দর্শকদের বিচারে বাংলার ৪ সেরা সিরিয়াল, বহু বছর পরও যাদের কমেনি জনপ্রিয়তা

দর্শকদের বিচারে সর্ব কালের সেরা ৪ এভারগ্রিন বাংলা সিরিয়াল

পরকীয়া, কুটকাচালি আর সাংসারিক অশান্তি, এই নিয়েই হল বাংলা সিরিয়াল (Bengali Mega Serial)। ধারাবাহিকের পরপর চমক আনতে ও টিআরপি বাড়াতে দর্শকদের সামনে রুচিহীন গল্প পরিবেশন করছেন সিরিয়ালের নির্মাতারা, এই অভিযোগ করেন বহু দর্শক। তবে আজও দর্শকদের মনের মণিকোঠায় রয়ে গিয়েছে এমন চারটি ‌ ধারাবাহিক যার জনপ্রিয়তা বহু বছর ধরে একইরকম রয়ে গিয়েছে। এক নজরে দেখে নিন দর্শকদের বিচারে সেরা বাংলা ধারাবাহিক কোনগুলো (Best Four Bengali Mega Serial)।

ওগো বধূ সুন্দরী (Ogo Bodhu Sundori) : স্টার জলসার এই একটি ধারাবাহিক ছিল যেখানে শাশুড়ি-বৌমার অশান্তি বা কুটক্যাচাল নয়, দুজনের মাঝে এক মিষ্টি সম্পর্ককে তুলে ধরা হয়েছিল। একান্নবর্তী পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন দর্শকরা। তার উপর আবার মা হারা বদ মেজাজি, রাগী, ধনী বাপের দুলালী কিভাবে শ্বশুরবাড়িতে এসে শাশুড়ির স্নেহের পরশ পেয়ে বদলে যায় সেই গল্প ছিল দারুণ আকর্ষণীয়। বৌমা মেয়ে হতে পারে না, বা শাশুড়ি কখনও মা হতে পারেন না, এই ধ্যানধারণা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছিল ওগো বধূ সুন্দরী।

সুবর্ণলতা (Subarnalata) : জি বাংলার এই ধারাবাহিকটি আশাপূর্ণা দেবীর লেখা ট্রিলজী উপন্যাসের দ্বিতীয় খন্ড ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এক ঘরোয়া গৃহবধুর সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সাহস এবং চিরাচরিত অবান্তর ধ্যান-ধারণা বিপক্ষে প্রতিবাদী ভাবভঙ্গি দর্শকের দারুণ পছন্দ হয়। সুবর্ণলতা বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে এক অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক হয়ে থেকে যাবে আজীবন।

বোঝে না সে বোঝে না (Bojhe Na Se Bojhe Na) : হাসি খুশি মেয়ে পাখি কিভাবে রাগী বদমেজাজি অরণ্য সিংহ রায়ের জীবন বদলে দেয় সেই গল্পটা আজ এত বছর বাদেও দর্শকদের মনে আছে। মধুমিতা সরকার এবং যশ দাশগুপ্তের কেমিস্ট্রিটা সর্বোপরি দারুণ ছিল। বাংলা ধারাবাহিকের প্রসঙ্গ উঠলেই দর্শকরা নিঃসন্দেহে এই ধারাবাহিকটিকে দশে দশ দেবেন।

কিরণমালা (Kiranmala) : রূপকথা নির্ভর এই ধারাবাহিকটিও ৮ থেকে ৮০ সকলের দারুণ পছন্দ হয়। আসলে সকলের জানা ছোটবেলার গল্পটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যাতে শুধু ছোটরা নয়, বড়রাও এতে খুঁজে পান ভরপুর বিনোদন। ‘কটকটি’, ‘প্যাকাটি’দের সঙ্গে রাজকুমারী কিরণমালার সংঘর্ষের মধ্যে কার্যত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির লড়াইয়ের বার্তা ছিল। এই ধারাবাহিকের মাধ্যমেই তুমুল জনপ্রিয়তা পান অভিনেত্রী রুকমা রায়।