দুজনেই বিংশ শতকের শেষ দুই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা। কিন্তু একে অপরের সাথে কোনোদিনই স্ক্রিন ভাগাভাগি করেননি তারা। এরা দুজন হলেন সঞ্জয় দত্ত (Sanjay Dutt) এবং নানা পাটেকর (Nana Patekar)। মূলত নানা পটেকরই কোনোদিন কাজ করতে চাননি সঞ্জয় দত্তের সাথে।

স্ক্রিনে অসামান্য অভিনেতা তো বটেই, তার সাথে সাথে নানা পাটেকর ছিলেন মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ। কোনো প্রচার করতে পছন্দ করতেন না তিনি। নিঃশব্দেই বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন সমস্যায় পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কৃষকদের দিকেও।

নিজে কারোর জন্য কি করছেন তা নিয়ে কখনও প্রচার করতে পছন্দ করতেন না তিনি, তুলতেন না বেশী ছবিও। অভিনেতা হিসেবেও নিজের কাজের প্রশংসা নিজে করতেন না। এহেন একজন মানুষ কেন সঞ্জয় দত্তের সাথে স্ক্রিন ভাগ করতে চাইতেন না? কেন মুন্না ভাইকে এড়িয়ে চলতেন তিনি?

১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিষ্ফোরণ যাতে নাম জড়িয়েছিল সঞ্জয় দত্তের। এই বিস্ফোরণে ওই স্থলেই প্রাণ হারান নানার এক ভাই। ওই স্থানেই ছিলেন নানার স্ত্রী। তিনিও ওই ঘটনায় নিহত হতে পারতেন কিন্তু ভাগ্যের দয়ায় একটুর জন্য তিনি বেঁচে যান।

এই ঘটনায় মারাত্বক আঘাত পান নানা পাটেকর। শুধু ব্যাক্তিগত দিক থেকেই নয়, সেই পরিস্থিতিকে খুব কাছ থেকে দেখার ফলে সেই ভয়াবহ ঘটনা তাকে ভীষণভাবে স্পর্শ করে।

তবে শুধু মুম্বাই বিষ্ফোরণ কান্ডেই নয়, এর পরই বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে টাডা(TADA) আইনের আওতায় গ্রেফতার হন সঞ্জয় দত্ত। একজন অভিনেতার টাডা আইনে গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি মানতে পারেননি নানা নানা পাটেকর।

তিনি কখনোই বলেননি যে সঞ্জয় দত্ত বিষ্ফোরণ কাণ্ডে জড়িয়ে ছিলেন, কিন্তু তিন দশক ধরে তাকে এড়িয়েও গিয়েছেন নানা। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে ভবিষ্যতেও সঞ্জয় দত্তের সাথে কাজ করার ইচ্ছে নেই তার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ‘দশ কহানিয়াঁ’ ছবিতে দুজনে একসাথে কাজ করলেও আলাদা গল্পে কাজ করেছিলেন। কখনোই একসাথে এক দৃশ্যে দেখা যায়নি দুজনকে।