়ে আশঙ্কায় বিজ্ঞানিমহল।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এই বিশেষ সংক্রমক ভাইরাল স্ট্রেনের (Viral Strain) টিকে থাকার সময় (Incubation Period) এর সাথে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ওপর ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা যত কমবে এই ভাইরাস স্ট্রেনের বেঁচে থাকার সময় ততই বাড়বে। অন্যদিকে তাপমাত্রা বেশী হলে এই ভাইরাল স্ট্রেন বেশিক্ষণ বাঁচতে পারেনা। তবে ভারত সহ এশিয়ার বেশকিছু দেশের তুলনায় ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমন অধিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।

ইন্ডিয়ান কলেজ অব ফিজিশিয়ানের (Indian College Of Physician) প্রধান ডক্টর শশাঙ্ক জোশী জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত তাপমাত্রার বদলে করোনা সংক্রমণের কার্ভ পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি। সাধারণত যে কোনও সংক্রমণের প্রভাব ভারতে সবথেকে বেশী বাড়ে বর্ষাকালে।

How corona tests are done

কিন্তু বর্ষায় ভারতে করোনা প্রভাব তেমন বিশেষ বৃদ্ধি না পাওয়ায় বোঝা যাচ্ছে ঋতু পরিবর্তনে ভারতে ভাইরাসের প্রভাব তেমন পড়বে না। তবে তিনি আরও বলেছেন যে যেহেতু শীতকালে ভাইরাসের  জীবনকাল বৃদ্ধি পায় তাই উত্তর ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে শীতকালে বেশী সতর্কতার প্রয়োজন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির (National Institute of Virology) প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর ডক্টর এম এস চন্দা জানিয়েছেন যে পশ্চিমের দেশগুলিতে সেকেন্ড ওয়েভের প্রবল সম্ভাবনা আছে। এমনকি ইউরোপ ও আমেরিকায় মৃতের সংখ্যা  লাখের গণ্ডি পেরিয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, শীতকালে একদিকে যেমন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে তেমনই সর্দি, কাশি ও অন্যান্য ফ্লু এর প্রভাব বাড়তে থাকে। এমন অবস্থায় আবারও জিন বিন্যাস বদল করে নতুন করে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই তার মতে শীতকালের মাসগুলোতে পশ্চিমের দেশগুলিতে কড়া লক ডাউন দিয়ে মানুষদের হোম আইসলেশনে রাখতে হবে।

আরও পড়ুন : করোনা ভ্যাকসিন আগে কারা পাবেন, কত হবে ভ্যাকসিনের দাম

ইতিমধ্যেই মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানিয়ে দিয়েছেন অক্টোবরের প্রথম থেকেই বাড়বে ফ্লু এর প্রকোপ। এমনকি ভাইরাল ফিভার, অন্যদিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং করোনাভাইরাস এই তিনের প্রকোপে ‘টুইনডেমিক’ হওয়ার আশঙ্কাও আছে সেখানে।

আরও পড়ুন : করোনা মোকাবিলায় সফল বিশ্বের কোন দেশ, প্রকাশ্যে এলো সমীক্ষার ফল

মার্কিন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, এপিডেমোলজিস্ট অ্যান্থনি ফৌজি জানান যে অক্টোবর থেকেই সেখানেই ফ্লু এর সিজন শুরু হয়ে যায় যার সংক্রমন কোরোনা সংক্রমণের মতনই।তাই তার মতে যেহেতু শীতের গোড়া থেকেই ভাইরাল জ্বরে আক্রান্তর সংখ্যা বাড়তে থাকবে তাই এই সময় আরও বেশী সতর্কতা প্রয়োজন। এই সময় কোরোনা প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তিনি উপদেশ দেন যে কোরোনা ভ্যাকসিন ততদিনে না এলেও মানুষ যেন ফ্লু এর ভ্যাকসিন নিয়ে রাখেন।