প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে! এই একটি কারনেই হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছেন মহেশ ভাট

প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই আলিয়ার মাকে বিয়ে করেছিলেন মহেশ, নিতে হয়েছিল ইসলাম ধর্ম

বিয়ের ৩৬ বছর পূর্ণ করলেন মহেশ ভাট ও সোনি রাজদান। তবে মহেশ ভাট ও সোনি রাজদানের বিয়ে নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। মহেশ ভাট (Mahesh Bhatt) এবং সোনি রাজদানের (Soni Razdan) প্রেম এবং বিয়ের প্রসঙ্গও কিন্তু একসময় বলিউডের লাইমলাইট কেড়েছিল। আজ এত বছর বাদে ফিরে দেখুন এই জুটির সম্পর্কের শুরুর দিনগুলো।

সোনি রাজদান মহেশ ভাটের দ্বিতীয় স্ত্রী। মহেশের প্রথম স্ত্রীর নাম লরেন ব্রাইট ওরফে কিরণ ভাট। বিবাহিত মহেশ তৎকালীন সময়ের অভিনেত্রী সোনির প্রেমে পড়েছিলেন। ৮০ এর দশকে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সোনিকে বিয়ে করার জন্য কিরণকে ডিভোর্স দেননি মহেশ। হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে এক পুরুষ প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন না। তাই ধর্ম পরিবর্তন করতে হয়েছিল মহেশ ভাটকে।

দ্বিতীয়বার বিয়ে করার জন্য নিজের মায়ের ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করে নেন মহেশ। এরপরে আর সোনিকে বিয়ে করতে তার কোনও বাধা রইল না। তারপর থেকে দীর্ঘ ৩৬ বছর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছেন সোনি এবং মহেশ। মহেশ ভাট কখনো নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে লুকোছাপা করেননি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি অকপট থেকেছেন। একবার হিন্দুস্থান টাইমসে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মহেশ নিজেকে শিরিন মোহাম্মদ আলির ‘অবৈধ সন্তান’ বলে উল্লেখ করেন!

mahesh bhatt and lorraine bright

মহেশের মা শিরিন আলি ছিলেন গুজরাটি অভিনেত্রী। মহেশের বাবা নানাভাই ভাটের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৬৮ সালে মহেশ ভাট প্রথম বিয়ে করেন। তার স্ত্রী লরেন ব্রাইট বিয়ের পর নিজের নাম পাল্টে কিরণ রেখেছিলেন। ১৯৭২ সালে তাদের প্রথম সন্তান পূজা ভাট এবং ১৯৮২ সালে তাদের দ্বিতীয় সন্তান রাহুল ভাটের জন্ম হয়। কিরণের সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীনই বলিউড অভিনেত্রী পারভিন ববির সঙ্গে মহেশের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু পারভিন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ মুহূর্তে তার সঙ্গ ছেড়ে দেন মহেশ।

মহেশ ভাট এবং সোনি রাজদানেরও দুই সন্তান, শাহিন ভাট এবং আলিয়া ভাট। প্রথম প্রথম অবশ্য মহেশের দুই পরিবারের মধ্যে তেমন বনিবনা ছিল না। তবে এখন এই দুই পরিবারের ভাইবোনদের মধ্যে দারুণ সখ্যতা। রণবীর-আলিয়ার বিয়ের সময় তার সৎ ভাই রাহুল নিজে বোনের বিয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও একসময় মহেশের প্রথম স্ত্রী এবং পরিবারের প্রতি বিরূপ মনোভাব ছিল সোনি রাজদানের।

একবার একটি সাক্ষাৎকারে আলিয়ার মা সোনি এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘কিছু সময়ের জন্য হয়ত বিরূপ মনোভাব ছিল, হয়ত.. তবে সময়ের সঙ্গে সেটা বদলে গেছে। এখন আমাদের সম্পর্ক অনেক মজবুত, তবে হ্যাঁ, ঝগড়া তো হয়েছে। যখন বিয়ে হয়নি তখন অনেকবার সমস্যা হয়েছে তবে বিয়ের পর পরস্থিতি অনেকটা বদলে গিয়েছে’। আজ তারা সকলে মিলেমিশে থাকেন।