করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কোন দেশ কতটা এগিয়ে? দেখে নিন তালিকা

ইতিমধ্যেই পুরো বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলেছে কোরোনা ভাইরাস। কোরোনা ভাইরাসের জেরে রীতিমত থমকে গেছে বিশ্ব। এই ভাইরাস মোকাবিলার একমাত্র উপায় প্রতিষেধক আবিষ্কার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অন্তত ১০০ টি গবেষক দল এই নিয়ে নিত্য বিস্তর গবেষণা করছেন। বেশ কিছু দেশে সেই কাজ বেশ অনেকটা এগিয়েছে, শুরু হয়ে গেছে পরীক্ষার পালা।

কোন দেশ আগে বিশ্বের সামনে প্রতিষেধক এনে দিতে পারবে সেই নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যার মধ্যে এগিয়ে আছে চিন এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিষেধক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে ইতিমধ্যেই  ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়ে গেছে তাদের। এবার পরীক্ষা পর্ব চলছে। পরীক্ষায় সেগুলি নিরাপদ প্রমাণিত হলেই বিশ্বকে তা দেওয়া হবে। অন্যদিকে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন আগামী বছরের প্রথম দিকেই কম খরচে বিশ্ববাসীর কাছে ভ্যাকসিন তুলে দিতে পারবেন তারা। অন্যদিকে চিনের দাবি, অক্টোবর নাগাদ ভ্যাকসিন চলে আসবে তাদের কাছে।

via GANDUL

করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কোন দেশ কতটা এগিয়ে?

কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের (সিইপিআই) একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা সারা বিশ্ব জুড়ে তৈরি হওয়া ভ্যাকসিনের ওপর একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্ব জুড়ে ২২৪ টি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে যার ৪৯ শতাংশ হচ্ছে শুধু আমেরিকাতেই। তবে মানব শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে চিন। তাদের ৫ টি ভ্যাকসিন মানব শরীরে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় এগিয়ে আছে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন

এই সংস্থার বিজ্ঞানীরা আত্মপরিবর্ধনকারী আরএনএ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষেধক তৈরির কাজ করছেন। এমনকি এই সংস্থা ভ্যাকসিন সরবরাহ করার জন্য বিশেষ কোম্পানি তৈরি করেছেন। উদ্দেশ্য একটাই, সমাজের সকল শ্রেণীর লোকেদের কাছে সেই ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া। তারা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার বদলে নিজস্ব সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ তৈরি করে তাঁরা প্রতিষেধক সরবরাহ করার কথা ভাবছেন।

Source : Yahoo Finance

ইম্পেরিয়াল কলেজ এর সাথে হংকং-এর প্রতিষ্ঠান মর্নিংসাইড ভেঞ্চার্সের উদ্যোগে তৈরি এই প্রতিষেধক তৈরির উদ্যোগের পরিচালক সিমন হেপওর্থ। তিনি জানান বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থ উপার্জন নয় বরং এই সমস্যার সমাধানের দিকেই তারা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এই ভ্যাকসিন কিভাবে কাজ করবে?

এটি আরএনএ ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন পেশীকোষে মূলত পেশিকোষে জিনগত নির্দেশ সরবরাহ করবে। সেই নির্দেশের ফলে কোষ স্পাইক প্রোটিন তৈরি করে নিতে পারে। এই স্পাইক প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধের প্রক্রিয়ায় অনুঘটকের কাজ করে। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার ফলে শরীর কোরোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজেই সুরক্ষা তৈরি করে নিতে পারবে।

কিভাবে এই ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হবে?

আগামী ১৫ জুন থেকে ভ্যাকসিনটির ওপর প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা হবে যেখানে ৩০০ জন মানুষের ওপর দুটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করা হবে। যদি এই প্রথম ধাপের পরীক্ষায় এই প্রতিষেধক সফল হয় তাহলে এই বছর অক্টোবরেই দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন আগামী বছর শুরুতেই সারা বিশ্বের কাছে এই ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে পারবেন তারা।

ভ্যাকসিন তৈরিতে কতটা এগিয়ে চিন?

ডা. ঝং নানশান এর বক্তব্য অনুযায়ী এই বছরই বাজারে পাওয়া যেতে পারে ভ্যাকসিন। তবে কোন কোম্পানির তরফ থেকে এই ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে তা অবশ্য তিনি বলেননি। তার দাবি এই বছরের শীতের মধ্যেই জরুরি ব্যবহারের জন্য ভ্যাকসিন আসতে পারে। নানশান কোরোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে চিনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার কথায় শুধুমাত্র হার্ড ইমিউনিটি নয় বরং ব্যাপকভাবে প্রতিষেধক প্রয়োগের কর্মসূচী একমাত্র কোরোনা মহামারি কে ঠেকাতে পারে।

আরও পড়ুন :- হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধ দিয়ে কি করোনা আটকানো সম্ভব?

গত রোববার  ‘ফাইটিং কোভিড-১৯: চায়না ইন অ্যাকশন’ নামে একটি সরকারি শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয় যেখানে বলা হয় চিনা গবেষকেদের তৈরি ভ্যাকসিনের অন্তত পাঁচটি মানব শরীরে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই প্রতিষেধক গুলি হলো ইনঅ্যাকটিভেটেড ভ্যাকসিন, রিকমবিন্যান্ট প্রোটিন ভ্যাকসিন, অ্যাটেনিউয়েটেড ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ভ্যাকসিন, অ্যাডেনোভাইরাল ভেক্টর ভ্যাকসিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড ভ্যাকসিন।

ভ্যাকসিন তৈরিতে কতটা এগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র?

যুক্তরাষ্ট্রের নানান সংবাদমাধ্যম-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেদের তৈরি পরীক্ষামূলক ‘এজেডডি১২২’ নামে একটি ভ্যাকসিনের উৎপাদন ব্যাপক হারে শুরু করেছে ব্রিটিশ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা। মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী গিলিয়েড সায়েন্সের কাছে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে এই সংস্থা যাতে উৎপাদন আরও ব্যাপক ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন :- করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে ৬ টি ভ্যাকসিন

বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতে এই দুই সংস্থার যুক্তিকরণ রাজনৈতিক দিক থেকে বিতর্কিত হলেও এই কোম্পানি দুটি এক হলে তাদের মার্কেট ভ্যালু হবে ২৩২ বিলিয়ন। গিলিয়েড সংস্থা ইতিমধ্যেই কোভিড-১৯ চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে কাজ করছে যাদের প্রথম ওষুধ রেমডিসিভিরের ভালো ফল দেখা গেছে রোগীদের ওপর। অন্যদিকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রধান নির্বাহী প্যাকসেল সারিওট বিবিসি রেডিওকে জানায় যে তারা এখনও ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে ফলাফল যখন পাওয়া যাবে তখন ভ্যাকসিন প্রস্তুত থাকতে হবে। তারা মনে করছেন আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে সমস্ত বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।