কোনও ট্যালেন্ট নেই, বিগ জিরো, ট্রোলের মুখে কাঁদতে কাঁদতে চরম সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত ইউটিউবারের

ব্যক্তিগত আক্রমণ, ট্রোলিংয়ের জেরে মানসিক বিপর্যয়, চরম সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলেন ইউটিউবার

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে একের পর এক জনপ্রিয় মডেল এবং অভিনেত্রীর আত্মহত্যার খবর মিলছে। এবার আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিলেন জনপ্রিয় এক ইউটিউবার (YouTuber)। ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিলেন ঐশ্বর্য মুখোপাধ্যায় (Aishwarya Mukherjee)। তিনি নিজে একজন জনপ্রিয় ইউটিউব ব্লগার। তাছাড়া তার দিদি জেফার এবং জামাইবাবু প্রীতমকেও আলাদা করে চিনিয়ে দিতে হয় না।

এহেন ঐশ্বর্য রবিবার রাতে ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমার শেষ ভিডিও, আমি বাঁচতে চাই না।’ গত কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছেন ঐশ্বর্য। তার কারণ তাকে প্রতিনিয়ত শুনতে হচ্ছে তার কোনও ট্যালেন্ট নেই, তিনি একজন বিগ জিরো! এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ঐশ্বর্য।

ঐশ্বর্য ভিডিওতে কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, “আমি দেড় বছর ধরে খেটে ভিডিও বানাই। কোনও আর্থিক সাহায্য ছাড়াই। আমি কাউকে ছোট করে উঠিনি। আমার বারবার ফোন আসছে। আমাকে দেখে লোকে হাসছে। আমাকে ঠেস দিয়ে কথা বলছে। আমি যে বিগ জিরো সেটা কমেন্ট বক্সে সবাই ভরিয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাকে শুনতে হচ্ছে যে, প্রীতম দা আর দিদির জন্য আমি উঠেছি। আমি আর নিতে পারছি না। আমার দোষ কী?শোনার তো একটা লিমিট আছে। আমার তো তাহলে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়। আমার দিদি তো ছোট থেকেই আমার দিদি, তাঁকে বা প্রীতমদাকে কী বলব যে না তোমরা আমার ভিডিওতে এসো না। কারণ তোমরা জনপ্রিয়।”

ঐশ্বর্যের কথায়, “যতদিন কাজ করেছি, নিজের চেষ্টায় করেছি। আমার কনটেন্ট খারাপ বললে আমি মেনে নিতাম। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ কেন? আমার ট্যালেন্ট ছাড়াই ১ লাখ ২৮ হাজার ফলোয়ার। হয়তো আমার ভিডিও বাজে হয়, কিন্তু এরকম কেন আমাকে ট্যালেন্টলেস বলা হচ্ছে?তাহলে কি আমি জগত ছেড়ে চলে যাব নাকি পুলিসকে গিয়ে সবটা জানাব?”

ভিডিওতে অন্য এক ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও তুলে ধরেছেন ঐশ্বর্য। যেখানে দেখা যায় জেফারের বোন হওয়ার কারণে তাকে ট্রোল করা হচ্ছে। বোনের এই অবস্থা সম্পর্কে জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটালের কাছে জেফার জানিয়েছেন শুধু ভিউ পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাকে আক্রমণ করে যাচ্ছে ফালতু ব্লগার নামের একটি টিম। যারা একসময় তাদের সঙ্গেই কাজ করতেন।

জেফার বলেছেন, “আমার বোন অনেক ছোট, সবে ১৮-এ পা দিয়েছে। ও মানসিকভাবে এত শক্ত নয়, খুবই ভেঙে পড়েছে। বোনের এই অবস্থা আমি মেনে নিতে পারছি না। ইতিমধ্যেই বেহালা পর্ণশ্রী থানায় ডেনারেল ডায়েরি করেছি। পরবর্তীতে আইনি পথেই হাঁটব। বোনকে চোখে চোখে রেখেছি, যাতে ও কোনও ভুল পদক্ষেপ না নিয়ে ফেলে”।