বারবার গলা ব্যথা, সর্দি-জ্বরে কাবু? এই অব্যর্থ ঘরোয়া টোটকাগুলো জেনে রাখুন

শীত পড়তেই গলা ব্যথা, সর্দি-জ্বরে নাজেহাল? ভরসা রাখুন এই ঘরোয়া টোটকাগুলোতে

শীতকাল আসার আগে আর শীতকাল চলে যাবার সময় একটি সিজন চেঞ্জ হয় যখন গলা ব্যথা বা সর্দি কাশি সমস্যায় ভুগতে হয় আমাদের। ভাইরাল ফিভার, খুশখুসে কাশি সবমিলিয়ে যেন একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ। গলায় ব্যথা বা অল্প সর্দি কাশি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবার প্রয়োজন হয় না সব সময়। কিছু ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করলেই আপনি ঠান্ডা লাগা থেকে মুক্তি পেতে পারেন যেকোনো সময়।

মধু : গলা ব্যথার জন্য সবথেকে কার্যকর উপকরণ হলো মধু। মধুতে থাকে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য, যা ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। রোজ যদি দু চামচ মধুর সাথে যষ্টি মধুর গুঁড়ো, হলুদ এবং আদার গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে সর্দি কাশি আপনার ধারে কাছে আসবে না।

COLD AND COUGH

হালকা গরম জল : দিনে দুবার এক কাপ হালকা গরম জলে নুন মিশিয়ে গার্গেল করলে গলার যে কোনো ব্যথা বা খুশখুসে কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। নিজেকে ব্যাকটেরিয়া মুক্ত রাখার জন্য প্রতিদিন আপনি গার্গেল করতেই পারেন। গার্গেল ছাড়াও গরম জলে নুন মিশিয়ে প্রত্যেক দিন ভেপার নিতে পারেন, এটি আপনাকে সর্দি কাশি থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে।

ঠান্ডা দুধ : এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ যদি আপনি প্রতিদিন পান করেন তাহলে গলা ব্যথা, চুলকানি এবং ফোলা ভাব কমে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। মনে রাখবেন গরম দুধ নয় বরং ঠান্ডা দুধ পান করতে হবে আপনাকে।

COLD AND COUGH

পিপারমেন্ট : পুদিনায় থাকে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিভাইরাস এবং অ্যান্টিফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য, তাই পুদিনা ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক এবং ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে, যা আপনার গলা এবং মাড়ির যেকোনো সমস্যার প্রধান কারণ। পুদিনা পাতার রস যদি প্রতিদিন অল্প করে খেতে পারেন তাহলে আপনার ঠান্ডা লাগার উপশম হবার পাশাপাশি অ্যাসিডিটি কমিয়ে ফেলতেও সাহায্য করবে।

আদা : আদার মধ্যে থাকা অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান খুব শীঘ্রই সংক্রমণ রোধ করতে সাহায্য করে তাই গরম জলে যদি কয়েক টুকরো আদা ফেলে গার্গেল করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে আপনার গলার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। সর্দি কাশিতে আদা দিয়ে চা খেলেও অনেকটা উপকার পাওয়া যায়।

COLD AND COUGH

লেবু : লেবু আমাদের শরীরে টক্সিন দূর করতে ভীষণ সাহায্য করে তাই গলায় ব্যথা হলে এক গ্লাস গরম জলে যদি লেবুর রস এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে গলা ব্যথা বা টনসিলের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন : শীতে কীভাবে চটজলদি পরিষ্কার করবেন লেপ-কম্বল? জেনে নিন সবথেকে সহজ উপায়

হলুদ : হলুদের মধ্যে থাকে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য যা গলা ব্যথা উপশমে ভীষণ সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক টুকরো হলুদ খেলে সর্দি কাশি থেকে আপনি অনেকটাই দূরে রাখতে পারবেন নিজেকে।

দারচিনি : কয়েক ফোটা দারচিনি তেলের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে যদি দিনে একবার খেতে পারেন তাহলে গলা ব্যথা থেকে খুব শীঘ্রই মুক্তি পাবেন আপনি।

আরও পড়ুন : বাড়িতে লাগান এই গাছ, ক্যানসার হোক বা টিউমার কাছে ঘেঁষবে না কেউ

GARLIC

আরও পড়ুন : খুশকি থেকে চুল পড়া, শীতের সব সমস্যা হবে দূর, করুন ছোট্ট এই কাজ

রসুন : রসুনের মধ্যে থাকা এ্যালিসিন গলা ব্যথা বা ইনফেকশন কমিয়ে দিতে ভীষণ সাহায্য করে। আপনি রান্না করে বা কাঁচা দু ভাবেই রসুন খেতে পারেন। প্রতিদিন এক কোয়া রসুন খেলে আপনার শরীরের সমস্ত টক্সিন বেরিয়ে যাবে শরীর থেকে।

লবঙ্গ : শুকনো কাশির ক্ষেত্রে লবঙ্গ ভীষণ উপকারী। লবঙ্গ মুখে রেখে যদি কিছুক্ষণ পর সেটি খেয়ে নিতে পারেন তাহলে খুব দ্রুত গলার ব্যথা কমে যাবে। যদি গিলতে অসুবিধা হয় তাহলে কিছুক্ষণ মুখে রেখে লবঙ্গের রস খেয়ে নিয়ে লবঙ্গটি ফেলে দিতে পারেন।

আরও পড়ুন : কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সর্দিকাশি, নিমেষে মিলবে মুক্তি! রোজ খান এই একটি জিনিস

প্রসঙ্গত, সবসময় মনে রাখবেন যদি অল্পতেই ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ধাত থাকে, আপনার তাহলে সকালের দিকে বা রাতের দিকে বাইরে বের হলে গলায় অবশ্যই স্কার্ফ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। স্নান করার সময় ব্যবহার করুন উষ্ণ গরম জল।