সুশান্তের মৃত্যুকাণ্ডে নতুন মোড়, রিয়ার বিরুদ্ধে উঠে আসছে এই ১৬টি প্রশ্ন

371

দেখতে দেখতে কেটে গেল দেড় মাস। কিন্তু সুশান্তের মৃত্যুর কারণ এখনো অধরা। আর তাই এই মৃত্যুর তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি উঠছে বারংবার। আর এরই মাঝে প্রয়াত অভিনেতার বাবা রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন। পাটনার রাজিব নগর থানায় রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যে এফআইআর-এ রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ১৬টি প্রশ্ন ও অভিযোগ ছুড়ে দিয়েছেন সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে প্রয়াত অভিনেতা বাবা ছ’পাতার একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই ইন্সপেক্টর এবং দুই সাব-ইন্সপেক্টর মুম্বাই গিয়েছেন তদন্তের জন্য। রিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ (আত্মহত্যায় প্ররোচনা), ৩৪১ এবং ৩৪২(জোর করে ধরে রাখা), ৩৮০ (বাড়ির জিনিস চুরি), ৪০৬ (চুক্তিভঙ্গ) এবং ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিহার পুলিশের চার জনের একটি দল মুম্বই পৌঁছেছে। প্রয়োজনে মুম্বই পুলিশকে মহিলা পুলিশের ব্যবস্থা করার জন্যও জানিয়েছে তারা। এই অভিযোগপত্রেই ১৬টি প্রশ্ন এবং অভিযোগ তুলেছেন সুশান্তের বাবা।

সুশান্তের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে শপিং আর বিদেশ ভ্রমণই নয় জোর করে খুলিয়েছিলেন তিনটি কোম্পানি। আর সেই তিনটি কোম্পানির অংশীদার রিয়া এবং তাঁর ভাই সৌভিক চক্রবর্তী। সৌভিককেও ইতোমধ্যে জেরা করেছে মুম্বই পুলিশ। এছাড়াও সুশান্তকে জোর করে বান্দ্রার এই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে শিফট করান রিয়া। তা কিন্তু প্রথমে সুশান্তের বাড়ির লোকও জানতেন না। সুশান্তের কার্ড থেকে একবছরে ১৭ কোটি টাকা খরচ করেছে রিয়া। ইউরোপ ভ্রমণ করেছে সুশান্তের পয়সাতেই।

মার্চ মাসে হঠাৎ করেই সুশান্তের এক বিশ্বস্ত দেহরক্ষীকে সরিয়ে দেন রিয়া। সমস্যা করেন সুশান্তের কর্মচারীদের সঙ্গেও। সুশান্ত মানসিক সমস্যায় ভুগলে কিছুতেই তাঁকে চিকিৎসকের কাছে বা বাড়ির লোকের কাছে জানাতে দিতে চাননি রিয়া। সুশান্ত কার সঙ্গে মিশবেন বা কথা বলবেন তা ঠিক করত রিয়ার পরিবার। সুশান্তের ফ্ল্যাটের যাবতীয় দায়িত্ব জোর করে নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়েছিল রিয়া। এমনকী বাড়ি থেকে বেশ কিছু জিনিস সরিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ।

রিয়ার বিরুদ্ধে উঠে আসছে যে ১৬টি প্রশ্ন

১) ২০১৯ সালের আগে পর্যন্ত সুশান্তের কোন রকম মানসিক সমস্যা ছিল না। তাহলে কি এমন হল যে রিয়ার সাথে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পরেই সুশান্ত মানসিক সমস্যায় পড়লেন? ২০১৯ সালের আগে সুশান্তের কোনও মানসিক সমস্যা ছিল বলে তাঁরা জানতেন না। রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পরেই কি এই সমস্যা দেখা দিল?

২) সুশান্ত যদি সত্যিই মানসিক সমস্যায় ছিলেন এবং তার চিকিৎসা করানো হতো তাহলে সে বিষয়ে পরিবারের কাউকে কেন জানানো হয়নি অথবা অনুমতি নেওয়া হয়নি?

