শুধু বাবার ছবির হিরোইন হয়েই থেকে গেলেন, কেন আর পর্দায় দেখা যায় না চুমকি চৌধুরীকে?

Riya Chatterjee

Published on:

৯০ এর দশকে যখন টলিউড (Tollywood) কাঁপাচ্ছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেবশ্রী রায়, শতাব্দী সেনদের মত তারকারা, সেই সময় বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী ছিলেন চুমকি চৌধুরীও (Chumki Chowdury)অঞ্জন চৌধুরীর (Anjan Chowdhury) মেয়ে চুমকি চৌধুরী বাবার হাত ধরে এসেছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে। অভিনয় গুনে তিনি জিতে নিয়েছিলেন দর্শকদের মন। কিন্তু আজীবন শুধু বাবার ছবির নায়িকা হয়েই থেকে গেলেন তিনি।

চুমকি চৌধুরী বেশ কয়েক বছর টলিউডে কাজ করেছেন। তার বাবা অবশ্য প্রথমে চাননি মেয়ে অভিনয়ে আসুক। কিন্তু পরে চুমকির অভিনয় প্রতিভা দেখে তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন। তবে মেয়ের প্রতি তার কড়া নির্দেশ ছিল শুধু বাবার ছবি ছাড়া অন্য কোনও প্রযোজক, পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করা যাবে না। চুমকিও বাধ্য মেয়ের মত শুধু অঞ্জন চৌধুরীর সিনেমা করেই সুপারহিট নায়িকা হয়েছিলেন।

ANJAN CHOWDHURY AND CHUMKI CHOWDHURY

চুমকির কাছে একসময় অন্যান্য প্রযোজক এবং পরিচালকদের থেকে অনেক অফার আসত। কিন্তু বাবার কথা রাখতে তিনি সেগুলি ফিরিয়ে দিতেন। সেই সময় চুমকিকে নিয়ে দর্শকমহলে এতটাই মাতামাতি ছিল যে তার ছবির টিকিট ব্ল্যাকে বিক্রি হত। অঞ্জন চৌধুরীর বৌমা সিরিজের মেজ বউ, সেজ বউ সিনেমা করে তিনি অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন।

এহেন একজন সুপারহিট নায়িকার নাকি অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছা ছিল না কখনও। একদিন হঠাৎ করেই বাবার নজরে পড়ে যান তিনি। তখন ‘হীরক জয়ন্তী’ ছবির জন্য নায়িকা খুঁজছিলেন অঞ্জন চৌধুরী। একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন একদিন স্কুল থেকে ফিরেছিলেন তিনি। তাকে দেখে হঠাৎ করেই তার বাবা বলে ওঠেন নায়িকা তো ঘরেই আছে। এভাবেই তার অভিনয় যাত্রা শুরু হয়।

CHUMKI CHOWDHURY

তবে প্রথমবার অভিনয় করতে এসে গলদঘর্ম হতে হয়েছিল চুমকিকে। সংলাপ বলতে গিয়ে তার কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। মেয়ের এমন অবস্থা দেখে চিন্তায় পড়ে যান অঞ্জন চৌধুরী। তিনি আফসোস করে বলেন, “এ কাকে নিয়ে এলাম!” এরপর সেই বাবার হাত ধরেই একের পর এক সুপারহিট ছবির নায়িকা হতে পেরেছিলেন চুমকি। কিন্তু একটা সময় পর তিনি ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে গেলেন।

CHUMKI CHOWDHURY

দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে চুমকি চৌধুরীকে আর কোনও ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায়নি। বাবার ছবির বাইরে ‘মহাসংগ্রাম’ নামের একটি ছবি করেছিলেন তিনি। অঞ্জন চৌধুরী সেই সময় অহরহ পরিচালক প্রযোজকদের ফোন করে মেয়েকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ব্যস্ত করে তুলতেন। তিনি মনে মনে চাইতেন না মেয়ে অন্য কোথাও সিনেমা করুক। আর চুমকিও সংসার করে ভাল জীবনযাপন করতে চেয়েছিলেন। তবে মাঝেমধ্যে অবশ্য এখন সিরিয়ালে অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে।