জীবন সম্পর্কে “ভাগবৎ গীতা”র ১২টি উপদেশ যা সবার জানা উচিত

জীবন সম্পর্কে ভাগবৎ গীতার ১২টি উপদেশ যা সবার জানা উচিত

শ্রীমদ্ভাগবতগীতা। রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে ধর্মের কথা। জীবনের সার। বিশ্বরূপ। ভারতীয় ধর্মগ্রন্থ গীতার জীবন ব্যাখ্যায় বহু কাল ধরে নিজেকে খুঁজেছে মানুষ। বিদেশেও। ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে কৃষ্ণ আর অর্জুনের কথোপকথন নিয়ে উৎসাহ ছিল সব কালেই। শত্রু শিবিরে ভাই, পিতা-আত্মীয়দের দেখে কর্তব্য-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলা অর্জুনকে উপদেশ দিচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ। জীবনে চলার পথ দেখাচ্ছেন।। আজও মানুষের জিজ্ঞাসা মেটাচ্ছে গীতার কথা, উপদেশ। এর বাণী প্রেরণা যোগায় এখনও। জীবনের জটিল পথ পেরতে সাহায্য করে। এখানে আমরা তেমন ১২ উপদেশের তালিকা তৈরি করেছি।

১) শরীর এবং আত্মার সম্পর্ক :- অগ্নি, জল, বায়ু, পৃথ্বী এবং ব্যোম – এই পঞ্চভূতে বা উপাদানে তৈরি আমাদের রক্তমাংসের শরীর। এর ক্ষয় হয়। শরীর অর্ন্তভূত আত্মা। যার কোনও ক্ষয় নেই। শরীরের মৃত্যু হয়। আত্মা অমর। সে দেহ বদল করে শুধু। রূপান্তর হয় মাত্র। আত্মার তৃপ্তির জন্যই আমাদের কর্ম।

২) কাজ কর, ফলের কথা ভেব না :- গীতার বহু আলোচিত শ্লোক ‘কর্মেণ্য বাধিকরস্তে মা ফলেষু কদাচন।’ অর্থাৎ কর্ম করে যাও, ফলের কথা ভেব না। ফলের আশা না করে কাজ করে যাওয়া। ভালো এবং জনহিতকর কাজ করতে বলছে গীতা। নিজের কর্মও জুড়তে হবে অপরের হিতের লক্ষ্যে।

৩) যা হয় ভালোর জন্য :- অতীত নিয়ে দুঃখ করার কিছু নেই। ভবিষ্যৎ নিয়েও অহেতুক চিন্তা নয়। নির্দিষ্ট সময়ে ভালো থাকায় নজর দিতে হবে। যা ঘটছে সেটা ভালোর জন্যই। হয়ত মুহূর্তকাল খারাপ লাগল, হতাশ হলেন। সেটা সাময়িক। ভালো সময় অপেক্ষা করছে। সর্বশক্তিমানের ওপর বিশ্বাস রাখুন।

৪) ধ্যান ও সাধণা দেয় অন্তরের শান্তিঃ গীতা :- ভগবদ গীতা অনুযায়ী, ধ্যান করলে মানুষের উপকার হয়। নিরলস সাধনা অন্তরে শান্তি দেয়। ইচ্ছাশক্তি বাড়ে। জীবনের লক্ষ্যের প্রতি একাগ্রতা আনে।

৫) আমরা খালি হাতে এসেছি :- নিরালম্ব মনুষ্য জন্ম। দিগম্বর অবস্থায় জন্ম নেয় শিশু। আক্ষরিক অর্থেই খালি হাতে। কিন্তু কোনও একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে প্রতিটা মানুষ পৃথিবীতে এসেছে। সেই লক্ষ্য খুঁজে পেতে হবে। মূল নীতিগুলি মনে রাখতে হবে। অর্থের দাস হওয়া উচিৎ নয়। মনে রাখতে হবে, যাই উপার্জন করি-না কেন তা, চিরকাল থাকবে না। একমাত্র সন্তুষ্টি আত্মার তৃপ্তি দেয়।

৬) খারাপ চিন্তা উপেক্ষা করুন :- পরিবেশে ভালো এবং খারাপ, দুরকম ভাবনাই আছে। নেতিবাচক ভাবনার আকর্ষণ সবসময় বেশী। প্রকৃতির নিয়মেই মানুষ সেদিকে আকৃষ্ট হয়। নিজের খারাপ ভাবনার জন্য অন্যের ক্ষতি করাও ঠিক নয়। ধ্বংসাত্মক মানসিকতা নিয়ে ভালো মানুষ হওয়া যায় না।

৭) আশা করবেন না :- কোনওরকম আকাঙ্খা বা কামনাকে প্রশ্রয় দিলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কঠোর আত্মসংযম রাখতে হবে।

৮) ধ্বংস অনিবার্য :- জড়-জীব সবকিছুরই নির্দিষ্ট জীবনচক্র আছে। কোনও কিছুই স্থায়ী বা অমর নয়। এটাই জীবনের মূল সত্য।

৯) সবকিছুই পরিবর্তনশীল :- একমাত্র সময় স্থির। বাকি সব পরিবর্তনশীল। সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলায়। সমাজের বিকাশ হয়। একমাত্র পরিবর্তন সত্য।

১০) সমস্ত কর্ম ঈশ্বরে নিবেদিত :-  ঈশ্বরকে হৃদয়ে রেখে কাজ করে যেতে হবে। ঈশ্বর ভাবনাই মনে শান্তি আনে। তৃপ্তি দেয়। জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীতে তাকাতে শেখায়।

১১) নিজস্ব বিশ্বাসে মানুষ তৈরি :- নিজের বিশ্বাসের ওপর মানুষের চরিত্র ও ভালোলাগা তৈরি হয়। যদি মনে করেন আপনি খুশি তাহলে সারা দিন ভালো থাকবেন। খারাপ চিন্তা মনে দুঃখের জন্ম দেয়। উদাসীনতা গ্রাস করে।

১২) সত্য চিরকালের :- সবসময় ভালো কাজ করা উচিৎ। কারণ সত্য কখনও বদলায় না। যাই করি না কেন সেটা মানুষের বা সমাজের উপকারে লাগুক। ভয় না পেয়ে কর্তব্য করে যেতে হবে। সমস্ত কিছুর স্বাক্ষী ঈশ্বর। ভালো কাজ বিফলে যায় না।