নিয়তি ছিনিয়ে নিয়েছে ভালবাসা, মৃত্যুকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে প্রেমিক যা করলেন দেখলে চোখে আসবে জল

প্রেমিকার মৃতদেহকে বিয়ে, নিলেন কড়া শপথ! নিয়তির বিরুদ্ধে প্রেমিকের লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ

রবিবার টলিউড অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার মৃত্যুর পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে তার এবং সব্যসাচী চৌধুরীর প্রেম সম্পর্কিত নানা ভিডিও, খবর, ছবি ঘুরপাক খাচ্ছে। এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে অসমের এক যুবক ও যুবতী একটি ভিডিও। তারাও ছিলেন প্রেমিক-প্রেমিকা। সব্যসাচীর মত ওই যুবকও সদ্যই হারিয়েছেন তার প্রেমিকাকে। এরপর তিনি প্রেমিকার অন্তেষ্টিক্রিয়াতে যে কাণ্ড ঘটালেন তা দেখে চোখ ফেটে জল আসছে নেটিজেনদের (Assam Couple Love Story)।

আসামের ওই যুবকের নাম বিটুপন তামুলী। তার প্রেমিকার নাম প্রার্থনা বোরা। দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের মধ্যে। কিন্তু গত কয়েক দিন অসুস্থতায় ভুগে মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় প্রার্থনার। সব্যসাচীর মতই তিনিও প্রেমিকার শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তার পাশে থেকেছেন। কিন্তু নিয়তি তাদের উপর দয়া করেনি এতটুকু। সব্যসাচী-ঐন্দ্রিলার মতই অপূর্ণ থেকে গেল বিটুপন-প্রার্থনার প্রেম।

তবে বিটুপন কিন্তু তাদের ভালবাসা অপূর্ণ থাকতে দেননি। প্রার্থনার স্বপ্ন ছিল বিটুপনকে বিয়ে করে তারা ঘর বাঁধবেন। তিনি বেঁচে থাকতে তার সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি। তবে তাকে চির বিদায় জানানোর আগে সেই সাধপূরণ করলেন বিটুপন। প্রার্থনাকে শেষ বিদায় জানানোর সময় তার দিকে সামনে বসে হাউ হাউ করে কাঁদছিলেন। তারপর আচমকাই দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে বিয়ের সমস্ত সরঞ্জাম নিয়ে ফিরে আসেন তিনি।

সিঁদুর-মালা নিয়ে এসে প্রার্থনার মৃতদেহের সামনে বসে তার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন বিটুপন। তারপর তার গালেও সিঁদুর লাগিয়ে দেন। এরপর প্রেমিকার গলায় মালা পরিয়ে মালা বদল করেন। প্রার্থনার হাত ছুঁয়ে নিজে একটা মালা পড়ে নেন। প্রেমিকার গালে চুমু দিয়ে তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, “আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এই জন্মে আমি আর কাউকে বিয়ে করব না।”

বিটুপনের কথা শুনে সেখানে উপস্থিত প্রার্থনার বাড়ির সকলেই কান্নাতে ভেঙে পড়েন। সব্যসাচী-ঐন্দ্রিলার মত আজ বিটুপন-প্রার্থনার এই ভালবাসার গল্পটাও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরকে ভালবাসতেন তারা। খুব শীঘ্রই বিয়েও করতেন। তবে তার আগেই মৃত্যু এসে ছিনিয়ে নিয়ে গেল প্রার্থনাকে।

এই প্রসঙ্গে প্রার্থনার ভাই সুভন বোরা সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেছেন, ‘‘প্রার্থনার মৃত্যুর পর বিটুপন জানায় যে, ও প্রার্থনাকেই বিয়ে করতে চায়। এই কথা শুনে আমরা বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়ি। কারণ ও যেটা বলেছিল, তা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি যে কেউ আমার বোনকে এত গভীরভাবে ভালবাসতে পারে। আমরা ওকে থামানোর কথাও ভাবিনি।’’