পরীক্ষায় প্রশ্ন ছিল ‘বিয়ে কী’, উত্তরপত্রে ছাত্রের জবাব দেখে শিক্ষকের মাথায় পড়লো বাজ

Riya Chatterjee

Published on:

পরীক্ষাতে (Exam) অনেক সময় জানা প্রশ্নেরও ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারে না পড়ুয়ারা। আবার অজানা প্রশ্নের মাঝে মাঝে এমন উত্তর দেয় যা দেখে কার্যত শিক্ষকদের চোখ কপালে ওঠে। ইদানিং সোশ্যাল মিডিয়াতে মাঝেমধ্যেই শিক্ষক মহাশয়রা পড়ুয়াদের সেই অদ্ভুত উত্তরগুলি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এবার তৃতীয় শ্রেণীর সোশ্যাল সায়েন্সের (3rd standard social science exam) একটি প্রশ্নের উত্তর ভাইরাল হল সমাজ মাধ্যমে।

তৃতীয় শ্রেণীর সোশ্যাল সায়েন্সের পরীক্ষাতে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিয়ে কী (What is marriage)? এর প্রশ্নের ১০ নম্বরের উত্তর চাওয়া হয়েছিল পড়ুয়াদের থেকে। আসলে ‘বিয়ে’ নামক সামাজিক প্রথা সম্পর্কে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের কী ধরনের ধারণা রয়েছে সেটা বিচার করাই ছিল এই প্রশ্নের উত্তর। এদিকে এই প্রশ্নের জবাবে এক ছাত্র যা লিখেছে তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হল সকলের।

ওই ছাত্রটি লিখেছে, “যখন একটি মেয়েকে তার বাবা-মা বলে যে তুমি এখন বড় হয়ে গিয়েছো। আমরা আর তোমাকে খাওয়াতে পারছি না। যাও, এবার কোনও পুরুষকে খুঁজে নাও যে তোমাকে বিয়ে করে খাওয়াবে। তখন মেয়েটি বেরিয়ে সেই পুরুষের সন্ধান করে। এদিকে বড় হওয়ার পর একটি ছেলেকেও তার বাবা-মাও বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বিয়ে করে ফেরার কথা বলে।”

সে আরও লিখেছে, “সেই ছেলে এবং মেয়ে একে অপরের সঙ্গে দেখা করে এবং যখন একসঙ্গে থাকে তখন তাকে বিয়ে বলে। এরপর তারা যখন উল্টোপাল্টা কাজ করে তখন সন্তানের জন্ম হয়।” এমন উত্তর দেখে শিক্ষকের তো রীতিমত মাথায় হাত। তিনি দশের মধ্যে শূন্য বসিয়ে দিয়েছেন নম্বরের ঘরে। সেই সঙ্গে বড় বড় অক্ষরে উত্তরের উপর লিখে দিয়েছেন ননসেন্স। আর নিচে লিখেছেন, “আমার সঙ্গে দেখা করো।”

 

সোশ্যাল মিডিয়াতে এই উত্তরপত্রটি ছড়িয়ে যাওয়ার পর নেটিজেনেরা এই নিয়ে হাসাহাসি করতে শুরু করে দিয়েছেন। কেউ লিখছেন, বিয়ে সম্পর্কে প্রথম এত কিছু জানলেন। কেউ কেউ আবার শেষ বাক্যটিতে বেশ মজা পেয়েছেন। ওই শিশু যে মাথা খাটিয়ে এতকিছু লিখেছে তা দেখে বেশ অবাক হয়ে গিয়েছেন নেটিজেনরা।

যদিও কারও কারও মতে তৃতীয় শ্রেণীর একটা বাচ্চাকে এমন প্রশ্ন করাটাই ভুল হয়েছে। তারপরেও সেজে গুছিয়ে উত্তর দিতে পেরেছে তার জন্য বাচ্চাটিকে তিরস্কার নয় বরং ধন্যবাদ দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন অনেকে। ছোট্ট শিশুকে এমন প্রশ্ন করার জন্য ওই শিক্ষককেই ‘অযোগ্য’ বলে তিরস্কার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এই উত্তরপত্র সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করার নিয়েও উঠেছে আপত্তি।