করোনা সংক্রমণে দেশের চিন্তা বাড়াচ্ছে এই ১৫টি শহর

15-cities-with-rising-covid-19-cases-have-emerged-as-new-areas-of-concern

দেশ জুড়ে প্রত্যেকদিন লাফিয়ে বাড়ছে কোরোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বর্তমানে সংখ্যাটা ৩ লাখ ২২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সম্পূর্ণ দেশের নিরিখে এই সংখ্যাটি লাফিয়ে বাড়লেও এই সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর দেশের চিন্তা বাড়াচ্ছে।

এই শহর গুলির মধ্যে দেশের ব্যাস্ত শহর যেমন কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি, আমেদাবাদ, পুনে এইসব শহরের নাম যেমন আছে তেমনই আরও ১৫ টি শহরের নাম যুক্ত হয়েছে যেখানে কোরোনা সংক্রমন বৃদ্ধি রীতিমত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গত ১০ দিনের হিসেব থেকে দেখা যায় এই শহর গুলিতে কোথাও সংক্রমন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে তো কোথাও তা ৬৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।

যে ১৫ টি শহরে বর্তমানে কোরোনা সংক্রমনের হার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে সেগুলি হলো ভদোদরা, গুয়াহাটি, সোলপুর, ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম,রাজস্থানের ভরতপুর, নাগপুর, ছত্তিসগড়ের রায়গড়, উত্তরপ্রদেশের লখনউ, আগ্রা, ফরিদাবাদ, মধ্যপ্রদেশের উজ্জ্বয়িনী, ইন্দোর, ভোপাল।

ভদোদরা, গুয়াহাটি, সোলপুর, ফরিদাবাদ – এই শহর গুলিতে গত ১০ দিনের কোরোনা সংক্রমণের হিসেব থেকে দেখা যাচ্ছে এইসব শহরে বিগত ১০ দিনে ৪৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ সংক্রমন বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে এই তালিকায় আছে গুরুগ্রাম এর নাম যেখানে ২ রা জুন থেকে ১২ জুনের মধ্যে কোরোনা ভাইরাস সংক্রমন ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই ১০ দিনে গুরুগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৩৯ জোন। বাকি শহর গুলিতেও সংক্রমণের হার ৪৫ শতাংশ থেকে ৬৩ শতাংশের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই শহরগুলিতে নিয়ে চিন্তিত প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসন শহরে সংক্রমন আটকানোর জন্য কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।এই শহরগুলিতে কন্টেইনমেন্ট জোন ( অতি সংক্রমিত এলাকা) এর সংখ্যা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার গুরুগ্রামে নতুন ৩২ টি এলাকাকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে হরিয়ানা সরকার। বাকি শহর গুলিতেও অনেক পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে কন্টেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা।

15-cities-with-rising-covid-19-cases-have-emerged-as-new-areas-of-concern

ভারতে যখন থেকে কোরোনা ভাইরাস সংক্রমন শুরু হয় তখন থেকেই আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যার নিরিখে প্রথম স্থানে ছিল মহারাষ্ট্র।সেই রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এমন অবস্থায় মুম্বাইয়ের পরিস্থিতি উদ্বেগ তৈরি করছে। সেখানে ভেন্টিলেটর এবং আইসিইউ বেড প্রায় ভর্তি হয়ে গেছে। রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতিও কিছুটা সেইদিকে এগোচ্ছে। মুম্বইয়ের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভেন্টিলেটর এবং আইসিইউ বেড প্রায় ভর্তি হওয়ার মুখে। একই অবস্থা রাজধানী দিল্লিতেও।

আরও পড়ুন :- সংকটের মাঝেই অবশেষে স্বস্তির খবর, করোনা মুক্ত পশ্চিমবঙ্গের দুই জেলা

রবিবার রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বৈঠকে বসছেন। হাসপাতালের বেড শেষের দিকে হওয়ায় অনুষ্ঠান বাড়িগুলোতে বেড পেতে সাস্থ্য কাঠামো তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে।ইতিমধ্যেই ৪০টি হোটেল ও ৭৭টি অনুষ্ঠান বাড়িতে প্রায় ১৫ হাজার বেড পাতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এরকমই কিছু পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হওয়ায় এই রাজ্যেও বিভিন্ন স্কুলকে সাস্থ্য পরিকাঠামোর কাজে লাগানো হয়েছে।