সন্ধ্যা রায় এবং অনামিকা সাহা, দুজনেই টলিউডের নামী অভিনেত্রী। সন্ধ্যার থেকে অনামিকা বেশ জুনিয়র। কিন্তু সন্ধ্যার কাছ থেকে সিনিয়রের মত ব্যবহার তিনি পাননি। উল্টে সন্ধ্যা রায় অনামিকার সঙ্গে এমন কিছু করেছিলেন যা রীতিমত অত্যাচার। তরুণ মজুমদারের ‘খেলার পুতুল’ সিনেমাতে অভিনয় করতে গিয়ে সন্ধ্যা অনামিকাকে মেরে রক্তারক্তি কাণ্ড করেছিলেন। তিনি মোটেই সহ্য করতে পারতেন না অনামিকাকে। কেন জানেন?
সম্প্রতি অনামিকা সাহা তার জীবনের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা তুলে ধরেছেন একটি সাক্ষাৎকারে। ৮ এর দশকের শুরুর দিকে তরুণ মজুমদার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়, অনুপ কুমার, তরুণ কুমার এবং অনামিকা সাহাকে নিয়ে বানিয়েছিলেন খেলার পুতুল নামের একটি সিনেমা। এই সিনেমায় অনামিকা ছিলেন সন্ধ্যার বৌদি। ননদ-বৌদির একটি কলহের দৃশ্যে সন্ধ্যা অনামিকাকে খুবই খারাপভাবে মেরেছিলেন। এতে প্রচন্ড আঘাত পান অনামিকা।
কেন অনামিকা সাহার গায়ে হাত তোলেন সন্ধ্যা রায়?
ওই সিনেমার শুটিং করতে গোটা টিম গিয়েছিল বোলপুর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অযোধ্যা নগরে। শুটিং শুরুর আগে একদিন সন্ধ্যা অনামিকাকে ডেকে পাঠিয়ে প্রশ্ন করেন, “তুমি ব্রা পরনি?” সন্ধ্যার এই প্রশ্নে বেশ অবাক হয়েছিলেন অনামিকা। আসলে তাকে তার চরিত্রের প্রয়োজনে পরিচালক তরুণ মজুমদারই সেরকম নির্দেশ দিয়েছিলেন। অনামিকা সন্ধ্যাকে সেটাই জানিয়েছিলেন। তরুণ মজুমদার আবার সন্ধ্যা রায়ের স্বামী। ব্যাপারটা মোটেই ভালোভাবে নেননি সন্ধ্যা। তিনি এর শোধ তুলেছিলেন শুটিংয়ের সময়।
আরও পড়ুন : ঠকিয়েছে স্বামী, বিবাহিত জীবন সুখের হয়নি, ৮২ বছর বয়সে নিঃসঙ্গ দিন কাটাচ্ছেন সন্ধ্যা রায়
আরও পড়ুন : একসময় শতাব্দী ছিলেন দেবশ্রীর দু চোখের বিষ, শতাব্দীকে সহ্য করতে পারতেন না দেবশ্রী
অনামিকা বলেন ওই সিনেমার একটি দৃশ্যে তাকে শুধু চড় মারার কথা ছিল সন্ধ্যার। কিন্তু সন্ধ্যা তাকে চড়ের বদলে চুল ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে বাঁশের মধ্যে মাথা ঠুকে দেন। এতে তার মাথা ফুলে গিয়েছিল। অনামিকার মনে হয়েছিল তরুণ মজুমদারের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ভালো সম্পর্ক থাকুক এটা চাইতেন না সন্ধ্যা রায়। তিনি অনামিকাকে এবং তার স্বামীকে সন্দেহ করতেন। শুধু তাই নয়, অনামিকার অভিনয় প্রতিভাকেও মনে মনে ভয় পেতেন সন্ধ্যা। তার মনে হত অনামিকা হয়তো তার জায়গা ছিনিয়ে নিতে চাইছেন।