শাহরুখ খানের বাবা দেশের কনিষ্ঠতম স্বাধীনতা সংগ্রামী, দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন প্রাণ

শাহরুখের বাবা দেশের ‘কনিষ্ঠতম স্বাধীনতা সংগ্রামী’, ছেলেকে দিয়েছিলেন এই মূল্যবান পরামর্শ

বলিউডের (Bollywood) ইতিহাসের শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) অবদান অনেক। বলিউডের বেতাজ বাদশা একটার পর একটা হিট ছবি দিয়ে হয়েছেন কিং অফ বলিউড। তবে জানেন কি দেশের স্বাধীনতাতে শাহরুখের পরিবারের রয়েছে বিশেষ হাত? শাহরুখ খানের বাবা কে ছিলেন জানেন? তিনি ছিলেন উপনিবেশিক ভারতবর্ষের একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী।

শাহরুখের বাবা তাজ মহম্মদ খান ছিলেন দেশের ‘কনিষ্ঠতম স্বাধীনতা সংগ্রামী’। একবার একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে বাবাকে নিয়ে মুখ খুলেছিলেন শাহরুখ। ২০০ বছর কষ্ট করে পাওয়া স্বাধীনতা নিয়ে ছেলেকে অতি মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে ফরিদা জালালকে সেই বিষয়ে জানিয়েও ছিলেন কিং খান।

শাহরুখের বাবা প্রয়াত তাজ মহম্মদ খান পেশোয়ার থেকে এসেছিলেন ভারতে। শাহরুখের বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর, তখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। শাহরুখের মা লতিফ ফাতিমা খানও দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে ১৯৯০ সালে প্রয়াত হন। শাহরুখের পরিবারের সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সাক্ষাৎকারে সেই বিষয়ে অকপট হয়েছিলেন শাহরুখ।

ফরিদা জালাল শাহরুখের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন, “আপনার পরিবারের বড়দের এই দেশের রাজনীতির সঙ্গে খুবই শ্রদ্ধেয় এবং সম্মানজনক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনি কী বলতে চান?’’ উত্তরে শাহরুখ বলেন, ‘‘আমার পরিবার বিশেষ করে আমার বাবা, আমরা সকলেই সেই সময়ের (স্বাধীনতা-পূর্ব ভারত) দেশের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। কারণ আমার বাবা নিজে ছিলেন এই দেশের সর্বকনিষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং জেনারেল শাহনওয়াজের মতো লোকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর।’’

ছোটবেলায় বাবার থেকে স্বাধীনতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও পেয়েছিলেন তিনি। শাহরুখ বলেন তখন তার বাবা তাকে বলতেন, ‘‘স্বাধীনতাকে কখনই তাচ্ছিল্য ভাবে গ্রহণ করা উচিত নয়। আমরা তোমাদের এটা দিয়েছি তাই সর্বদা এই স্বাধীনতা বজায় রেখো।”

শাহরুখ আরও বলেছেন, “সেই সময়ে, আমি সত্যিই মনে করতাম যে স্বাধীনতা বলতে তিনি একটি বিদেশী শাসন বা অন্য কিছু থেকে বোঝাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন বড় হওয়ার পরে বুঝতে পেরেছি, তিনি যে স্বাধীনতার কথা বলছেন তা হয়তো দারিদ্রের পরিপ্রেক্ষিতে, দুঃখ থেকে মুক্তি।’’