এবার ঘুরে দাঁড়াবে টলিউড, মুক্তি পেল দেবের নতুন ছবি ‘বাঘাযতীন’এর ট্রেলার

দেবের হাত ধরেই ঘুরে দাঁড়াবে টলিউড, মুক্তি পেল নতুন ছবি ‘বাঘাযতীন’ এর ট্রেলার

ইংরেজদের হাত থেকে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর কেটে গিয়েছে ৭৫ টা বছর। ৭৬ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে যেন উৎসবের আমেজ রয়েছে এখনও। যাদের জন্য আজ এই উৎসব পালন করছে গোটা ভারত সেই সমস্ত বিপ্লবী, ভারত মায়ের বীর সন্তানদের অবদান অপরিমেয়। দেশের জন্য যারা নিজেদের প্রাণ হাসিমুখে বিসর্জন দিয়েছিলেন, তাদেরই একজন ছিলেন বাঘাযতীন (Bagha Jatin)।

স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন ছিলেন একজন অসমসাহসী দেশভক্ত এবং বিপ্লবী। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য তার অবদান ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তার মধ্যে প্রবল জাতীয়তাবোধ এবং দৃঢ় আত্মমর্যাদা ছিল যা প্রভাবিত করেছিল সমকালীন সময়ের অন্যান্য বিপ্লবীদেরও। তার জীবন নিয়েই আসছে দেবের (Dev) নতুন ছবি বাঘাযতীন।

যতীন ওরফে যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বীরগাথা আজও বাংলার মানুষের মুখে মুখে ফেরে। শোনা যায় তিনি নাকি শুধু একটা ছুরি সাহায্যে একাই একটি আস্ত বাঘ মেরে ফেলেছিলেন! এরপরই তার নাম হয়ে ওঠে ‘বাঘাযতীন’। তিনি ছিলেন ইংরেজদেরও ত্রাস। ইংরেজ শোষণের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে একজন সৈনিক হিসেবে জীবন বলিদান দিয়েছিলেন বাঘাযতীন।

তার জীবনের গল্পটাই এবার আরও একবার ফুটে উঠবে পর্দাতে। টলিউড অভিনেতা দেব বাঘাযতীনকে নিয়ে একটি নতুন ছবি আনার পরিকল্পনা করেছেন। ‘কিশমিশ’ ছবির পর ‘বাঘাযতীন’ ছবির কাজে হাত দিয়েছেন তিনি। এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকাতে থাকবেন তিনিই। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ছবিটির ফার্স্ট লুক। ছবির ফার্স্ট লুক দেখলেই শিহরিত হতে হয়। দেবের ভক্তদের অনুমান আসন্ন এই ছবিটি টলিউডে হিট হবেই।

‘বাঘাযতীন’ ছবির ফার্স্ট লুক প্রকাশ্যে এনে দেব সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “যতীন মুখার্জী হয় মারে, না হয় মরে, ধরা দেয় না। ৭৫ তম স্বাধীনতার এই মহোৎসবে উন্মোচিত হবে এক বাঙালির বীরগাথা। বাংলার বীর – বাঘাযতীন।” ছবিটি পরিচালনা করেছেন অরুণ রায়। ছবির প্রযোজনা করেছেন দেব নিজেই। ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন বাঘাযতীন।

পুলিশের হাতে ধরা পড়াতেও ভয় ছিল না তার। তার কথায়, “আর পালানো নয়। যুদ্ধ করে আমরা মরব। তাতেই দেশ জাগবে”। বুড়িবালামের যুদ্ধে প্রকাশ্য সমরে যখন গুরুতর আহত হয়ে পুলিশের হাতে তিনি ধরা পড়েন তখন মৃত্যু খুব কাছে ঘনিয়ে এসেছিল তার। হাসপাতালে রক্তবমি হতে হতে মৃত্যুর আগে তিনি শুধু একটি কথাই বলেছিলেন, “এত রক্ত ছিল শরীরে? ভাগ্যক্রমে, প্রতিটি বিন্দু অর্পণ করে গেলাম দেশমাতার চরণে”।