ভারতের ৭টি মজাদার আইন যেগুলি শুধু হাস্যকর নয় রীতিমতো অর্থহীন

‘শিব ঠাকুরের আপন দেশে, আইন কানুন সর্বনেশে… ‘
ভারতে বেশ কিছু আইন চালু আছে যেগুলি শুধু হাস্যকর নয় রীতিমতো অর্থহীন। সমালোচনার যোগ্য।
এই সমস্ত আইনের বেশিরভাগই ব্রিটিশ আমলে তৈরি। সেকেলে এবং অদ্ভুত। এই একবিংশ শতাব্দীতে ওই আইনগুলির সংশোধন হওয়ার প্রয়োজন নয়, দরকার বিলোপ। কিন্তু আজও সেসব রয়ে গেছে একইভাবে। এখানে আমরা তেমনই কয়েকটি আইনের তালিকা তৈরি করেছি। সেগুলি দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

১) আত্মহত্যায় ব্যর্থ হলে অপরাধ

যদি কোনও ব্যক্তি সচেতনভাবে নিজের জীবন শেষ করতে চায় তবে সাবধানে। কারণ, আত্মহত্যায় সফল হলে ল্যাটা চুকে গেল। কিন্তু কোনওভাবে বেঁচে গেলেই ব্যস… ভারতীয় পিনাল কোডের ৩০৯ ধারায় আত্মহত্যার চেষ্টার অপরাধে তাঁর এক বছরের জেল অথবা জরিমানা কিংবা জেল ও জরিমানা দুই হতে পারে (মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে ছাড় আছে)।

২) তৃতীয় সন্তান হলেই জরিমানা কেরালায়

জন্মনিয়ন্ত্রণে কঠোর শুধু পড়শি রাজ্য চীন নয়। ভারতের কেরালাবাসীর জন্য নিষেধ তৃতীয় সন্তানে। দেশের একমাত্র রাজ্য। তিন নম্বর দুলালের মুখ দেখতে চাইলে দিতে হবে ১০, ০০০ টাকা জরিমানা।

৩) মদে হোম ডেলিভারি হয় না, দিল্লি ছাড়া

রাজধানী দিল্লি। তার কারবার তো অন্যরকম হবেই! তাই বলে এই! দিল্লিতে মদের হোম ডেলিভারি হয় না। কিনতে হলে দোকানে পায়ের ধূলো দিতে হবে। কিন্তু বিয়ার বা ওয়াইনের হোম ডেলিভারির অনুমতি আছে। মানেটা কী?

৪) মদ্যপানের বয়স ১৮ আবার ২৫

এইব্যাপারে এখনও মনস্থির করা যায়নি! বিভিন্ন রাজ্য নিজের মতো আইন করেছে। গোয়া, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং সিকিমে থাকলে ১৮ বছর বয়সে মদ্যপানের অনুমতি মিলবে। কিন্তু পুদুচ্চেরি এবং মহারাষ্ট্রে থাকলে বয়স হতে হবে ২৫ বছর।

৫) অন্ধ্রপ্রদেশে মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টরের দন্তসৌন্দর্য

হাসবেন না, প্লিজ… এটাই সত্যি। শক্তপোক্ত মজবুত দাঁত চাই। ওটাই টপ প্রায়োরিটি। হ্যাঁ, অন্ধ্রপ্রদেশে মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর পদে চাকরির প্রাথমিক শর্তই ভালো, সুস্থ দাঁত। অন্য যোগ্যতা তারপর।

৬) ইন্টারনেট সেন্সরশিপ

প্রতিদিন বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে বিতর্কিত ছবি এবং তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে দেশের কোনে কোনে। আছে পর্ণোগ্রাফিক সাইট। কোনও আইন চাপিয়ে ওয়েবদুনিয়ায় ঢোকা থেকে নেট ব্যবহারকারীকে আটকানো যায় না। তারপরেও ভারত সরকার সেই চেষ্টা করেছে। ইন্টারনেট সেন্সরশিপ হিসাবে প্রণয়ন হয়েছে নতুন সাইবার আইন।

সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ভারতের ১০ আইনজীবী 

৭) ইন্ডিয়ান টেলিগ্রাফিক অ্যাক্ট

রাজত্ব নেই অথচ রাজা আছে! টেলিগ্রাফ ব্যবস্থাই দেশ থেকে পাকাপাকিভাবে উঠে গেছে। অথচ ১৮৮৫ সালে বানানো ব্রিটিশ গর্ভমেন্টের সেই আইন রয়ে গেছে আজও।
সত্যি, শিব ঠাকুরের আপন দেশে…
(আমরা সংবিধান এবং আদালতের শ্রদ্ধা করি।)