প্লাস্টিক দূষণ রুখতে ১২ বছরের কিশোরের অভিনব আবিষ্কার, চমকে গেল বিশ্ব

1003

যে সময়টা কেবল পড়াশুনা আর খেলাধুলা করার বয়স সেই সময়ে সমুদ্রিক দূষণ কীভাবে দূর করা যায়, সেই চিন্তা করতে বসল বারো বছরের বালক। হাতে নাতে ফলও পেল ছেলেটি। আবিষ্কার করে ফেলল একটি বিশেষ ধরনের জাহাজ, যা দিয়ে পরিষ্কার হবে দূষিত সমুদ্র।

এই কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছে পুনের বালক হাজিক কাজি। তার আবিষ্কার করা জাহাজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এর্ভিস’। এই বিশেষ জাহাজগুলিতে রেকাবির মতো একটা জিনিস লাগানো থাকবে। এই জিনিসটা জলের ওপরে ভাসমান সব বর্জ্য পদার্থকে নিজের কাছে টেনে নেবে। এর ফলে পরিষ্কার হবে জল। পাশাপাশি এই রেকাবির ফলেই জাহাজ থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থও সমুদ্রের জলে মিশবে না।

বাড়ির সিঙ্কে হাত ধুতে গিয়ে এই বুদ্ধিটা তার মাথায় আসে বলে জানিয়েছে কাজি। যে পদ্ধতি দিয়ে সিঙ্কের মধ্যে দিয়ে জল যায়, একই পদ্ধতি কাজে লাগানো হবে এখানে।

বিশেষ সেন্সর লাগানো ‘এরভিস’-এর নকশা একদম তৈরি। কাজও করবে একদম নিয়ম মেনে। বিজ্ঞানীদের এমনটাই জানিয়েছে কাজি। তার কথায়, ‘‘ইন্টারনেটে সামুদ্রিক দূষণের উপর নানা ডকুমেন্টারি দেখেই আমি এমন একটা জাহাজ বানানোর কথা ভাবি। সমুদ্রের প্রাণ বড়ই সঙ্কটে, তাদের বাঁচাতে হবে। সমুদ্রে জমা প্লাস্টিক ও বর্জ্য খাচ্ছে মাছ, সেই মাছ আবার আমরা খাচ্ছি। আমাদের তৈরি দূষণ এ ভাবেই ফিরে আসছে আমাদের কাছে।’’

আরও পড়ুন ঃ দেশের সেনাদের জীবন বাঁচাতে ১৪ বছরের কিশোরের নজিরবিহীন আবিষ্কার

কীভাবে কাজ করবে ‘এরভিস’? কাজি জানিয়েছে, এই জাহাজে লাগানো থাকবে বিশেষ কয়েকটি সেন্সর। তার একটি খুঁজে খুঁজে বর্জ্য সমেত জলকে শুষে নেবে। অন্য সেন্সর সেই দূষিত জল থেকে আবর্জনা ও সামুদ্রিক প্রাণীদের আলাদা করবে। এর পর চলবে জল শোধনের পালা। প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনাকে পাঁচটা স্তরে ভাগ করা হবে, সেগুলি জৈব সার তৈরির কাজে লাগবে। অন্যদিকে ছেঁকে নেওয়া শোধিত জল ও সামুদ্রিক প্রাণীদের ফের ছেড়ে দেওয়া হবে তাদের এলাকায়।

মাত্র ন’বছর বয়সেই এমন জাহাজ বানানোর কথা মাথায় আসে কাজির, জানিয়েছেন তার পরিবারের লোকজন। বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে কাজি। প্লাস্টিক দূষণ রোধে সচেতনতা বাড়ানোর নানা ক্যাম্পেনেও নিয়মিত যোগ দেয় সে।

Loading...