নিয়তির কাছে হেরে গেল ভালবাসা, ঐন্দ্রিলাকে আদর-চুম্বনে ভরিয়ে শেষবিদায় দিলেন সব্যসাচী

ঐন্দ্রিলাকে শেষবারের মত আদর চুম্বনে ভরিয়ে দিলেন সব্যসাচী, চোখের জলে আঁকলেন বিদায়ের আল্পনা

Sabyasachi Chowdhury's last goodbye kiss to Aindrila Sharma before her funeral video

জীবনের শেষ দিনটা পর্যন্ত একে অপরের হাত ধরে থাকার কথা দিয়েছিলেন তারা। ভালবাসার মানুষটাকে পরপর ২ বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে বিশ্বাসটা যেন আরও দৃঢ় হয়েছিল। সব্যসাচী চৌধুরী (Sabyasachi Chowdhury) ভেবেছিলেন এবারেও তিনি ঠিকই তার ঐন্দ্রিলাকে (Aindrila Sharma) ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। নিয়তির কাছে অসহায় ভালবাসা, সব্যসাচীকে চিরতরে একা করে বিদায় নিলেন ঐন্দ্রিলা।

রাখে বড়মা তো মারে কে? এই বিশ্বাসের উপর ভর করে ঐন্দ্রিলাকে নিজে হাতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন সব্যসাচী। তবে ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে তার আর ঘরে ফেরা হল না। একসাথে ঘর বাঁধার স্বপ্নটা রবিবার দুপুর ১২.৫৯ মিনিট নাগাদ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। ঐন্দ্রিলাকে বিদায় জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। ভালবাসার মানুষকে হারিয়ে শান্ত-স্তব্ধ ছিলেন সব্যসাচী।

পরনে কাল রঙের টিশার্ট, মুখে এক গাল দাঁড়ি, মাথার চুল উস্কোখুস্কো, চোখে-মুখে বিধ্বস্ততার ছাপ সুস্পষ্ট। যেন এক রাতের মধ্যে তার গোটা পৃথিবীটা উল্টে গিয়েছে। আর মাত্র কিছুক্ষণ পরেই ঐন্দ্রিলার নিথর দেহটা পঞ্চভূতে বিলীন হবে। তার ঠিক আগের একটি ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘুরপাক খাচ্ছে। মনের মানুষকে শেষবার ছুঁয়ে দেখছেন সব্যসাচী, নিজের হাতে কপালে চন্দন পরিয়ে দিচ্ছেন।

সব্যসাচী-ঐন্দ্রিলার এই শেষ ভিডিও দেখে চোখের জল বাঁধ মানছে না নেটিজেনদের। দেখা গেল ঐন্দ্রিলার নিথর দেহ মাটিতে শোয়ানো। তার পাশে বসে রয়েছেন সব্যসাচী। সযত্নে কপালে চন্দন পরিয়ে দিলেন, শেষ বিদায় জানানোর আগে ঐন্দ্রিলার দুই পা ছুঁয়ে চুম্বন করলেন। চিরতরে বিদায় জানানোর আগে এটাই শেষ চুম্বন। এই দৃশ্য দেখে কাঁদছে গোটা বাংলা।

রবিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে ঐন্দ্রিলার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এদিন তাকে শেষ বিদায় জানাতে টলিউড থেকে অনেকেই এসেছিলেন। অভিনেত্রীর শেষ যাত্রায় এই লোকে লোকারণ্য ছিল কেওড়াতলা মহাশ্মশান। তবে এত লোকের মাঝেও একা সব্যসাচী। তিনি গলা ফাটিয়ে কাঁদছেন না, শুধু শান্ত চোখে চেয়ে শেষ বিদায় দিলেন কাছের মানুষটাকে।

ঐন্দ্রিলাকে হারিয়ে যেন পাথর হয়ে গিয়েছেন। সারাদিনে খাননি কিছুই, এমনকি ঐন্দ্রিলা যে কটা দিন হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন একটা মুহূর্তের জন্যও তাকে নজরের বাইরে যেতে দেননি সব্যসাচী। শুধু ম্যাগি খেয়ে পেট ভরিয়েছেন। সবসময় এক মনে প্রার্থনা করেছেন। ঐন্দ্রিলা আর ফিরবেন না, এক মুহূর্তের জন্যেও তা বিশ্বাস করতে চাননি। সব্যসাচীকে কঠিন বাস্তবের মধ্যে ফেলে তার থেকে অনেক দূরে চলে গেলেন ঐন্দ্রিলা।