পেটের দায়ে ছিলেন হোটেল ও মলের কর্মচারী, আজ ওটিটি কাঁপাচ্ছেন এই অভিনেতা

ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেই তুমুল জনপ্রিয়, মির্জাপুর, পাতাললোকের অভিনেতা আজ ওটিটি কাঁপাচ্ছেন

‘মির্জাপুর’ (Mirzapur) সিরিজের বাবর হোক বা ‘পাতাললোকে’র (Patal lok) কবীর, আবার ‘পঞ্চায়েত’ (Panchayat) এর দুলহে রাজা গণেশ, যে নামেই তাকে চিনুন না কেন ওয়েব সিরিজের দুনিয়াতে তিনি কিন্তু এখন বেশ পরিচিত মুখ। ডার্ক কমেডি থেকে সাসপেন্স থ্রিলারের কোনও চরিত্র, সবেতেই স্বচ্ছন্দ অভিনেতা আসিফ খান (Asif Khan)। প্রত্যেকটি কাজের মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দুনিয়াতে ক্রমে বড় মাপের তারকা হয়ে উঠছেন তিনি। আজ এই প্রতিবেদনে আসিফ খান সম্পর্কে কিছু অজানা কথা রইল তার ভক্তদের জন্য।

আসিফ খানের জন্ম হয়েছিল রাজস্থানের চিতোরগড় জেলার নিমবহেরা নামের একটা ছোট্ট শহরে। এই শহর সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এখানেই একটা সিমেন্টের কারখানায় কাজ করতেন তার বাবা। ছোটতে পড়াশোনার দিকে তেমন আগ্রহ ছিল না আসিফের। অভিনয় আর সঞ্চালনা বরাবর তাকে টেনেছে। পাড়ার অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা আর স্কুলের নাটকে অংশগ্রহণ করতে তিনি বেশ পছন্দ করতেন।

ছোটবেলায় তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন কমেডিয়ান রাজু শ্রীবাস্তব। টিভির পর্দায় তার পারফরম্যান্স দেখে আসিফও সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি ভবিষ্যতে চাকরি করবেন না, অভিনয় করবেন। এমন সময় আচমকাই তার বাবা মারা যান। মায়ের দেখাশোনা করতে এবং দুই ভাই-বোনকে বড় করতে তিনি বিভিন্ন কাজ করতে থাকেন। সেই সঙ্গে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখা কখনও ছাড়েননি তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে একদিন তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে মুম্বাইতে চলে আসেন।

মাত্র একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনাটা এগোতে পেরেছিলেন আসিফ। এই যোগ্যতায় মুম্বাইতে কোনও ভাল বেতনের চাকরি তার জোটেনি। তাই হোটেলে ওয়েটার কিংবা শপিংমলে কাজ করেছেন। সেইসঙ্গে অভিনয়ের জন্য নানা জায়গাতে অডিশন দিতে শুরু করেন আসিফ। মুম্বাইয়ের একটা ঘরে ৯ জন বন্ধু মিলে থেকেছেন আসিফ। তবে তার এই জার্নিতে কিন্তু মাকে তিনি সবসময় পাশে পেয়েছেন। তার মা তাকে বরাবর অভিনয়ের জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

একটা সময় পর তিনি বুঝতে পারেন অভিনয়ে নামার আগে অভিনয় শেখাটা জরুরী। তাই মুম্বাই থেকে জয়পুরে ফিরে একটা নাটকের দলের সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। টানা ছয় বছর থিয়েটারে কাজ করে তিনি অভিনয় শিখেছেন। সেই সঙ্গে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে স্নাতক স্তরের পড়াশোনার জন্য ভর্তি হন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। তবে মুম্বাইয়ের টানে দ্বিতীয় বর্ষেই তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন আবার।

অডিশন দিয়ে জীবনে প্রথম টেলিভিশনের ধারাবাহিকে ছোট্ট একটি রোল পেয়েছিলেন আসিফ। ’ক্রাইম পেট্রোল’ এ ছোট্ট চরিত্রে তাকে দেখা গিয়েছিল। এরপর ‘টয়লেট : এক প্রেম কথা’, ‘পরী’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন তবে দুটি ছবি থেকেই তার দৃশ্যগুলো বাদ দেওয়া হয়। ‘পরী’ মুক্তির সময় তিনি তার সমস্ত বন্ধুদের জোর করে ছবিটি দেখতে বলেন। তবে তিনি যাতে ভেঙে না পড়েন তার জন্য বন্ধুরাও তাকে জানাননি যে দৃশ্যগুলোতে তিনি অভিনয় করেছিলেন সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।

এরপর তার সংগ্রাম আরও বাড়ে। অনেক চেষ্টার পর তিনি অর্জুন কাপুরের সঙ্গে ‘ইন্ডিয়াজ মোস্ট ওয়ান্টেড’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। সেই সঙ্গে ‘সেক্রেড গেমস’, ‘নার্কোস মেক্সিকো’ ওয়েব সিরিজের প্রচারের ভিডিওতে তাকে দেখা যায়। এরপর ‘পাতাললোক’, ‘মির্জাপুর’, ‘জামতারা’, ‘পঞ্চায়েত’ সিরিজে তিনি অভিনয় করার সুযোগ পান। তিনি অভিনয় করেছেন ’পাগলায়েট’ ছবিতেও। ক্রমে তিনি এখন ওটিটি দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা হয়ে উঠেছেন।