সামান্য অটোচালক থেকে কমেডিয়ান, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনের সঙ্গে শত্রুতা, রাজু শ্রীবাস্তবের জীবন যেন সিনেমা

সামান্য অটোচালক থেকে দেশের সেরা কমেডিয়ান, পাকিস্তান থেকে এসেছিল খুনের হুমকি, রাজু শ্রীবাস্তবের জীবন যেন সিনেমা

মাত্র ৫৮ বছর বয়সেই প্রয়াত হলেন হাসির জাদুকর। কোটি কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে শেষ বিদায় নিলেন রাজু শ্রীবাস্তব (Raju Srivastava)। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত দেড় মাস তিনি দিল্লির এইমস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হৃদরোগে শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। মাঝে তার অবস্থার উন্নতি হলেও মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন রাজু।

তার জন্ম হয়েছিল ১৯৬৩ সালে উত্তর প্রদেশের কানপুরে। রাজুর বাবা রমেশ চন্দ্র শ্রীবাস্তব ছিলেন একজন কবি। তিনি ছেলের নাম রেখেছিলেন সত্য প্রকাশ শ্রীবাস্তব। পরে অবশ্য ডাকনামেই বেশি জনপ্রিয়তা পান রাজু। ছোট থেকেই বড় বড় তারকাদের গলা নকল করতে পারতেন তিনি। তার এই প্রতিভা তাকে এলাকায় জনপ্রিয় করে তোলে। তখন থেকেই তিনি কৌতুকশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

যতদিন যেতে থাকে, রাজু কৌতুকশিল্পী হিসেবে তত বেশিই জনপ্রিয়তা পেতে থাকেন। তবে তিনি বেশ বুঝে নিয়েছিলেন কানপুরে পড়ে থাকলে তার প্রতিভা যথাযোগ্য সম্মান পাবে না। তাই মুম্বাইয়ে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেইমত দুচোখে অনেক স্বপ্ন নিয়ে রাজু চলে আসেন মুম্বাইতে। প্রথম প্রথম মুম্বাইতে তাকে অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছিল। বাড়ি থেকে যেটুকু টাকা আনতে পেরেছিলেন, তাও ফুরিয়ে যায়। চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয় তাকে।

এই সময় রাজুর দুচোখের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হওয়ার স্বপ্নটা কোথাও যেন গিয়ে ঝাপসা হতে শুরু করে। পরিস্থিতি তখন এমন হয়ে ছিল যে নিজের খরচ চালানোর জন্য তাকে অটোর স্টিয়ারিং হাতে ধরতে হয়েছিল। ছোটখাটো অনুষ্ঠান করে তিনি তার স্বপ্নটাকে কোনওভাবে বাঁচিয়ে রাখছিলেন। আর দিনরাত অটো চালিয়ে নিজের খরচ চালাতেন। জীবনে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে তার প্রথম পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ৫০ টাকা। ওই সময়টাতে তিনি জনি লিভারকে দেখে নিজের মনকে প্রবোধ দিতেন বলে জানিয়েছিলেন একটি সাক্ষাৎকারে।

একদিন একটি হাস্যকৌতুক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান তিনি। এখান থেকে তিনি এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন যে তাকে আর ঘুরে তাকাতে হয়নি। দিদি ন্যাশনালের বিখ্যাত কৌতুক অনুষ্ঠান ‘টি টাইম মনোরঞ্জন’ থেকে শুরু করে ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’-এ অংশগ্রহণ করেন রাজু। দিনে দিনে বাড়তে থাকে তার জনপ্রিয়তা। খুব তাড়াতাড়িই তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকদের ঘরের ছেলে।

তবে শুধু স্টেজ নয়, সেই সঙ্গে বলিউডের বিভিন্ন ছবিতেও তিনি অভিনয় করার সুযোগ পান। ‘তেজাব’, ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’, ‘বাজিগর’ এর মত অসংখ্য ছবিতে ছোটখাটো চরিত্র করতেন রাজু। সেই সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পাকিস্তান এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমকে নিয়ে কৌতুক পরিবেশন করার জন্য খুনের হুমকিও পেতে হয়েছিল রাজুকে।

এই সব কিছুর মাঝেই ১৯৯৩ সালে তিনি বিয়ে করেন তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকাকে। তাদের দুই সন্তান রয়েছে অন্তরা এবং আয়ুষ্মান। কৌতুক অভিনেতা রাজু ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির হয়ে কানপুর থেকে প্রার্থী হন। পরে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে মনোনীত করেছিলেন। দেশের বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে তিনি পরিচ্ছন্ন ভারত গড়ে তোলার জন্য প্রচার চালাতেন।