তিমি মাছের বমি সোনার চেয়েও দামি, এর ব্যবহার জানলে অবাক হবেন

Ambergris Price : সমুদ্রগর্ভে রয়েছে বিপুল মণি-রত্নের সম্ভার। অতল সমুদ্রের গভীরে ডুব দিয়ে প্রবাল, মুক্তের মত দামি দামি রত্ন তুলে এনে বাজারে বিক্রি করলে দাম দাঁড়ায় কোটি টাকায়। তবে জানেন কি সামুদ্রিক প্রাণীদের বর্জ্য পদার্থও কিন্তু বাজারে প্রচুর টাকায় বিক্রি হয়? বিশেষ করে তিমি মাছের বমি (Whale Vomit) এর দাম তো কার্যত আপনার কল্পনারও বাইরে। সোনার থেকেও দামি এই বস্তুতে আসলে কী আছে জানেন?

তিমি মাছের বমিকে বলা হয় আম্বারগ্রিস। গভীর সমুদ্রে থাকে তিমি জাতীয় মাছ যারা ছোট বড় মাছের পাশাপাশি হাজার হাজার স্কুইড খেয়ে থাকে। এই খাদ্য তাদের পাকস্থলী এবং অন্ত্রের মাঝখানে গিয়ে জমা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেটা তিমি মাছের পেটে জমে থাকার পর আম্বারগ্রিসে পরিণত হয়। এটা অনেকটা সোলিক্স মোম জাতীয় পদার্থ যা তিমি হজম করতে পারে না।

WHALE VOMIT

এই পদার্থটি যখন একটু বড় আকারের হয়ে যায় তখন তিমি মাছ সেটা মুখ দিয়ে বের করে দেয়। আম্বারগ্রিস মোমের মত পিচ্ছিল হয়। এটা যখন তিমির মুখ থেকে বেরিয়ে আসে তখন এর মধ্যে কিছুটা দুর্গন্ধ থাকে। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে আসার পর ধীরে ধীরে যখন এটি বাতাসের সংস্পর্শে শক্ত হয়ে যায় তখন এর থেকে দারুণ সুগন্ধ বের হয়।

প্রধানত বাজারে সুগন্ধি তৈরিতে অ্যাম্বার গ্রিসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দামি সুগন্ধি প্রস্তুতকারক সংস্থার কাছে এর যেমন প্রচুর চাহিদা রয়েছে তেমনই ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও অ্যাম্বারগ্রিসের সন্ধানে থাকে। তিমি মাছের বমিকে বিজ্ঞানীরা তাই বলেন ভাসমান সোনা। আদতে সোনার থেকেও দামি এই আম্বারগ্রিস।

WHALE VOMIT

ভারতীয় আইন অনুসারে কিন্তু অ্যাম্বারগ্রিস সংগ্রহ করা এবং তা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর একটি অ্যাম্বারগ্রিস চোরাচালানকারী চক্রকে ধরেছে। ডিআরআই তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন উপকূলে ১৮.১ কেজি ওজনের অ্যাম্বারগ্রিজ উদ্ধার করা হয়েছে। কালোবাজারে এর দাম প্রায় ৩১.৩৭ কোটি টাকা।

WHALE VOMIT

আরও পড়ুন : প্লেনের ইঞ্জিনে মুরগি কেন ব্যবহার করা হয়? ৯৯% মানুষ উত্তর জানেন না

বিজ্ঞানীদের মতে তিমি মাছের বমির মধ্যে অ্যালকোহল থাকে। প্রথমে এর গন্ধটা অনেকটা মলের মত হয়। জলের সংস্পর্শে এটি ঠান্ডা হয়ে পাথরের মত হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই আম্বারগ্রিজ সংগ্রহ করার লোভেই কিছু মানুষ বেআইনিভাবে তিমি মাছ শিকার করেন এবং তার পেটের ভেতর থেকে এটি উদ্ধার করে পাচার করেন।

আরও পড়ুন : শুধুই নকশা নয়, বিস্কুটের গায়ে এমন অসংখ্য ছিদ্র থাকার আসল কারণ জানেন?