কাদের খান, ৮০-৯০ এর দশকের এই অভিনেতা বলিউডের অন্যতম সেরা কমেডিয়ান এবং চিত্রনাট্যকার ছিলেন। প্রায় ৩০০ এর বেশি সিনেমাতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। অনেকেই হয়তো জানেন না কাদের খান ২৫০টির বেশি ছবির সংলাপ লিখেছিলেন। তার ছোটবেলাটা কেটেছে খুবই কষ্টে। আর পাঁচটা শিশুর মত একেবারেই ছিল না তার শৈশব। আজ সেই গল্পটাই শোনাবো আপনাদের। কাদের খানের ছোটবেলার এই গল্পটা কোনও ট্রাজেডি সিনেমার থেকে কম নয়।
কাদের খানের ছোটবেলাটা খুবই খারাপ কেটেছে। তিনি ছোটবেলা থেকেই বাবা ও মায়ের অশান্তি দেখে বড় হয়েছেন। অবশেষে তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর তার মা আত্মীয়দের চাপে পড়ে আবার বিয়ে করেন। এতে কাদের খানের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। তার সৎ বাবা তাকে মোটেও পছন্দ করতেন না। বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদের সামনে ফেলে রেখে আসতেন তাকে রোজ। এই মসজিদের বাইরে বসেই ভিক্ষে করতেন কাদের খান।
এরপর বাড়িতে ফিরলে ঠিকমতো খেতেও পেতেন না তিনি। সপ্তাহে কেবল তিন দিনের বেশি তাকে ভালো করে খেতেও দিতেন না সৎ বাবা। অপমানে একদিন নিজের পড়ার বই ছিঁড়ে ফেলেছিলেন অভিনেতা। কিন্তু এত কঠিন পরিস্থিতিতেও তার মা তার পাশে ছিলেন। স্বামীর বিরুদ্ধে গিয়ে ছেলের ভিক্ষা করা আটকাতে পারেননি তিনি। কিন্তু কাদের খানকে পড়াশোনাও ছাড়তে দেননি তার মা। তিনি তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। আর স্কুলে গিয়েই ভাগ্য বদলে গিয়েছিল তার।
আরও পড়ুন : সুপারস্টার নায়িকার সুপারফ্লপ স্বামী! কাকে বিয়ে করেছেন ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র ভাগ্যশ্রী?
আরও পড়ুন : ছিল না পিতৃপরিচয়, জোটেনি স্বামীর ভালোবাসা! একাধিক পুরুষসঙ্গী থাকলেও একা এই বলিউড অভিনেত্রী
ছাত্র জীবনে থিয়েটার করতে শুরু করেছিলেন কাদের খান। প্রখ্যাত কমেডিয়ান আঘা একবার তার নাটক দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিয়ে যান দিলীপ কুমারের কাছে। দিলীপ কুমারও তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে সাগিনা এবং বৈরাগ নামের দুটি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কাদের খানকে। তারপর নিজের ভাগ্য নিজের হাতেই লিখেছিলেন তিনি। নিজের দক্ষতায় বলিউডের অন্যতম সেরা কমেডিয়ান হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি।