বাবার স্মৃতির বেদনায় বিদ্ধ ছেলে, শাশ্বতর লেখা কবিতায় নেটিজেনদের চোখে জল

Riya Chatterjee

Published on:

বাবা এবং ছেলে, দুই প্রজন্মের টলিউড (Tollywood) স্টার। বাবা ছিলেন শুভেন্দু চ্যাটার্জী (Subhendu Chatterjee)। এই হ্যান্ডসাম সুপুরুষ বেশ কয়েক দশক অভিনয় করে আজীবনের জন্য থেকে গিয়েছেন দর্শকদের মনের মাঝে। তার ছেলে শাশ্বত চ্যাটার্জীও (Saswata Chatterjee) টলিউড-বলিউড রাজত্ব করছেন। বাবা চলে যাওয়ার পর কেটে গিয়েছে ১৫টি বছর। হয়তো টলিউডে এখন আর তাকে নিয়ে সেরকম চর্চা হয় না। তবে ছেলের মন বাবার স্মৃতিতে ভারাক্রান্ত।

বাবার হাত ধরেই অভিনয় জগতে আসা। বাবাই ছিলেন অনুপ্রেরণা। বাবার কাছে অভিনয়ের হাতেখড়ি নিয়ে আজ ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির নামকরা অভিনেতা হতে পেরেছেন তিনি। বাবা ছিলেন শিল্পী। ডাক্তারি পাশ করেও অভিনয়ের টানে ছেড়েছিলেন নিশ্চিত চাকরি। তারপর থেকে টলিউডে তার পথ চলার শুরু। দীর্ঘ কয়েক দশকে বহু মানুষকে কখনও হাসিয়ে, কখনও রাগিয়ে, কখনও বা কাঁদিয়েছেন অভিনয়গুণে। সেই মানুষটিই আর পৃথিবীতে নেই।

১৫ বছর আগে বাবাকে হারিয়ে প্রয়াত বাবার উদ্দেশ্যে একটি কবিতা লিখেছিলেন শাশ্বত। সেই কবিতায় আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। ফেসবুক স্ক্রলিংরত নেটিজেনদের আঙ্গুল থামাতে বাধ্য করছে শাশ্বতর এই পোস্ট। কবিতাটি শেয়ার করে শাশ্বত ক্যাপশনে লিখেছেন, “প্রায় ১৫ বছর হতে চলল বাপি চলে গেছেন। সেই সময়, ২০০৭ সাল নাগাদ বাপির জন্য আমি কয়েকটি লাইন লিখি। সেই লেখা কোথায় যেন, বই-এর পাতার মধ্যে হারিয়ে যায়। হঠাৎ করে সেদিন সেই লেখাটা খুঁজে পেলাম। ভাবলাম, আপনাদের সাথে আমার এই স্মৃতিটা ভাগ করে নি”।

শুভেন্দু চ্যাটার্জীকে উদ্দেশ্য করে শাশ্বত লিখলেন :-

‘বাপি তুমি কার, আমার না সবার?

বাপি বলল দূর বোকা, আমি শিল্পী,

শিল্পী কি কারো একার?

যে ভালবাসবে আমি তার…

পাশ করেও ছেড়েছি ডাক্তারী,

করেছি মানুষের মনে সার্জারী,

কখনও হাসিয়ে কখনও কাঁদিয়ে

(আজ) করেছি নক্ষত্রলোক পার

শিল্পী কি কারো একার?

যার মন আছে আমি তার…

সব বুঝেছি বাপি, তবু প্রশ্ন জাগে…

বাপি তুমি কার, আমার না সবার?’