কথা না বলে শুধুমাত্র এক্সপ্রেশন দিয়েই সুপারস্টার, জনপ্রিয়তায় চার্লি চ্যাপলিনকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে খাবি

কোনও কথা না বলেই সুপারস্টার, জনপ্রিয়তায় চার্লি চ্যাপলিনকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে খাবি লেম

এ এক অন্য চার্লি চ্যাপলিনের গল্প। লন্ডনের চার্লি তার উদ্ভট কার্যকলাপ এবং চোখের এক্সপ্রেশন দিয়ে লোক হাসাতেন। আজ প্রায় ১০০ বছর পেরিয়েও তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। ইতালির চার্লি ওরফ খাবি লেমও (Khaby Lame) কথা না বলে স্রেফ মুখের এক্সপ্রেশন দিয়ে কোটি কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে তার জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে।

মাত্র ২২ বছর বয়সেই ২০ কোটি ফলোয়ার্স রয়েছে তার! যে কোনও সহজ পদ্ধতিকে অযথা জটিল করে তুলে ভিডিও বানিয়ে আজ টিকটকের অনেক বড় স্টার তিনি। যেমন ধরুন খোসা না ছাড়িয়ে কলা খাওয়ার পদ্ধতি! যেখানে ছুরি এবং নানা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অযথা কষ্ট করে কলার খোসা ছাড়ানো হয়। তার এই ভিডিও কিন্তু কোটি কোটি ভিউ পেয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।

এই ধরনের নানা মজার লাইফ হ্যাকস ভিডিওতে ঠাসা তার প্রোফাইল। তার কাজই হল সহজ সরল কাজগুলোকে জটিল করে তোলা। লকডাউন চলাকালীন তার এই ভিডিওগুলিই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ঘরবন্দি মানুষকে হেসে খেলে বাঁচতে শিখিয়েছে।

তবে যে মানুষটা সকল বিপর্যস্ত মানুষের জীবনে হাস্যরস ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি নিজেই ছিলেন নানা সমস্যায় জর্জরিত। ছোট থেকেই ডিসলেক্সিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন খাবি‌। স্কুল-কলেজের পড়াশোনাটাও শেষ করতে পারেননি। তার বয়স যখন এক বছর তখন সেনেগাল থেকে তার পরিবার তাকে নিয়ে ইতালিতে চলে আসে।

খাবি প্রথম জীবনে কখনও কারখানাতে কখনও হোটেলের কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তখন তার মাসিক বেতন হাজার ডলারের বেশি ছিল না। এরই মধ্যে আবার ২০২০ সালে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু খাবি ভেঙে পড়েননি। উল্টে তিনি সেই সময় মজার ভিডিও বানিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করতে শুরু করেন।

খাবি যখন প্রথম তার ভিডিও শেয়ার করেছিলেন তখন প্রথম মাসে তার ভিউ হয়েছিল মাত্র ৯টি। কেবল দুইজন মানুষ সাবস্ক্রাইব করেছিলেন তাকে। এরপর তিনি নিয়মিত ভিডিও বানাতে শুরু করেন। এমনটা করতে করতেই বিপুল দর্শকের কাছাকাছি পৌঁছে যায় তার ভিডিও। আজ সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন তার অনুরাগীরা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভালে বিশেষ অতিথি হিসেবে তার ডাক পড়ে। ইডি শীরান, লিওনেল মেসির সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। তিনি যখন সেনেগাল থেকে ইতালিতে আসেন তখন তার কাছে নাগরিকত্ব ছিল না। তবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর ২০২২ সালের ২৪শে জুন ইতালি সরকার তাকে নাগরিকত্ব দিয়েছে। জনপ্রিয়তার বিচারের খাবি চার্লি দি অ্যামিলিও, যার টিকটকে অনুরাগীর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ তাকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন। আজ তিনি টিকটকের দুনিয়াতে সুপারহিরো হিসেবে বিবেচিত হন।