রাম কেন সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে বলেছিলেন? জেনে নিন আসল কারণ

আমাদের প্রাচীন দুই মহাকাব্যের মধ্যে রামায়ণ ও মহাভারত হচ্ছে অন্যতম। রামায়ণ ৭টি কাণ্ড ও ৫০০টি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং চব্বিশ হাজার শ্লোকের সমষ্টি। এই কাব্যের মূল বিষয় হল ভগবান বিষ্ণুর অবতার রাম ও সীতার জীবনকাহিনী।

রামায়ণ একজন আদর্শ রাজা, আদর্শ পুত্র, আদর্শ কন্যা, আদর্শ ভাই-কে নিয়ে লেখা। এই সমস্ত আদর্শ সম্পর্কের মধ্যে আদর্শ স্ত্রী সীতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীতার ভূমিকা তখনই আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন তিনি তাঁর পবিত্রতার প্রমাণ দেওয়ার জন্য আগুনের মধ্য দিয়ে হেঁটেছিলেন। এই বিখ্যাত পর্বটিই ‘অগ্নিপরীক্ষা’ নামে পরিচিত।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, সীতা পৃথিবীর সবচেয়ে ধার্মিক মহিলা, এর পরও কেন ভগবান রাম সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে বলেছিলেন? সীতার অগ্নিপরীক্ষা নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই।

সীতা ছিলেন দেবী লক্ষ্মীর অবতার। বিশ্বাস করা হয় যে, সীতা লক্ষ্মী দেবীর অবতার হওয়ার কারণে তিনি আগে থেকেই তার অপহরণ বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। এমনকি তিনি এও জানতেন যে তার অপহরণের সময় তার স্বামী ও দেওর কেউই তাকে রক্ষা করতে পারবেন না।

আরও পড়ুন :- যে ১০টি কারণে দ্রৌপদী সকল নারীর অনুসরণযোগ্য

এই কারণে তিনি অগ্নিদেবের কাছে পূর্বেই প্রার্থনা করেছিলেন, অগ্নিদেব যেন অগ্নিদেবের শিখার মধ্যে সীতাকে আশ্রয় দেন। সীতার ভক্তিতে অগ্নিদেব সীতাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন আর তিনি নিজেই একটি মায়া সীতা তৈরি করেছিলেন।

আর, এই মায়া সীতাকেই রাবণ জোরপূর্বক হরণ করেছিলেন। যাঁকে লঙ্কায় অশোক ভাটিকায় রাখা হয়েছিল, তিনি আসল সীতা নন, মায়া সীতা ছিলেন।

আরও পড়ুন :- রাবণের ১০ টি মাথা কেন? রাবণের ১০ মাথা কিসের প্রতীক?

এই মায়া সীতাকে লঙ্কারাজ হরণ করেন। ভগবান রাম ও সীতা সম্পর্কিত এই গোপন তথ্যটি জানতেন, কিন্তু তিনি মানুষকে একটি ধর্ম শিক্ষা দেওয়ার জন্যই লঙ্কেশ্বর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অগ্রসর হন। এরপর মায়া সীতাকে তিনি উদ্ধার করেন।

সকল যুদ্ধ শেষে যখন প্রজাদের মনের সীতার সতীত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন আসে তখন ভগবান রাম সীতাকে অগ্নি পরীক্ষা দিতে বলেন। রাম জানতেন যে মায়া সীতার অগ্নি কোনরূপ ক্ষতি হবে না। আর অগ্নি মায়া সীতাকে ফেরত নিয়ে আসল সীতাকে রামের হাতে সমর্পণ করেন।