হাতে নেই কাজ, অভিনয় ছেড়ে কল সেন্টারে মুখ ঝামটা খেয়ে দিন কাটছে অভিনেত্রীর

গয়না বেচে, কল সেন্টারে কাজ করে কোনমতে বেঁচে আছেন, টেলিভিশন অভিনেত্রীর অবস্থা জানলে চোখে জল আসবে

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের আগে পর্যন্ত মোটামুটি বেশ স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছিল জীবন। হাতে ছিল কাজ, টাকারও অভাব ছিল না। তখন স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কয়েক মাসের হেরফেরেই জীবন কতটা বদলে যেতে পারে। করোনা মহামারীর সময় অনেকেরই জীবনে ঘনিয়ে এসেছিল অন্ধকার। হিন্দি টেলিভিশনের (Hindi Telivision) দাপুটে অভিনেত্রী একতা শর্মাকেও (Ekta Sharma) এক চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছিল।

‘ড্যাডি সামঝা করো’, ’কুসুম কিউকি সাস ভি কাভি বহু থি’, ‘কামিনী দামিনী’ এর মতো অসংখ্য ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন একতা। টেলিভিশনে একসময় একচেটিয়াভাবে তিনি কাজ করে গিয়েছেন। তাকে এমন বিপাকে পড়তে হবে এমনটা কেউই স্বপ্নে ভাবেননি। অথচ কাজের অভাবে অভিনয় ছেড়ে সেই অভিনেত্রীকেই আলাদা পেশা বেছে নিতে হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরেছেন একতা। পরবর্তীকালে সবকিছু স্বাভাবিক হলেও একতাকে সাহায্য করেনি কেউ। তিনি তার সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। কিন্তু কেউই তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। অগত্যা অভিনয় ছেড়ে গয়না বিক্রি করেছেন। কাজের অভাবে এখন তিনি কল সেন্টারে কাজ করছেন।

সম্প্রতি এই নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছিলেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “আমি একজন শিক্ষিত মহিলা। বাড়িতে বসে কান্নাকাটি করার চেয়ে বাইরে গিয়ে রোজগার করাই বেশি শ্রেয় মনে হয়েছে। আমি সম্মানজনক একটি কাজ করি। তার জন্য আমি গর্বিত।” আপাতত এভাবেই জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছেন হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

যখন তার হাতে কাজ ছিল না, তখন সংসার চালাতে তিনি নিজের গয়নাও বিক্রি করেছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন এক বছর পরে হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ভাবনার সঙ্গে বাস্তবের অনেক ফারাক। একতা বলেছেন, ‘বাইরে গিয়ে কাজ করার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। আগে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছি। ডায়েট খাবার খেতাম, আমাকে সাহায্য করার জন্য স্পটবয়রা থাকত। এখন ক্ষিপ্ত গ্রাহকদের সঙ্গেও কথা বলতে হয়। আমার জীবন বদলে গিয়েছে”।

জীবনের এই বদলটা সহজ ছিল না। অভিনয় ছেড়ে অন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও ছিল কঠিন। তবুও ঝুঁকি নিয়েছেন একতা। লকডাউনের আগে ‘বেপানহা পেয়ার’ ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়েছেন প্রায় দুই দশক। তবুও এই ইন্ডাস্ট্রিই আজ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তার থেকে। এখন আর কেউ তার খোঁজও নেয় না।