মুসলিম হয়ে ‘নকল হিন্দু’ সেজেছেন কেন, ভিডিও দেখে নুসরাতকে ধুয়ে দিলেন নেটিজেনরা

আলতা রাঙানো পা, হাতে পদ্ম, দুর্গা সাজে নুসরাতের ভিডিও নিয়ে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

মহালয়ার (Mahalaya) সঙ্গে সঙ্গেই সূচনা হল দেবীপক্ষের। বাতাসের গন্ধ জানান দিচ্ছে পুজো এসে গেল। মহালয়ার দিন সকালে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুভেচ্ছা বার্তা হাজির হলেন টলিউড অভিনেত্রী নুসরাত জাহানও (Nusrat Jahan)। জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে শাড়ি-আলতায় খাঁটি বাঙালির সাজে সেজে নায়িকা হাজির হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। তবে শুভেচ্ছার বিনিময়ে তিনি পেলেন শুধুই কটুক্তি।

এদিন লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, পিঠখোলা ব্লাউজ আর এলো চুলে পুরুষ ভক্তদের বুকের ধুকপুকানি বাড়িয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন নুসরাত। আলতা রাঙানো দুই পা, রাঙা হাতে ধরা পদ্মফুল, ক্যামেরার সামনে এভাবেই পোজ দিয়ে সকলকে শুভ মহালয়া জানিয়ে আগমনীর শুভেচ্ছা জানান নুসরাত।

বসিরহাটে তারকা সাংসদ বরাবর এমনটাই করে এসেছেন। তিনি মুসলিম হতে পারেন, তবে তার প্রাক্তন এবং বর্তমান স্বামী কিন্তু হিন্দু। নুসরাত সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে উৎসব পালন করেন। তার কথায়, ‘ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার’। তাই তো তিনি যেমন ঈদে রোজা রাখেন, তেমন আবার অষ্টমীতেও পুজোর অঞ্জলি দেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে এর জন্য কিন্তু হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের থেকেই কটুক্তি শুনতে হয় তাকে।

এবারেও কার্যত তার অন্যথা হল না। সোশ্যাল মিডিয়াতে মহালয়ার শুভেচ্ছা জানাতে এসে আবারও অপমানিত হলেন তিনি। নুসরাতকে উদ্দেশ্য করে কেউ লিখলেন, ‘‘তোমার নরকেও ঠাঁই হবে না। আল্লাহর অপমান করছো।” হিন্দুরা লিখলেন, “নকল হিন্দু সেজে সনাতন ধর্মকে ছোট করা, ন্যাকামি।” কেউ কেউ আবার নুসরাতকে তার মোটা ঠোঁটের জন্যেও কটাক্ষ শানিয়েছেন এখানেও।

উল্লেখ্য এদিন বাওয়ালি রাজবাড়িতে আগমনী স্পেশাল ফটোশুট করতে গিয়েছিলেন নুসরাত। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কখনও তিনি নিজেকে কাজল এবং লাল টিপ দিয়ে যত্ন করে সাজাচ্ছেন। কখনও আবার পুকুর পাড়ে বসে পায়ে নুপুর পড়ছেন নুসরাত। একইসঙ্গে অন্য এক শিল্পীকে দেখা যাচ্ছে তিনি খুব যত্ন সহকারে মায়ের মৃন্ময়ী রূপ গড়ছেন। নেপথ্যে বাজছে ‘বাজলো তোমার আলোর বেণু’।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Nusrat J Ruhii (@nusratchirps)

তবে নুসরাতের ভক্তরা কিন্তু এই ভিডিওর জন্য তাকে ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। তারা বলছেন অভিনেত্রীকে খুবই সুন্দর লাগছে এই বেশে। নীতি পুলিশরা যতই ট্রোল করুন না কেন, নুসরাত কখনও সেসব গায়ে মাখেন না। তিনি মনে করেন মানুষ হিসেবে একে অপরকে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা আছে। ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদের তুলনায় সেটাই সব থেকে বেশি জরুরী।