বাংলা সিরিয়ালের জন্যেই উচ্ছন্নে যাচ্ছে সমাজ, মিঠাই-ধুলোকণাকে ধুয়ে দিলেন বিপ্লব চ্যাটার্জি

বাংলা সিরিয়ালের জন্য রসাতলে যাচ্ছে সমাজ, মিঠাই-ধুলোকণা দেখে চটে লাল বিপ্লব চ্যাটার্জী

Biplab Chatterjee opens up about Bengali Mega Serials

দেখতে দেখতে জীবনের আরও একটি বছর পার করে ফেললেন। টলিউডের (Tollywood) কুখ্যাত ভিলেন বিপ্লব চ্যাটার্জী (Biplab Chatterjee) শেষ বয়সটা বেশ হেসে খেলেই কাটাচ্ছেন। তবে বাংলা সিরিয়ালের নাম উঠলেই তার মুখ ভার। বর্তমান বাংলা সিরিয়াল নিয়ে তিনি বেজায় হতাশ। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মিঠাই ধুলোকণার মত এই বাংলা সিরিয়ালগুলোই! নাম না নিয়ে এভাবেই ক্ষোভ জাহির করলেন বর্ষিয়ান অভিনেতা।

জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দবাজার অনলাইনে হয়ে কলম ধরেছিলেন বিপ্লব চ্যাটার্জী। সেখানে তিনি জানান বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রি, চ্যানেল থেকে দূরে স্বাভাবিক ছন্দেই কাটছে তার দিনগুলো। জন্মদিনে ইন্ডাস্ট্রির কোনও মানুষই থাকেন না তার অতিথি তালিকায়। ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কিছুটা ক্ষোভও জমা রয়েছে তার মনে।

Biplab-Chatterjee

একটা সময় ছিল যখন লাগাতার পরপর ছবিগুলোতে তাকে ভিলেনের চরিত্রে দেখে দেখে কার্যত বাস্তবেও তাকে তেমনটাই ভাবতে শুরু করেছিলেন দর্শকরা। রাস্তায় তাকে দেখলে ছুটে পালাত ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। এখন নিজেকে চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী করে নাটকের চিত্রনাট্য লেখেন।

তবে পুরনো সেই সোনালী দিনের কথা ভাবলে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েন তিনি। চ্যানেলের জন্যও চিত্রনাট্য লিখে জমা দিয়েছিলেন। তবে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে এই বলে যে শিক্ষামূলক কোনও কিছু দেখানো হবে না ধারাবাহিকে। সেই জায়গায় দেখানো হচ্ছে কুটকাচালি, পরকিয়া! এসব দেখে সহ্য করতে পারেন না তিনি।

Biplab-Chatterjee

বিপ্লব চ্যাটার্জি তার লেখনীতে প্রশ্ন রেখেছেন, “ইদানীং ধারাবাহিকে দেখি, মা মেয়েকে বিচ্ছেদের পরামর্শ দিচ্ছেন! মেয়ে সেটা মেনেও নিচ্ছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষেরও এ সব দেখাতে কোনও আপত্তি নেই। চুপচাপ দেখছি আর ভাবছি, আর কত উচ্ছন্নে যাবে সমাজ? আর কত রসাতলে যাবে?”

তিনি আরও লিখেছেন, “এক এক সময়ে মনে হয়, আমারই বা আর বেঁচে থেকে লাভ কী? বেঁচে থাকা মানেই বসে বসে অবক্ষয় দেখা। সমাজ, রাজনীতি, চেতনা, শিল্প-সংস্কৃতি— সব কিছুর অবক্ষয়। এ বার বোধহয় বিদায় নেওয়াই ভাল। অন্যায় দেখতে পারি না। স্পষ্ট প্রতিবাদ জানাই। তার পরেই সবার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি।” আক্ষেপ ঝরে পরেছে তার গলায়।