হিরো আলমের আত্মজীবনীতে নিন্দুকরা পেল যোগ্য জবাব, বইয়ের এই ১০ উক্তি ছুঁয়ে গেল মন

আত্মজীবনী লিখে নিন্দুকদের ধুয়ে দিলেন হিরো আলম, তার লেখা ১০ উক্তি পড়ে স্যালুট জানাচ্ছে হেটার্সরাও

তাকে তার আসল নাম আশরাফুল আলম নামে কেউ চেনে না। তবে যদি বলা হয় বাংলাদেশের (Bangladesh) হিরো আলম (Hero Alom) তাহলে নিমেষেই চিনে ফেলবেন সকলে। হিরো আলমকে নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত সোশ্যাল মিডিয়া। একদল তার ভক্ত, অপর দল হেটার্স। দ্বিতীয় দলের পাল্লাটাই ভারী বেশি। হিরো আলম তার কার্যকলাপের মাধ্যমে ভক্তদের বিনোদন যোগাতে গিয়ে এমন কিছু কান্ড কারখানা করে বসেন যার থেকে ট্রোলড হতে হয় তাকে।

নেট মাধ্যমে বারবার অপমানিত হন তিনি। বাংলাদেশের শিল্পী মহলেও তার বিশেষ কদর নেই। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তাকে তার চেহারা নিয়ে খোঁটা দেওয়া হয়। হিরো আলম অভিযোগ করেছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু ক্ষমতাধারী মানুষের নির্দেশে তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন না নামিদামি অভিনেতা এবং অভিনেত্রীরা। হিরো আলম তাই বাংলাদেশ বয়কট করে কলকাতায় টলিউডে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

Hero Alom is coming Kolkata as He will not shoot in Bangladesh any more

একুশে গ্রন্থমেলায় এবার প্রকাশিত হচ্ছে হিরো আলমের জীবনী ‘দৃষ্টিভঙ্গি বদলান আমরা সমাজকে বদলে দেবো।’ হিরো আলমের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার মতো অনেক বিষয় রয়েছে, যা এই বইয়ে উঠে এসেছে। এটি পুরোপুরি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ নয়, বইয়ের অনেকাংশই উদ্দীপনামূলক। পাঠকের নিকট এটি সমাদৃত হবে। এই বইটি সম্পর্কে হিরো আলম বলেন, ‘আমার বইটি কেউ কিনবে নাকি না কিনবে সেটা বড় কথা না। তবে আমি সকলকে অনুরোধ করব বইটি একবার হলেও পড়া উচিত, না কিনলেও অন্তত খুলে পড়ে দেখবেন। আমাকে নিয়ে সবাই অনেক হাসি ঠাট্টা করেন ট্রল করেন কিন্তু পর্দার ওপারে হিরো আলমকে কয়জন চেনেন?’

তিনি বলেন, ‘আমার জীবনটা কতটুকু কষ্টের মধ্যে পার হয়েছে এবং কতটুকু পরিশ্রমের মাধ্যমে আমি হিরো আলম হয়েছি সেটা শুধু আমি জানি। আমার পর্দার পেছনের ঘটনাগুলো জানলে হয়ত আপনারা আমাকে নিয়ে ট্রল করতেন না, বরং আমাকে উৎসাহ দিতেন। যাই হোক এখনো সময় আছে আপনারা যদি দৃষ্টিভঙ্গি না বদলান তাহলে আমাদের সমাজ এবং দেশ কখনোই বদলাবে না। আমি হিরো আলম হয়ত মারা যাবো কিন্তু আমার লেখা বইটি থেকে যাবে এবং একদিন না একদিন আমার এই লেখাগুলো আপনাদেরকে কাঁদাবে কথা দিলাম।’

প্রথমে বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওতে নেচে জনপ্রিয় হন‌। সেই জনপ্রিয়তা থেকে তিনি বেশ কিছু বাংলাদেশি ছবিতেও অভিনয় করেন। চেহারা তথাকথিত নায়কদের মত নয়। তবুও তাকে ভালোবেসেছেন দুই বাংলার মানুষ। তা শুধু তার কাজ দেখে নয়। তার মানসিকতা বা মনোভাব কিংবা দৃষ্টিভঙ্গি জেনে তার চরম সমালোচকরাও তাকে সম্মান করতে বাধ্য হয়েছেন। কী‌ সেই উক্তি? চলুন জেনে নেওয়া যাক হিরো আলমের মুখ নিঃসৃত ১০টি চুম্বক লাইন যা নেটিজেনদের আকর্ষণ করেছে।

১. আপনারা শিক্ষিত কাগজে কলমে, মনুষ্যত্বের শিক্ষা শিক্ষিত লোকের মাঝে তেমন একটা নাই। ২. আমি অশিক্ষিত হয়ে লাত্থি উস্টা খেয়েও বেচে আছি, আপনারা শিক্ষিতরা কেন আত্মহত্যা করেন? ৩. আমার চেহারাটা নিয়ে আর কি বলবেন? আল্লাহই তো আমারে বানাইছে। আমি তো বানাই নাই। আমি কি করবো? এই চেহারা চেঞ্জ তো করতে পারবো না৷ ৪. জীবনের সব ব্যবসা আমি টাকা দিয়ে করেছি, শুধু নির্বাচন ছাড়া। ৫. শিক্ষিতরা যে আমারে নিয়ে মজা করেন, আমার জায়গায় থাকলে তো রিসকা চালায়ে খাইতেন। আমি তো তাও চেহারা খারাপ বলে মিডিয়ায় আইছি, আপনার তো চেহারা মুটামুটি। আপনি তো তাও পারতেন না।

৬. আমি আমার ভক্তগো একবার ধন্যবাদ দিলে সমালোচকগো দুইবার ধন্যবাদ দেই। তারা আমার ভিডিও খিয়াল করে দেখে। ঘুমাতে যাওয়ার আগেও দেখে, উইঠেও দেখে। ৭. সারটিফিকেট ধারী শিক্ষিত লোক হইলো ভীতু। নিজেরা তো কিছু করবেই না, কেউ করতে দেখলেও গা জ্বলে। এরা যে কি চায় নিজেরাই জানে না। ৮.আমি পরিত্যক্ত সন্তান হয়ে চানাচুর বেচে, সিডি, ডিস লাইন, মিউজিক ভিডিও করে ১০-১৫টা মানুষের দায়িত্ব নিতে পারি, আপনি শিক্ষিত হয়ে কিছু পারেন না কেন? ৯. আমি হিরো আলম আমার ভিডিও দেখে খালি মানুষ হাসবে এই জন্যে কাজ করি। আমার মাইনসের হাসিমুখ দেখতেই ভালো লাগে। এই সব ভাইরাল, সমালোচনা এসবের জন্যে কাজ করি না। ১০. আমি সকল বিধবা মা, পরিত্যক্ত নারী ও শিশুদের জন্যে একটা সংস্থা করে যেতে চাই, যাতে, আমার মায়ের মতো কারো মার যেন মাইর খেয়ে রাস্তায় বাচ্চা নিয়ে রাত কাটানো না লাগে।