একসঙ্গে ১৭টি চাকরির অফার, বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারের সাফল্যে গর্বিত গোটা দেশ

আকালের বাজারেও ১৭টা চাকরির অফার, বাংলার মুখ উজ্জ্বল করছেন হাওড়ার অরিজিৎ

সারা রাজ্য তথা দেশ জুড়ে চলছে চাকরির তুমুল আকাল। দেশজুড়ে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। উচ্চশিক্ষিতরাও বেকারত্বের জ্বালায় জর্জরিত। তবে এর মাঝেও কিছু খবর কার্যত আশা জাগায় পড়ুয়াদের মনে। যাদবপুর ইউনিভার্সিটির বিশাখ মন্ডল কিংবা চুঁচুড়ার হুগলি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজের ছাত্র অরিজিৎরা (Arijit Roy) প্রমাণ করছেন ভাল পড়াশোনা করলে ভালোমানের চাকরিও মেলে।

চুঁচুড়া হুগলি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র হলেন অরিজিৎ রায়। তার বাড়ি হাওড়ার (Howrah) বালি ঘোষপাড়া এলাকায়। বাংলার এই ছেলেটি পড়াশোনা শেষ করতে না করতেই হাতে পেয়ে গিয়েছেন ১৭টি বহুজাতিক সংস্থার জব অফার। এর মধ্যে রয়েছে Wipro, TCS, Infosys, Accenture, DeltaX এর মত নামিদামি সংস্থাও।

শুনতে অবাক লাগলেও কার্যত এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রটি। খুঁটিয়ে পড়াশোনা করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের সমস্ত খুঁটিনাটি জেনে নিয়েছেন তিনি। তার যোগ্যতা বিচার করে বড় বড় কোম্পানিগুলো নিজে থেকেই চাকরির অফার নিয়ে আসছে তার জন্য।

ছাত্রের এই সাফল্যের গর্বিত তার কলেজের অধ্যক্ষ ডক্টর স্মিতধী গঙ্গোপাধ্যায়। এই সাফল্যের পেছনে অরিজিতের কঠিন অধ্যাবসায় তো রয়েইছে, সঙ্গে কলেজের অধ্যাপকদের অনলাইন শিক্ষাদানকেও কৃতিত্ব দিচ্ছেন অধ্যক্ষ। যেখানে করোনা এসে বহু সেক্টরের কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সেখানে আশা দেখাচ্ছেন হুগলির এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্ররা।

গত ২ বছর করোনার কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো সেভাবে ক্যাম্পাসিংয়ের আয়োজন করতে পারেনি। আবার বহু সংস্থায় কর্মী ছাঁটাইও হয়েছে। এর ফলে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলিতে কর্মীর অভাব দেখা দিয়েছে। চীন-আমেরিকার মতো দেশগুলোর হাল সব থেকে খারাপ।

অরিজিৎ অনলাইন ক্যাম্পাসিংয়ের মাধ্যমে গত ২ মাসেই ১৭টি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ইন্টারভিউ ক্র্যাক করে ফেলেছেন। এর মধ্যে ছিল DeltaX, Mphasis, Wipro, Tech Mahindra, Revature, Advanced, HCL, Global Logic, Zensar, Infosys-এর মতো প্রথম সারির মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো। এদের মধ্যে অরিজিৎ আপাতত নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন DeltaX কোম্পানিকে।