রান্নার গ্যাসের খরচ হয়ে যাবে অর্ধেক, মেনে চলুন এই ১০টি টিপস

গ্যাস কম খরচ করেই সেরে ফেলুন সমস্ত রান্না! কাজে লাগান এই ১০টি টিপস

ইদানিং রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পৌঁছে গিয়েছে ভারতের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে। তবে পৃথিবীতে এলপিজি গ্যাসের অফুরান ভান্ডার নেই কোথাও। আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ভারতেও ইদানিং রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে। এই সময় তাই পরিবেশের কথা ভেবে এবং নিজের পকেটের কথা ভেবে অপ্রয়োজনে রান্নার গ্যাসের ব্যবহার কমানো প্রয়োজন। তাই চটজলদি জেনে রাখুন কীভাবে রান্নার গ্যাসের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধ (How To Cook With Less Gass Consumption) করা যায়।

রাইস কুকার বা প্রেসার কুকারের ব্যবহার : রান্নার কাজে রাইস কুকার বা প্রেসার কুকারের ব্যবহার যতটা সহজ ঠিক ততটাই সাশ্রয়ী। এই ব্যস্ততার যুগে ইদানিং মহিলারা প্রেসার কুকারে রান্না করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কুকারে কেবল ভাত ছাড়াও আরও নানা পদ রান্না করা যায়। ইউটিউব ঘেঁটে একটু শিখে নিতে পারেন সেই রান্নাগুলো। অল্প সময়ে খাবার তৈরি এবং গ্যাস বাঁচানোর জন্য অব্যর্থ প্রেসার কুকার।

অল্প জলে রান্না করা : খাবার সেদ্ধ করতে কিংবা রান্না করার সময় অনেকেই অপ্রয়োজনে অনেকটা পরিমাণ জল ব্যবহার করেন। গ্যাসে রান্নার সময়ে সর্বদা পরিমাণ অনুসারেই জল দেওয়া উচিত। কারণ জল বেশি হলে ফুটতে বেশি সময় লাগে। এতে রান্নাতেও দেরি হয়। সেদ্ধ করার পর জলটা তো ফেলেই দেবেন। তাই এই অভ্যাসে জল এবং গ্যাস দুটোই বাঁচবে।

সবজি ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন : সবজি রান্নার জন্য খুব বড় টুকরো করে কাটবেন না। এতে সবজি দ্রুত সেদ্ধ হতে চায় না। সবজির বড় টুকরো সেদ্ধ হতেও বেশি সময় নেবে। তাই সবজি সব সময় ছোট ছোট টুকরো করেই কাটুন। এতে কম আঁচে তাড়াতাড়ি সবজি সেদ্ধ হয়ে যাবে।

রান্নার আগে চাল-ডাল ভিজিয়ে রাখুন : ভাত এবং ডাল রান্নার ক্ষেত্রে দারুণ উপকারী কৌশল এটি। সাধারণত ভাত এবং ডাল রান্নার জন্য অতিরিক্ত বেশি সময় লাগে। যদি রান্নার এক ঘন্টা আগে চাল এবং ডাল ভিজিয়ে রাখতে পারেন তাহলেই দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি রান্না হয়ে গিয়েছে। এতে আপনার সময়টাও বাঁচবে।

খাবারের সঞ্চয় : ইদানিং ঘরে ঘরে ফ্রিজ রয়েছে। ডিপ ফ্রিজে এক সপ্তাহের মতো খাবার মজুদ করে রাখতে পারবেন। তবে যে বাক্সের মধ্যে খাবার রাখবেন তা যেন ভাল মানের হয় নয়তো খাবারের মান নষ্ট হবে। রান্না করা খাবার যদি সঞ্চয় করে রাখতে পারেন তাহলে গ্যাস বাঁচানোর পক্ষে এক পা এগিয়ে যাবেন আপনি।

রান্নার আগেই সেরে ফেলুন প্রস্তুতি : যেকোনও রান্নার আগে প্রস্তুতিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবজি কাটা-ধোয়া থেকে আরম্ভ করে মশলা বাটা এসব কাজ গ্যাস অন করে কখনও করবেন না। তাই রান্নার আগে সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখে তবেই গ্যাস অন করুন। এতে অপ্রয়োজনে গ্যাস নষ্ট হবে না। রান্নাও হবে তাড়াতাড়ি।

গ্যাস বন্ধ রাখুন : রান্না যখন প্রায় হয়ে আসবে তখনই গ্যাস বন্ধ করে দিন। এই সময় খাবারের পাত্রটা গ্যাসের ওভেন থেকে নামাবেন না। ঢাকা দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রেখে দিন। এই উপায় করলে গ্যাসের তাপে বাকি রান্নাটাও হয়ে যাবে।

পাতলা হাঁড়ি ব্যবহার করুন : রান্নার জন্য যে পাত্র ব্যবহার করছেন তা যেন খুব বেশি ভারী বা মোটা না হয়। হাঁড়ির তলা যদি বেশি ভারী হয় তাহলে খাবার রান্না করতে দেরি হবে। এক্ষেত্রে সিলভারের হাঁড়ি-কড়াই ব্যবহার করা ভাল। এতে খাবার খুব তাড়াতাড়ি অল্প আঁচে রান্না হয়ে যাবে।

দইয়ের ব্যবহার : মাংস রান্না করার আগে অবশ্যই দই মাখিয়ে খানিকক্ষণ ম্যারিনেট করে রাখুন। রান্নার আগে অন্যান্য মশলার সঙ্গে যখন মাংসটা মাখিয়ে নিচ্ছেন তখন তার মধ্যে একটু দই অ্যাড করুন। রান্নার ১ ঘন্টা আগে যদি দই দিয়ে মাংস ম্যারিনেট করে রাখতে পারেন তাহলে মাংস খুব তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয়ে যায়।