ডিভোর্সের পর বিধ্বস্ত জীবন, ‘মরতেও চেয়েছিলাম’, অকপটে মুখ খুললেন ‘কৃষ্ণকলি’র তিয়াসা

মানসিক অবসাদে বিপর্যস্ত জীবন, মরার কথাও ভাবতেন কৃষ্ণকলির তিয়াসা

টানা একটি বছরের অপেক্ষার পর ছোট পর্দায় আবার ফিরে আসছে নিখিল-শ্যামার জুটি। জি বাংলার (Zee Bangla) ‘কৃষ্ণকলি’ (Krishnokoli) ধারাবাহিকের নায়ক-নায়িকা নীল ভট্টাচার্য (Neel Bhattacharya) এবং তিয়াসা লেপচা (Tiyasha Lepcha) এবার স্টার জলসার নতুন সিরিয়াল ‘বাংলা মিডিয়াম’-এ গাঁটছড়া বেঁধেছেন। তার আগে সংবাদ মাধ্যমের কাছে ব্যক্তিগত জীবনের চড়াই-উৎরাই নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী তিয়াসা লেপচা।

প্রথম সিরিয়ালই দারুণ হিট, এমন ভাগ্য সাধারণত খুব কম জনেরই হয়। তিয়াসার প্রাক্তন স্বামী সুবান রায় ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ। তার হাত ধরেই বাংলা টেলিভিশনের দুনিয়াতে পা রেখেছিলেন তিয়াসা। তার প্রথম সিরিয়াল ‘কৃষ্ণকলি’ প্রায় সাড়ে তিন বছর চলেছিল। কিন্তু তারপরেও ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

Finally Tiyasha Lepcha Opens Up on Her Divorce with Suban Roy

এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই সুবান এবং তিয়াসার ডিভোর্স হয়ে যায়। একে তো ডিভোর্সের কারণে মানসিক চাপ ছিলই, তার উপর আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিদিন তাকে অনেক কটাক্ষ হজম করতে হয়েছে। স্বামীর হাত ধরে অভিনয়ে এসে পরে সেই স্বামীকেই ডিভোর্স দেওয়া নিয়ে তার দিকে উঠেছিল অভিযোগের আঙ্গুল। তার উপর আবার গত এক বছর তার হাতে কাজ ছিল না। সব মিলিয়ে চরম মানসিক অবসাদে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে তার মন।

কখনও কখনও তার এমনও মনে হয়েছে এই জীবন রাখার থেকে মরে যাওয়া ভাল। তার জীবনের এমন অন্ধকার দিকের কথা কজনই বা জানতেন? স্বামীর হাত ধরে অভিনয় আসা নিয়ে যারা তাকে কটাক্ষ করেন ক্রমাগত তাদের উদ্দেশ্যে অভিনেত্রীর জবাব ছোটবেলাতে বাবা-মা সন্তানকে সাইকেল কিনে দেন বটে কিন্তু সন্তানকে নিজের প্রচেষ্টাতেই সাইকেল চালানো শিখতে হয়।

সাইকেল থেকে বারবার পড়ে যাওয়া, ব্যথা পাওয়া, সবটাই সহ্য করতে হয় কিন্তু সন্তানকেই। ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল তিয়াসার সঙ্গে। আজ যে তার এত খ্যাতি, দর্শকদের এত পছন্দের অভিনেত্রী তিনি হয়ে উঠতে পেরেছেন কেবল নিজের প্রতিভার জেরে। তার কাছে এখন রায় পদবীটা অতীত। তিনি চান সকল তাকে তিয়াসা লেপচা বলে ডাকুন বা শুধু তিয়াসাই বলুন। অতীত ঝেড়ে ফেলে এখন নিজের কেরিয়ারের দিকেই লক্ষ্য রাখতে চান তিনি।

অভিনয়ের বাইরেও অভিনেত্রীদের একটা জগৎ থাকে। সেখানে তিনি চোখের জল ফেলেন, সেটা অভিনয় নয়। তিয়াসার কথায় সমাজের একদল মানুষ ফোর-জি ফাইভ-জি ফোন ব্যবহার করলেও তাদের মানসিকতার উন্নতি নেই। এমন মানুষদের এই মানসিকতার কারণেই অনেক দুর্বল মেয়ে তাদের ক্ষতি করে ফেলতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।