কসমেটিকস বেচে আধপেটা খেয়ে কেটেছে দিন, ‘মুন্নাভাই’য়ের ‘সার্কিট’ আরশাদের ছোটবেলা ছিল খুবই কষ্টের

মাত্র ১৪ বছরে অনাথ, লাথিঝাঁটা খেয়ে কেটেছে ছোটবেলা, আরশাদ ওয়ারসির জীবন ছিল খুবই কষ্টের

মুন্নাভাইয়ের সার্কিট থেকে জলি এলএলবি! বলিউডের (Bollywood) সুপারস্টার অভিনেতাদের মধ্যে আরশাদ ওয়ারসি (Arshad Warsi) অন্যতম নাম। প্রধানত কমেডির আড়ালে সমাজের কাছে বিশেষ বার্তা নিয়ে যায় যে ছবিগুলি, আরশাদ ওয়ারসি সেই ছবির বার্তাবাহক। আজ তিনি বলিউডের সুপারস্টার। বছরে কোটিতে উপার্জন তার। তবে সাধারণের মুখে হাসি ফোটানোর ভার যিনি নিয়েছেন, ভাগ্য একসময় তার মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল তার বাবা-মাকেও।

১৯৬৮ সালে মুম্বাইতে জন্ম নেন আরশাদ ওয়ারসি। তিনি দেওলালির একটি স্কুলে পড়াশোনা করতেন। তার বাবা ছিলেন একজন মিউজিশিয়ান। তাই তাদের পারিবারিক অবস্থা ছিল বেশ স্বচ্ছল। তিনি যখন দশম শ্রেণীতে পড়েন তখন তার বাবা-মায়ের মৃত্যু হয়। তখন তার বয়স মাত্র ১৪ বছর। দশম শ্রেণীর পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। পরিবারের কেউ তার পাশে ছিলেন না। বাধ্য হয়ে নিজের বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে গিয়ে উঠতে হয়েছিল তাকে। তার নিজের বাড়ি ভাড়াটিয়াদের দখলে চলে যায়।

ওইটুকু বয়সেই চরম অর্থাভাবের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। তখন দুবেলা খাবার জোটানোর মতো অর্থ ছিল না তার কাছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই কসমেটিকসের ঝোলা কাঁধে তুলে নিয়ে লোকের দরজায় দরজায় ঘুরে সেলসম্যানের কাজ করতেন তিনি। তারপর কিছুদিন একটা ফটো ল্যাবে কাজ করেছিলেন। সেখানেই তার আলাপ হয় মহেশ ভাটের সঙ্গে।

মহেশ ভাটের সঙ্গে বেশ কিছু ছবিতে ফটোগ্রাফির কাজ করেছিলেন আরশাদ। শুটিং সেটে তখন পূজা ভাটও আসতেন। শোনা যায় পূজার সঙ্গে নাকি তার বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে শুধু ফটোগ্রাফি নয়, শরীরচর্চা এবং নাচের প্রতিও তার আগ্রহ ছিল। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তিনি ছিলেন জাতীয় স্তরের জিমন্যাস্ট। পাশাপাশি আকবর শামির নাচের দলেও যোগ দেন তিনি। বেশকিছু পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন। ‘অসম’ নামে নিজের একটি ডান্স স্টুডিও খুলে ফেলেন তিনি। সেই থেকে কোরিওগ্রাফার হিসেবে বলিউডে তার যাত্রা শুরু হয়।

১৯৯৩ সালে ‘রূপ কি রানি চোঁরো কা রাজা’ ছবির টাইটেল ট্রাক কোরিওগ্রাফি করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। এদিকে ১৯৯৬ সালে ‘তেরে মেরে স্বপ্নে’ ছবিতে অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার জন্য তাকে অফার দিয়েছিলেন খোদ জয়া বচ্চন। এই ছবিতে তার অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। এরপর একে একে ‘বেতাবি’, ‘মেরে দো আনমোল রতন’, ‘হিরো হিন্দুস্তানি’, ‘হোগি পেয়ার কি জিত’, ‘মুঝে মেরি বিবি সে বাঁচাও’, একের পর এক জনপ্রিয় হিন্দি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। তবে ২০০৩ সালে ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ এ সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে তার অভিনয় তাকে জনপ্রিয় করে তোলে।

বলিউডের কমেডি ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে তিনি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আবার ‘চকোলেট’, ‘কাবুল এক্সপ্রেস’ এর মতো ভিন্ন ধারার ছবিতেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। তার প্রথম সোলো ‘জলি এলএলবি’ও দারুণ হিট হয়েছে। আরশাদের জীবনের এই যাত্রাপথে আগাগোড়া তার পাশে থেকেছেন তার স্ত্রী মারিয়া গোরেতি। তিনি পরিবারের সব দায়িত্ব একা নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে কলেজের একটি অনুষ্ঠানে মারিয়ার সঙ্গে তার আলাপ হয়েছিল। আট বছর বাদে ১৯৯৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। আজ এক পুত্র এবং কন্যা সন্তানকে নিয়ে সুখে সংসার করছেন মারিয়া এবং আরশাদ।