৩) সুশান্তকে ঠিক কি ওষুধ খাওয়ানো হতো? এ বিষয়ে ডাক্তারের ওপর রিয়ার প্রভাব ছিল কিনা? রিয়ার ঠিক করে দেওয়া ডাক্তারই সুশান্তের চিকিৎসা করছিলেন, তিনিও ষড়যন্ত্রে শামিল হতে পারেন। অভিনেতার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র কেন রিয়া নিজের কাছে রেখেছেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।

৪) সুশান্তের মানসিক অবস্থা খারাপ জেনেও কেন হঠাৎ করে তাকে ছেড়ে চলে গেলেন রিয়া?

৫) সুশান্তের কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা ট্রান্সফার হয়েছে যা সুশান্তের নয়।

৬) ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো কাজ করা সত্ত্বেও রিয়ার সাথে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর কেন সুশান্তের কাজ বন্ধ হয়ে গেল?

৭) জৈব কৃষির জন্য সুশান্ত কেরলে জায়গা কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই জায়গা কিনতে কেন রিয়া তাকে বারণ করলেন?

৮) নিজের পরিচিতি সমৃদ্ধি করার জন্য সুশান্তকে ব্যবহার করতো রিয়া চক্রবর্তী।

৯) রিয়া সুশান্তের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই ফোনে যখনই কোন ছবির প্রস্তাব আসত সেই ছবিতে নায়িকার ভূমিকার জন্য রিয়া চক্রবর্তী পীড়াপীড়ি করতেন।

১০) সুশান্ত সিংকে বারংবার ব্ল্যাকমেইল করতেন রিয়া চক্রবর্তী বলে অভিযোগ সুশান্তের বাবার।

১১) সুশান্তের মানসিক অবসাদের প্রেসক্রিপশন সংবাদমাধ্যমের সামনে ফাঁস করে দিয়ে তাকে পাগল চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন রিয়া চক্রবর্তী। এমনও অভিযোগ সুশান্তের বাবার।

১২) সুশান্তের সাথে যাতে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করতে না পারেন তার জন্য রিয়া ফোনের সিম কার্ড পরিবর্তন করে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ।

১৩) সুশান্তের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য তার পরিচারিকাকেও পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন রিয়া এমনটাও অভিযোগ করেছেন সুশান্তের বাবা।

১৪) রিয়ার পরিবারের লোকজন সুশান্তকে বন্দী বানিয়ে রেখেছিলো এমনও অভিযোগ তোলা হয়েছে এফআইআর-এ।

১৫) অভিনেতার মৃত্যুর কয়েক দিন আগে অভিনেতার ঘর থেকে ল্যাপটপ, সমস্ত কার্ড, প্রেসক্রিপশন, গয়না-সহ একাধিক মূল্যবান জিনিস নিয়ে চম্পট দেন রিয়া। এমনও অভিযোগ করা হয়েছে।

১৬) সুশান্তকে পুরোদমে ব্যবহার করতেন রিয়া। সুশান্ত-এর ক্রেডিট কার্ড এবং ডেবিট কার্ড থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ তুলে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ সুশান্তের বাবার।

আরও পড়ুন :- আত্মহত্যা নয়, সুশান্তের মৃত্যুতে উঠে আসছে যে ১০টি প্রশ্ন

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকে এ পর্যন্ত চল্লিশজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মুম্বই পুলিশ। তার মধ্যে আদিত্য চোপড়া, সঞ্জয় লীলা ভন্সালী, শেখর কপূর, মহেশ ভট্টদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও আছেন। রিয়াকেও একাধিক বার জেরা করা হয়েছে। রিয়া বুধবার সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছেন, সুশান্তের মৃত্যু মামলার তদন্ত যেন মুম্বইয়ে হয়। তাঁর পক্ষে পটনা যাওয়া সম্ভব নয়।